পেট্রোবাংলা সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের অবকাঠামো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করবে  

    স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০১৭ বৃহস্পতিবার ০৯:৩৭ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: গ্যাস

অগভীর সমুদ্রে পরিত্যক্ত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের অবকাঠামো নতুন করে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে সরকারএলএনজি এলপিজি আমদানির জন্য অবকাঠামোটির বহুমুখী ব্যবহারে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে

এজন্য দেশী-বিদেশী কোম্পানির কাছে সম্প্রতি আগ্রহপত্র চেয়েছে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ করপোরেশন  (পেট্রোবাংলা)।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মাহবুব সারওয়ার বলেন, সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের অবকাঠামো বাণিজ্যিকভাবে বহুমুখী ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট বা আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ৩ এপ্রিল আগ্রহপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে আগ্রহী কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে তেমন সাড়া না পাওয়া সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে অর্থাৎ ৩ মে পর্যন্ত এখন আগ্রহপত্র জমা দেওয়া যাবে।

নির্বাচিত কোম্পানি গ্যাসক্ষেত্রটির পরিত্যক্ত উৎপাদন ও প্রসেসিং অবকাঠামো ব্যবহার করবে।

সমুদ্রেবক্ষে গ্যাস উৎপাদনের অবকাঠামো সুবিধার পাশাপাশি স্থলভাগে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের সিলিমপুরে প্রসেস প্লান্ট রয়েছে। সমুদ্র এবং স্থলভাগের স্থাপনাকে সংযুক্ত করেছে ২০ ইঞ্চি প্রশস্ত ৪৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন।

দেশের সমুদ্রবক্ষে একমাত্র উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু বন্ধ হয়েছে ২০১৩ সালের অক্টোবরে। গ্যাসক্ষেত্রটির মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হলেও এর অবকাঠামো রয়ে গেছে। এই অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষনে বছরে সরকারের খরচ প্রায় দুই কোটি টাকা।

প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানিতে জোর দিয়েছে সরকার।

বঙ্গোপসাগর কিংবা সমুদ্র উপকূলে নোঙ্গরকৃত জাহাজ থেকে এই আমদানিকৃত গ্যাস খালাস এবং তা প্রক্রিয়াজাত ও ব্যবহারের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা দরকার।

এরই অংশ হিসেবে পরিত্যক্ত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের জন্য নির্মিত অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট পাইপলাইন, প্লান্টসহ নানা সুবিধা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

দেশের ১৬ নম্বর ব্লকের সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি উৎপাদন অংশীদারি চুক্তির (পিএসসি) মাধ্যমে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় ব্রিটিশ কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি পিএলসিকে।

১৯৯৬ সালে তারা সেখানে গ্যাস আবিষ্কার করে। ১৯৯৮ সালের ১২ জুন এই ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ শুরু হয়। কমপ্রেসর বসানোর পর গ্যাসক্ষেত্রটির মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

২০১০ সালে কেয়ার্ন গ্যাসক্ষেত্রের পরিচালনভার সান্তোসের কাছে হস্তান্তর করে চলে যায়। সর্বশেষ ২০১৩ সালে দেশের সমুদ্রবক্ষে উৎপাদনশীল একমাত্র গ্যাসক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯