বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানী লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত  

    নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: মে ২৩, ২০১৮ বুধবার ১১:৫৯ এএম BdST     ক্যাটাগরি: অন্যান্য দেশ

রাশিয়ায় তৈরী বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-একাডেমিক লামানোসভ-এ জ্বালানী লোডিংয়ের জন্য সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে গত ১৯ মে মুরমানস্কে আনা হয়েছে।

জ্বালানী লোড করার পর বিদ্যুৎ গ্রীডে সংযুক্ত করার জন্য ভাসমান এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের চুকুতকা অঞ্চলের পিভেক শহরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রতিটি ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি কেএলটি-৪০সি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। ভাসমান কেন্দ্রটি লম্বায় ১৪৪ মিটার এবং প্রস্থে ৩০ মিটার।

পিভেক অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজার লোককে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পুরনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর ফলে আর্কটিক অঞ্চলে হাজার হাজার টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন রোধ করা সম্ভব হবে।

মুরমানস্কে আগমন উপলক্ষ্যে এটমফ্লোটের (রুশ পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রোসাটমের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) জেটিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ, চুকুতকা অঞ্চলের গভর্নর রোমান কপিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আলেক্সি লিখাচোভ ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে রুশ বিজ্ঞানীদের একটি অনন্য প্রকৌশল অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন যে, ‘এটি মাঝারি ক্ষমতাসম্পন্ন মোবাইল বিদ্যুৎ ইউনিটের একটি রেফারেন্স, যার চাহিদা আগামী বছরগুলোতে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন দ্বীপ যেখানে নানাবিধ কারণে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো নির্মাণ করা কঠিন, সেই সকল স্থানে এই জাতীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতি আগ্রহ রয়েছে।’

বিভিন্ন পরিবেশবাদী এবং গ্রীণ গ্রুপ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কেননা এর ফলে কয়লার ওপর আর্কটিক অঞ্চলের নির্ভরতা কমবে এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও বিষাক্ত বস্তু নিঃসরণজনিত পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাবে ওই অঞ্চলের অত্যন্ত ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম।

ব্রাইট নিউ ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক বেন হার্ড তার মন্তব্যে বলেন, ‘সারা বিশ্বে দুরবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য নন-কার্বন এনার্জি। ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই চাহিদা পূরণ করতে পারবে।’

একাডেমিক লামানোসভ ২০১৯ সালে বিদ্যুৎ গ্রীডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটির আয়ুষ্কাল ৪০ বছর, তবে ৫০ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধিযোগ্য। এই জাতীয় মাঝারি আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানী লোড করার পর এক নাগাড়ে ৩-৫ বছর কাজ করতে সক্ষম।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ডি-কমিশনিং এবং রিসাইকেল করার জন্য রাশিয়ার মূল ভূ-খন্ডে নিয়ে আসা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল রাশিয়ার মূল ভূ-খন্ডে অবস্থিত বিশেষ সংরক্ষণাগারে রাখা হবে।

রোসাটম ইতোমধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কাজ করছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দুটি আরআইটিএম-২০০এম রি-অ্যাক্টর থাকবে এবং প্রতিটি উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৫০ মেগাওয়াট। এগুলোর আকৃতিও অপেক্ষাকৃত ছোট।

 

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯