‘এলএনজিবাহী জাহাজ চলাচলে সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চায় পেট্রোবাংলা’  

    News Desk, energynewsbd.com
    প্রকাশিত: জুন ০৯, ২০১৮ শনিবার ০৫:২২ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: অন্যান্য

আমদানিকৃত এলএনজি বহনকারী জাহাজ ও ভাসমান টার্মিনালের নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজারের কলাতলীর পশ্চিমে গভীর সমুদ্র থেকে মহেশখালী দ্বীপ পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা।

তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এর একজন কর্মকর্তা জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মহেশখালী দ্বীপ থেকে সাড়ে তিন-চার কিলোমিটার দূর সমুদ্রে অবস্থান করছে। এজন্য সমুদ্রের ওই এলাকায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সেখান থেকে ২ দশমিক ২৯ কিলোমিটার উত্তরে সামিট গ্রুপ আরেকটি এলএনজি টার্মিনালটি নির্মাণ করছে।

মূলত পেট্রোবাংলার এলএনজিবাহী জাহাজটি কলাতলী সৈকত থেকে ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নোঙর করে রাখা হবে।

এলএনজি টার্মিনাল তদারকির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার অধীনস্থ রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

আরপিজিসিএল এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবস্থাপক বলেন, এলএনজি প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য জাহাজ নোঙর করার অবস্থান থেকে পেট্রোবাংলা ও সামিটের ভাসমান টার্মিনাল পর্যন্ত মোট ২০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে অর্থাৎ কলাতলী থেকে মহেশখালী দ্বীপ পর্যন্ত মৎস্য শিকার না করার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এটা সব সময়ের জন্য নয়, কেবল জাহাজ চলাচলের সময় বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এলএনজিবাহী জাহাজ চলাচলের সময় সাগরে জাল থাকলে জাহাজ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজ, সার্ভিস ভেসেল ও ভাসমান টার্মিনালের নিরাপত্তা বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

এজন্য মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিতে সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা।

দেশে ইলিশের পাঁচটি অভয়ারণ্যের একটি কক্সবাজারের মহেশখালী। তবে উপকূলজুড়ে মৎস্য শিকার বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ পেশার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার মানুষ। যদিও পেট্রোবাংলা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মৎস্য শিকার বন্ধ রাখতে চায়।

বর্তমানে দেশে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। আর সংকট ক্রমেই বাড়ছে। তাই ঘাটতি দূর করতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০২০