এলএনজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে  

    নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০১৯ বৃহস্পতিবার ০৯:০৯ এএম BdST     ক্যাটাগরি: অন্যান্য দেশ

চাহিদা সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার জের ধরে ২০১৫ সাল থেকে দরপতনের পর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে

বৈশ্বিক জ্বালানি তেল খাতে এ ধাক্কার তিন বছরের মাথায় অনেকটা একই পরিস্থিতিতে পড়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারও।

২০১৮ সালের শেষ দিকে এসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দরপতন শুরু হয়। শীত মৌসুমে চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকার পরও চলতি বছরেও জ্বালানি পণ্যটির দরপতনের লাগাম টানা সম্ভব হয়নি। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে এলএনজির দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে এলএনজির বৈশ্বিক সরবরাহ কমিয়ে আনা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে চলতি গ্রীষ্মে দেশে দেশে তাপমাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে গেলে এলএনজির চাহিদা বেড়ে দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা।

বিশ্বব্যাপী এলএনজি বেচাকেনার অন্যতম প্রধান দুটি কেন্দ্র বা হাব এশিয়া ও ইউরোপ। এশিয়ার বাজারে টানা ১৩ সপ্তাহ ধরে জ্বালানি পণ্যটির দাম ক্রমাগত কমছে।

এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে মে মাসে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (২৭ দশমিক শূন্য ৯৬ ঘনমিটার) এলএনজির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ ডলার ৬৫ সেন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮০ সেন্ট কম। এর মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের মে মাসের পর এশিয়ার বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। অন্যদিকে এ সময় উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের বাজারে মে মাসে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজি বিক্রি হয়েছে ৪ ডলার ৯৮ সেন্টে।

এলএনজির দরপতনের পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। প্রথমত, এবারের মৌসুমে এশিয়ার দেশগুলোয় শীত তুলনামূলক কম পড়েছিল। এ কারণে জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ শীর্ষ ভোক্তা দেশগুলোয় এলএনজির চাহিদা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বাড়েনি।

চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় এসব দেশ এলএনজি আমদানিও বাড়ায়নি। ফলে জ্বালানি পণ্যটির দাম কমেছে। দ্বিতীয়ত, চাহিদা শ্লথ হয়ে এলেও বিশ্বব্যাপী এলএনজির সরবরাহ বাড়তির দিকে ছিল। বিশেষত কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া—এ তিন দেশের শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারকের অবস্থান দখলের প্রতিযোগিতা জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে গত বছর এলএনজি রফতানিকারকদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে মিসরের মতো দেশও। একদিকে চাহিদা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে না বাড়া, অন্যদিকে সরবরাহে চাঙ্গাভাব—এলএলজির দাম কমিয়ে ৫ ডলারের নিচে নামিয়ে এনেছে।

সূত্র: অয়েলপ্রাইসডটকম

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯