‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব’  

    স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: জুন ০৭, ২০১৮ বৃহস্পতিবার ০৮:৪৬ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: বিজনেস

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে; যা মোট বাজেটের প্রায় ৬ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ বরাদ্দ প্রস্তাব করেন। তিনি মোট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন সংসদে।

প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগে ২২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা এবং  জ্বালানি বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।

২০০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। যা সংশোধনীতে গিয়ে দাঁড়ায় ২৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এবার বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র ৬৬০ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগে ৪৩ কোটি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে ১৬৫ কোটি টাকা পরিচালন এবং বাকিটা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার খাত। গত নয় বছরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে ১১৮টিতে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বর্তমানে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে ১৫ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের এসব প্রকল্প প্রস্তাবিত বাজেটে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৯২ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে এবং ৯০ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ পাচ্ছে।

বক্তৃতায়  তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশার কথা জানান।

তিনি আরো বলেন, এ লক্ষ্যে ১৫ হাজার ২০৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, ৪ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে এবং ২২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের বরাদ্দের মধ্যে সিংহভাগ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য। বাজেট বক্তৃতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পরিবেশবান্ধব (প্রকৃতপক্ষে দূষণ হ্রাস) করার লক্ষ্যে বনায়নসহ ঠান্ডা পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণীয় বর্জ্য নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে বর্তমানে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। এছাড়া নেপাল, মায়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি এবং ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট উত্তরণে মহেশখালী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণ এবং পটুয়াখালিতে আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মানের পরিকল্পনার রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের এসব বৃহৎ প্রকল্পের ব্যয়ের বিপরীতে এই বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

 

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯