সামিটের এলএনজি টার্মিনাল চালু হচ্ছে মার্চে  

    স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: জানুয়ারি ০৯, ২০১৯ বুধবার ০৭:১২ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: গ্যাস
ফাইল ফটো

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল বাণিজ্যিকভাবে আগামী মার্চে চালু হচ্ছে।

দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও সঞ্চালন পাইপলাইনের অভাবে এই টার্মিনাল থেকে প্রথম দফায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা।

দেশে গ্যাসের বর্ধিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এ টার্মিনাল নির্মাণ করছে সামিট গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানী (প্রাইভেট) লিমিটেড।

প্রথম এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার ৬ মাস পর সামিটের টার্মিনালটি চালু হতে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এন এম তারীকুর রশীদ এনার্জিনিউজবিডি ডটকমকে বলেন, “অফসোর তথা সাগরে কাজ সবসময় বুঁকিপূর্ণ, সম্পূর্ণরূপে শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যায় না, তদুপরি আশা করছি আগামী মার্চে বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।”

২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল এই টার্মিনাল নির্মাণ এবং এর ব্যবহারে সামিট গ্রুপের সাথে পৃথকভাবে দুটি চুক্তিতে সই করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা ।

চুক্তির আওতায় সামিট- সমুদ্রের তলদেশে নয় কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইনসহ দেশের দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এর নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালনা ও হস্তান্তর করবে। টার্মিনালটি ১৫ বছর ধরে পরিচালনার পর পেট্রোবাংলার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে সামিট।

প্রকল্পে আমদানিকৃত এলএনজি ভাসমান সংরক্ষণাগারে সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে তা পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) কাছে সরবরাহ করবে সামিট।

এজন্য পেট্রোবাংলাকে প্রতি মিলিয়ন বিটিইউ গ্যাসের বিনিময়ে ৪৫ সেন্ট (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩৭ টাকার মতো) সামিটকে পরিশোধ করতে হবে। আর ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে জিটিসিএল।

টার্মিনালে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন(এমপিটিএ)। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার। নির্মাণাধীন এই টার্মিনালের ২৫ শতাংশ মালিকানা ইতোমধ্যে কিনে নিয়েছে জাপানভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিত্সুবিশি করপোরেশন।

২০১৭ সালের শেষদিকে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর আগে টার্মিনালটি নির্মাণের জন্য মেরিন ঠিকাদারি কনসর্টিয়াম প্রতিষ্ঠান জিওসান এসএএস এবং ম্যাকগ্রেগরের সাথে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের টার্নকি চুক্তি সই করে সামিট।

ওই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি কক্সবাজারের মহেশখালিতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের ভাসমান এলএনজি স্টোরেজ  এবং পুনরায় গ্যাসে রুপান্তরকরণ টার্মিনালের ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট, ফেব্রিকেশন, ইনস্টলেশন এবং স্থায়ী অবকাঠামোর টেস্টিং এর কাজ করছে।

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯