‘ডিজেল জেনারেটরের চেয়ে সস্তা ও টেকসই ন্যানো গ্রিড সোলার প্রযুক্তি’  

    এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০১৭ শনিবার ০৮:০৯ এএম BdST     ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার

সৌর শক্তির জগতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হলো  সোলার ইন্টারকন্টিনেন্টাল লিমিটেড (সোলারিক)।

কোম্পানাটি বর্তমানে নানা ধরনের সৌর শক্তি বিষয়ক পণ্য প্রস্তুত করে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপণন করছে।

বাংলাদেশে কীভাবে সৌর শক্তির বিস্তার ঘটছে তার বিস্তারিত নিয়ে কোম্পানীটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিদার ইসলাম এনার্জিনিউজবিডি ডটকম সম্পাদক  আমিনূর রহমান এর সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন।

রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল(ইপিআরসি)এর গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন বেসরকারি খাতের সফল এই উদ্যোক্তা।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণ নিয়ে আপনার কোম্পানী সম্পর্কে কিছু বলুন।

দিদার ইসলাম: একটি বেসরকারি হাইটেক কোম্পানি হিসেবে আমাদের লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি, পণ্য এবং সেবা উদ্ভাবন। দেশের পর বিদেশেও বিপণন করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। গ্রিডবিহীন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পণ্যগুলোর মধ্যে সোলার মাইক্রো ইনভার্টার বিশ্বে প্রথম ও একমাত্র প্রধান প্রযুক্তি।

২০১৫ সালের ২৫ মে সোলারিক তার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) সোলার হোম সিস্টেমস, ব্যাক-আপ সিস্টেমস ও ন্যানো গ্রিড সিস্টেমস উন্নয়ন ও নির্মাণ করে। আমরা ১২০ ভোল্টেজ ডিসি প্রযুক্তির সোলার হোম সিস্টেমস তৈরি করেছি। এর মূল স্বত্ত্বও সোলারিকের। এই গ্রিড-রেডি ডিসি সিস্টেমে ইনভার্টারের সব সুবিধাও পাওয়া যায়।

এই প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে গ্রীডবিহীন এলাকার জন্য এলইডিভিত্তিক সোলার হোম সিস্টেমস এবং শহর ও উপশহরগুলোতে এলইডিভিত্তিক লাইটিং সিস্টেম।  নবনির্মিত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনে বিদ্যুৎ সৌর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে সোলারিক উচ্চতর গবেষণা করছে। সরকারের ৩ থেকে ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবেও কাজ করতে চাই আমরা।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইতোমধ্যে মিনি গ্রিড স্থাপন করে আপনার কোম্পানী বেশ সফলতা দেখিয়েছে।  এর পেছনের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করবেন। 

দিদার ইসলাম:  জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য সনাক্ত করা এবং যথোপযুক্ত প্রযুক্তি উন্নয়নে গবেষণা ও উন্নয়নে আমাদের জোর প্রচেষ্টার কারণে শুরুতেই আমরা একটি সুসংহত অবস্থান পেয়েছি। পাশাপাশি ব্যবসা উপযোগী মডেল উদ্ভাবনও সোলারিক এর সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সোলারিক বিশ্বাস করে, সোলার সল্যুশন এখন বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর বিকল্প জ্বালানি। ভোক্তা পর্যায়ে এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক মডেল ও ব্যবহারে আরো উদ্ভাবন প্রয়োজন।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এ পর্যন্ত কতগুলো মিনি গ্রিড স্থাপন হয়েছে এবং এর উপকারভোগী গ্রাহক কত? মিনি গ্রিড স্থাপন করে গ্রাহকদের আপনারা কি কি সুবিধা দিয়ে থাকেন?

দিদার ইসলাম: গত তিন বছর ধরে দেশের অফগ্রিড এলাকায় এ পর্যন্ত ৪০টি ন্যানো গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। যা থেকে গ্রীডবিহীন এবং সীমিত আকারের গ্রীড এলাকায় এক হাজারের বেশী বাড়ি-দোকানে এগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক আবাসিক এবং কিছুসংখ্যক বাণিজ্যিক। ভোক্তারা এই ন্যানো গ্রীড সোলারকে ডিজেল চালিত জেনারেটর বা আইপিএস এর ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই বিদ্যুৎব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে গ্রাহকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। ডিজেল জেনারেটর বা সোলার হোম সিস্টেমের মত অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে এটি সস্তা, টেকসই এবং ব্যবসায়িক কর্মঘন্টা সম্প্রসারণেও সহায়ক। আগামী দুই বছরের মধ্যে আরো ৫০০ ন্যানো গ্রিড সিস্টেম স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে আর কি কি প্রোডাক্ট গ্রাহকদের জন্য আপনারা সরবরাহ করছেন?

দিদার ইসলাম: তিন ধরণের পণ্য রয়েছে আমাদের। এগুলো হলো- থ্রিজি সোলার (১০০ ওয়াট পর্যন্ত সোলার হোম সিস্টেম), ন্যানো গ্রীড (৩ কিলোওয়াট) এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেগা রুফটপ (৫০০ কিলোওয়াট)। সবগুলোই কার্যকর সমাধান দিতে পারছে, যাতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন নেই।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বর্তমানে বাংলাদেশে সোলার হোম সিস্টেমস (এসএইচএস) স্থাপনের হার অনেক কমে গেছে। এর প্রধান কারণ সরকার এ পর্যন্ত দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। তাহলে এসএইচএস এর ভবিষ্যত কি শেষ?

দিদার ইসলাম:  জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সোলার হোম সিস্টেমস স্থাপন কমে যাচ্ছে আপনার এই কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি।

আমি মনে করি, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন তথা গ্রামীণ এলাকায় সোলার হোম সিস্টেমস বসানোর সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ নয়। মূল কারণ হলো- এই বাজার এখন দাতা নির্ভর এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এর মাধ্যমে সরকারের ভর্তুকি থেকে অধিকতর টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর বাজারে রূপান্তরিত হচ্ছে।

এই উন্মুক্ত বাজারে মান, সেবা ও ভোক্তা পর্যায়ে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এটি বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত সমাধান বের করার নতুন সুযোগও তৈরি করে।

প্রকৃতপক্ষে বাজারে এর চাহিদা কমেনি। বরং গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর সরবরাহকারীর অভাব রয়েছে। আশাকরি, সোলার হোম সিস্টেমস শিগগিরই গ্রীড এলাকাতেও জনপ্রিয়, যা এই খাতে এক নতুন জানালা উম্মোচন করবে।

এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সৌর বিদ্যুৎ ভিত্তিক বৃহৎ পরিসরে দেশে এখনো কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। অনেক কোম্পানী সরকারের সাথে চুক্তি করলে তা আলোর মুখ দেখছে না। এর কারণগুলো আপনার কাছে কি মনে হয়?

দিদার ইসলাম: বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে থাকার বড় কারণ হলো- অকৃষি জমির অপ্রাপ্যতা ও নির্ভরযোগ্য বিদেশী বিনিয়োগের অভাব। দেশে বড় আকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদেরকে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯