নেট মিটারিং নীতিমালা আগামী ৩ বছরের মধ্যে রূফটপ সোলারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে  

    এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮ বৃহস্পতিবার ০৯:৩৭ এএম BdST     ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে নেট মিটারিং নীতিমালা। এই নীতিমালা এখনো গ্রাহক ও বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানীগুলোর কাছে ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি।

আবার প্রায় দুই দশক ধরে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমনভাবে সফলতা মেলেনি।

প্রায় ১০ বছর ধরে নবায়নযোগ্য খাত নিয়ে অনেক গবেষণা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত রয়েছেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্স এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য খাতের বর্তমান চিত্র নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এনার্জিনিউজবিডি ডটকম এর সম্পাদক আমিনূর রহমানকে বিস্তারিতভাবে বলেছেন তিনি। 

 

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে নেট মিটারিং নীতিমালা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই নীতিমালা প্রণয়নে আপনার অনেক অবদান রয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলুন।

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: মূলত বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে ফিড-ইন-ট্যারিফ নিয়ে একদিন আলোচনা হচ্ছিল। ফিড-ইন-ট্যারিফ হলো বেসরকারি খাতের একজন উদ্যোক্তা সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সেই বিদ্যুৎ সরকারের বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানীগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করার জন্য উচ্চদামে কিনে নেবে। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের যে উৎপাদন খরচ তা গ্রিডের শিল্প ক্যাটাগরি বিদ্যুতের চেয়ে কম। তখন আমি নেট মিটারিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রসঙ্গটা উপস্থাপন করি। কারণ ফিড-ইন-ট্যারিফে বিদ্যুতের ট্যারিফ সাধারণত বেশি হয়, যা বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানীগুলোর কাছে আকর্ষণীয় নয়। নেট মিটারিং কসসেপ্টটা হলো সৌর শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর গ্রাহক আগে তা ব্যবহার করবে তারপর যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকে তবে তা গ্রিডে চলে যাবে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন অথবা শিল্প কারখানা যখন বন্ধ থাকে তখন নেট মিটারিং খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। নেট মিটারিং এর ট্যারিফ গ্রাহক যে ট্যারিফ এ গ্রিডের বিদ্যুৎ কেনে তার সমান হয় এবং ব্যবহারের অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে রপ্তানী করে, যা পরবর্তীতে গ্রিড থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের সাথে সমন্বয় হয়। এজন্য ফিড-ইন-ট্যারিফের চেয়ে নেট মিটারিং বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানীগুলোর কাছে বেশি কার্যকর এবং আকর্ষণীয়। তাই গ্রাহকের কাছেও এটা আকর্ষণীয় । 

শিল্প কারখানা বা বাড়ির ছাদে ছোট আকারের সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এমনভাবে চলে যখন সূর্য থাকে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। আপনি যদি ওই বিদ্যুৎ ব্যবহার না করতে পারেন তবে অপচয় হবে। নেট মিটারিং এর ব্যবস্থা থাকলে বিদ্যুৎ আর অপচয় হবে না। যেমন-ধরেন একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান তার ছাদে সৌর শক্তি থেকে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তবে তার বিদ্যুতের মোট চাহিদা ২ মেগাওয়াট তখন সে বাকি ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে নেবে। নেট মিটার ওই ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির রিডিং নেবে। আবার যদি তার চাহিদা ১ মেগাওয়াট থাকে তখন তার আর গ্রিডের বিদ্যুৎ দরকার হবে না।  কিন্তু যদি তার চাহিদা থাকে ১ মেগাওয়াট, উৎপাদন হয় ২ মেগাওয়াট, তবে তার উৎপাদিত বিদ্যুৎ হতে সে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে আর বাকি ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সে গ্রিডে রপ্তানি করবে।

যদি বন্ধের দিন অথবা অন্য কোনো কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের কখনো অর্ধেক মেগাওয়াট বা ৫০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ দরকার হয় তখন বাকি ৫০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ নেট মিটারিং এর মাধ্যমে গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। তখন নেট মিটার ওই ৫০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানীর রিডিং নেবে। এক্ষেত্রে গ্রাহক যে বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে নিচ্ছে তাকে বলছি ইমপোর্ট আর গ্রাহকের কাছ থেকে গ্রিডে যে বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে তাকে বলছি এক্সপোর্ট। গ্রাহকের বিদ্যুৎ ইমপোর্ট এবং এক্সপোর্টের এই ব্যবস্থাকে নাম দিয়েছি প্রজুমার। প্রজুমার হলো- গ্রাহক একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী আবার তার ব্যবহারকারীও । মাস শেষে বিদ্যুৎ এক্সপোর্ট এবং ইমপোর্টের হিসাব অনুযায়ী গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল দেবে।

বর্তমানে রূফটপ বা ছাদে সৌর শক্তি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৭ টাকার কম। আর গ্রিড থেকে শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ নিলে ভ্যাটসহ খরচ গড়ে ৯ টাকার মতো। তার মানে প্রতি ইউনিটে নেট মিটারিং গ্রাহক ২ টাকার মতো বেনিফিট পাচ্ছে। এটা একটি লুক্রেটিভ ব্যবসা হবে। সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে যে খরচ হবে এই বেনিফিটের হিসাবে তা কয়েক বছরের মধ্যে উঠে আসবে। উপরুন্ত, আপনি কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য সাধুবাদ পাবেন। এই নেট মিটারিং নীতিমালা তৈরির সময় প্রায় ৪০টি দেশের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এটি উপযোগী করা হয়েছে। যে কারণে এটি অনেক আধুনিক ও কার্যকর একটা নীতিমালা হয়েছে।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নেট মিটারিং নীতিমালাকে গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে কী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: প্রথমেই বলবো এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সোলার টেকনোলজির দাম ধীরে ধীরে কমছে। ভবিষ্যতে কনভেশনাল এনার্জির দাম সারা বিশ্বে বাড়বে সেজন্য গ্রিড ইলেকট্রিসিটির দামও বাড়বে। সোলার সিস্টেম ইন্সটল করলে এর পে-ব্যাক পিরিয়ড (বর্তমানে) সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর হয়। তবে রূফটপের সাইজ এবং কী ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করছেন তার উপর পে-ব্যাক নির্ভর করে। উদ্যোক্তাদের কাছে যদি এই নলেজটা পৌঁছানো যায় তাহলে তারা নিজেদের স্বার্থে নেট মিটারিং সিস্টেম ইন্সটল করবে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় অথবা টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(স্রেডা)এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে টিভি, রেডিও অথবা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতে পারে। মূলত ইন্ডাস্ট্রিকে টার্গেট করে নেট মিটারিং নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও অভিজ্ঞতার ব্যাপার আছে। অনেক কোম্পানীর কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনো কনফিউশন আছে। কিভাবে কাজ করবে? আসলে বিদ্যুতের বর্তমান ডিজিটাল মিটারে নেট মিটারিং অপশন আছে ওটাকে ডিজএবল করা থাকে কিংবা ওটা প্রোগ্রাম করা থাকে না অথবা রি-প্রোগ্রামিং করতে হয়। নেট মিটারিং বিদ্যুতের এক্সপোর্ট এবং ইমপোর্টের পরিমাণটা দেখাবে। মাস শেষে সহজেই এ হিসাব বের করা যায়। এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বর্তমান বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হাত দেওয়ার কোনো দরকার হবে না। ইতোমধ্যে নেট মিটারিং এর আওতায় হবিগঞ্জে ফারইস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজে ১.১ মেগাওয়াট ও গাজীপুরে প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেডে ৭২৩ কিলোওয়াট রূফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করেছে। তাদের প্রতি ওয়াটে খরচ পড়েছে ৭৮ টাকা করে (প্রকল্প ব্যয়)। আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ এই খরচ ৬৫ টাকাতে নেমে আসবে। বাংলাদেশে বৃহৎ আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ছাদে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। নেট মিটারিং এর আওতায় রূফটপ সোলার আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: দেশে সোলার হোম সিস্টেম অনেক জনপ্রিয় হলেও এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে কেন?

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখের মতো সোলার হোম সিস্টেম ইন্সটল করা হয়েছে। আগে অনেক জায়গায় গ্রিডের বিদ্যুৎ ছিলো না, এখন প্রায় সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নটা এখন ঈর্ষনীয়। এজন্য সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন কমতে শুরু করেছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড(ইডকল)এর অধীনে সোলার হোম সিস্টেম বসানো প্রায় শূন্যতে নেমে এসেছে। আবার অফ গ্রিড এলাকায় সোলার মিনি গ্রিড স্থাপন করা হচ্ছে। সোলার হোম সিস্টেমে গ্রাহক চার থেকে পাঁচ ঘন্টা বিদ্যুৎ পায়, কিন্তু মিনি গ্রিডে বিদ্যুৎ পায় ২৪ ঘন্টা। যদিও বিদ্যুতের দামটা একটু বেশি। কারণ ব্যাটারি ব্যাক আপ থাকে। এখন পর্যন্ত ১৭টা মিনি গ্রিড বসানো হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার পরিবার গ্রিডের মতো বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: গ্রিড কানেকটেড বৃহৎ আকারে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র অথবা সোলার পার্ক নির্মাণে এতো দেরী হচ্ছে কেন?

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র অথবা সোলার পার্ক নির্মাণে অনেক জমি লাগে। বাংলাদেশে জমির দুষ্প্রাপ্যতা সবচেয়ে বেশি। জমি ম্যানেজ করাটা খুবই কষ্টকর। আপনি যদি ১০০ মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে চান তবে ৩৫০ একর এর মতো জমি লাগবে।  বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে প্রায় ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, এর মধ্যে দুই-একটি প্রকল্প ছাড়া সব বৃহৎ প্রকল্পই চালু হবে তবে আরো কয়েক বছর সময় লাগবে। ইতোমধ্যে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে ৩ মেগাওয়াট এবং কক্সবাজারে ২০ মেগাওয়াটের গ্রিড কানেকটেড দুইটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসপেক্টসটা খুবই ভালো। ইতোমধ্যে কাপ্তাই লেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)২৫ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে প্রচুর জায়গা আছে। ৪৭০  বর্গকিলোমিটারের বেশি ওয়াটারবডি বা জলাভূমি আছে। ১০০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১.৫ বর্গকিলোমিটার জায়গা হলে যথেষ্ট। তাহলে এখান থেকে ১০ শতাংশ জায়গা মানে ৪৭ বর্গকিলোমিটার জায়গাও যদি পাওয়া যায় তবে ৩,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা সম্ভব। সিলেট অঞ্চলে হাওড় এলাকায় প্রচুর ওয়াটার বডি আছে ওইসব জায়গাতে ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানো যায়। এর পাশাপাশি মাছের ঘেরের উপরে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে রূরাল পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড (আরপিসিএল) ১২৫ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর মাছের ঘের আছে এ জায়গাগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র করলে মাছের উৎপাদনে কি প্রভাব পড়বে তার একটা ইকোনমিক সমাধানে আসতে পারলেই এসব জায়গায়ও ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র অথবা মাছের ঘেরের উপর পোল বসিয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা সম্ভব।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাংলাদেশে সৌর শক্তি বাদে অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসপেক্টস কেমন?

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: সৌর বিদ্যুতের রক্ষাণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে কম। প্যানেল ওয়াশ করা ছাড়া তেমন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেই। কিন্তু ওয়েস্ট টু এনার্জি কিংবা বায়োমাস টু এনার্জিতে প্রচুর রক্ষণাবেক্ষনের প্রয়োজন পড়ে। এগুলোর সাকসেসফুল স্টোরি উন্নত দেশে ছাড়া নেই। পাইলট বেসিসে অনেক দেশে হচ্ছে। কিন্তু ওভাবে টেকসই হয়নি। টেকনোলজি এখন যে পর্যায়ে আছে বৃহৎ আকারে ফিজিবল হবে বলে এ মূহুর্তে আমার মনে হয় না। কিন্তু বায়ু বিদ্যুতে বাংলাদেশে প্রসপেক্ট ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি ল্যাবরেটরি (এনআরএল) বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় স্টাডি করছে, তাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।

আর অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে আছে জলবিদ্যুৎ। কাপ্তাইতে কনভেনশনাল যে ২৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে বড় জোর সেখানে আরো ১০০ মেগাওয়াটের মতো উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। আসলে বাংলাদেশে জলবিদ্যুতে সম্ভাবনাময় জায়গা অন্য কোথাও নেই।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কী করার দরকার?

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: আমাদের দেশে ঋণের‍ সুদের হারটা অনেক বেশি। ইতোমধ্যে সরকার কিছু সুবিধা দিয়েছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করার জন্য ইডকলের আওতায় ছয় থেকে সাত শতাংশ সুদে ঋণ ‍দিচ্ছে। বৃহৎ আকারে সৌর কেন্দ্র নির্মাণে সুদের হারটা আরেকটু কমিয়ে আনতে পারলে এক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হবে। আর বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা যদি বলি, তবে জমির স্বল্পতা আছে, কেউ কৃষি জমি দিতে চায় না। তাই কৃষি জমির মাল্টিপারপাজ ব্যবহার করা যায় এমনভাবে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। অনেক ফসল আছে যা কম আলোতে হয়। যদি এরকম করে দেওয়া যায় উপরে সোলার প্যানেল আর নিচে ফসল হচ্ছে। মাছ চাষ করা যায় এ রকম অপশনও তৈরি করা যায়। ভারতে জমির সংস্থান ও ট্রান্সমিশন লাইন সরকার করে দেয়। এখানে এটাই বেসরকারিখাতের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা, কাজেই এক্ষেত্রে সাফল্য চাইলে সরকারকে উদ্যোগী হয়ে সহায়ক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে প্রসারিত করার জন্য বাধাগুলো কী কী?

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে বিশেষ খাত হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং এ খাতের সমস্ত ইকুপমেন্ট আমদানির উপর সকল ট্যাক্স বা ইমপোর্ট ডিউটি তুলে দিতে হবে।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কী ভূমিকা রাখতে পারে?

শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী: সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ইন্সটল কস্ট বাদে রানিং কস্ট তেমন নেই। ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কারণ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মূল জ্বালানি সূর্যের আলো, বায়ু কিংবা জল। আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি যদি পরিবর্তন হয়ে তেল, গ্যাস, এলএনজির দাম বাড়তে থাকে অথবা স্বল্পতা দেখা দেয় তখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হবে মূল চালিকা শক্তি। আবার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে গ্রিণ হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয় না।

২০১৭ সালে সারা বিশ্বে যত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইন্সটল হইছে তার মধ্যে তেল, গ্যাস ও নিউক্লিয়ার থেকে ৩০ শতাংশ আর বাকি ৭০ শতাংশ হইছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। ভবিষ্যতে ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অনেক কমে আসবে। সেখানে নবায়নযোগ্য অথবা নিউক্লিয়ার থাকবে।

আবার সোলার টেকলোজির দাম কমে আসছে সেহেতু ভবিষ্যতে এগুলো আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। ফিউচার এনার্জি সিনারিওতে রিনিউএবল এনার্জি হবে মূল জ্বালানি।

 

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯