‘শেটল্যান্ড ইউরোপে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে পরাক্রমশালী’  

    নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭ সোমবার ১১:৩৮ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: নবায়নযোগ্য

বাতাসের প্রচন্ড গতি এবং স্রোতের তীব্রতার কারণে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় বর্তমানে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ওই দ্বীপপুঞ্জকে।

শেটল্যান্ডের ব্লুমুল সাউন্ডে তিনটি ১০০ কিলোওয়াটের টারবাইন স্থাপন করেছে নোভা ইনোভেশন। নোভা ইনোভেশনের শেটল্যান্ড উন্নয়ন কর্মকর্তা পাট্রিক রস-স্মিথ জানান, স্কটল্যান্ডের মধ্যে জোয়ারের শক্তির দিক থেকে সবচেয়ে ভাগ্যবান শেটল্যান্ড। খরস্রোতা জোয়ারের কারণে গোটা ইউরোপের সম্ভাব্য সামুদ্রিক জ্বালানির প্রায় ২৪ শতাংশই রয়েছে স্কটল্যান্ডে।

তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের প্রভাব শেটল্যান্ডের ওপরও পড়ছে, যা সত্যিই ইতিবাচক একটি বিষয়।

তবে টারবাইনের সাফল্য দ্বীপপুঞ্জটিকে বেকায়দা অবস্থায় ফেলেছে। শেটল্যান্ড গ্রিড নিজেই এখন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে জানান নোভার কর্মকর্তা।

আর কোনো নবায়নযোগ্য শক্তি ধারণের ক্ষমতা নেই গ্রিডটির। বায়ু ও সমুদ্রস্রোত ব্যবহার করে দ্বীপপুঞ্জটির মোট চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ কারণে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এত অল্প পরিমাণ নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে শেটল্যান্ড।

এছাড়া শেটল্যান্ড ও ব্রিটেনের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো সংযোগ না থাকায় অতিরিক্ত জ্বালানি উৎপাদন করলেও তা আদতে কোনো কাজে আসবে না। এ কারণে প্রায়ই টারবাইনগুলো বন্ধ রাখতে হয়।

শেটল্যান্ড ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যে ২০০ মাইলের একটি সংযোগ লাইন স্থাপনের প্রস্তাবনা পেশ করা হলেও তার বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে শেটল্যান্ডে তেল শিল্পের উত্থান হয়। দ্বীপপুঞ্জটির ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ বিশ্বের তেল বেচাকেনায় বেঞ্চমার্কে পরিণত হয়। শেল, টোটালের মতো বড় তেল কোম্পানিগুলো শেটল্যান্ড থেকে তেল উত্তোলন করে থাকে।

তবে ১৯৯৩ সালে এমভি ব্রেয়ার তেল ট্যাংকারে দুর্ঘটনা ঘটলে সাগরে ৮৪ হাজার ৭০০ টন তেল ছড়িয়ে পড়ে। এতে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয় শেটল্যান্ডের জীববৈচিত্র্য। এ ঘটনার পর তেল নির্ভরশীলতার পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে ওঠে দ্বীপপুঞ্জটি।

কয়েক দশক ধরে উত্তর সাগরের উপকূলীয় জ্বালানি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল শেটল্যান্ড। গত মাসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পটির সর্বশেষ সংযোজনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সর্বশেষ সংযোজনে সমুদ্রগর্ভে লাগানো টারবাইন জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ করবে। দ্বীপপুঞ্জটির বাসিন্দারা পর্যন্ত বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

নিজেদের বাড়ির বাগানে ছোট ছোট উইন্ড টারবাইন লাগানোর পাশাপাশি ছাদে তারা সোলার প্যানেল লাগাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো শতভাগ স্বয়ংসম্পন্ন না হলেও চাহিদা মেটাতে অনেকটা সক্ষমতা অর্জন করেছেন তারা।

সূত্র: এএফপি

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০২০