আন্তর্জাতিক বাজারে ফের জ্বালানি তেলের দাম কমেছে  

    নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬ শনিবার ১১:৪১ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: অন্যান্য দেশ

টানা চারদিনের ঊর্ধ্বমুখিতা শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের দাম কমেছে জ্বালানি তেলেরযুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক মজুদ বৃদ্ধির প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার পণ্যটির সব ধরনের বাজার আদর্শের মূল্য হ্রাস পায়

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহত্ উত্তোলক দেশগুলোর সরবরাহ হ্রাসের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হলে এর সুযোগ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের শেল (পাথরের খাঁজে জমে থাকা তেল) উত্তোলন খাত, যা বাজারকে আবারো নিম্নমুখী করে তুলতে পারে।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) বৃহস্পতিবার ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম কমেছে ব্যারেলে ২৯ সেন্ট। এদিন এখানে পণ্যটির সর্বশেষ বিক্রয়মূল্য নেমে আসে প্রতি ব্যারেল ৫৩ ডলার ৭৭ সেন্টে। সারা দিনের লেনদেনে পণ্যটির দরবৃদ্ধির হার দশমিক ৬ শতাংশ।

যদিও এদিন পণ্যটির বাজার শুরু হয়েছিল ঊর্ধ্বমুখিতায়। দিনব্যাপী লেনদেনের একপর্যায়ে এখানে উল্লিখিত চুক্তির আওতায় পণ্যটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রতি ব্যারেল ৫৪ ডলার ২১ সেন্টে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন এজেন্সির (ইআইএ) এক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির দাম আবার কমতে শুরু করে।

ইআইএর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বেড়েছে ছয় লাখ ব্যারেল।

এর আগে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) এক প্রাক্কলিত প্রতিবেদনে দেশটিতে এ সময় পণ্যটির মজুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা জানানো হয়েছিল ৪২ লাখ ব্যারেল।

যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পরিচালিত এক বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে এ সময় দেশটিতে পণ্যটির মজুদ ১৪ লাখ ব্যারেল কমার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।

গতকালের লেনদেন শুরুর আগ পর্যন্ত চলতি মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চলতি বছরের লেনদেন শেষ হতে যাচ্ছে ৪৫ শতাংশের সামান্য বেশি দরবৃদ্ধিতে। গতকালই পণ্যটির সাপ্তাহিক ও চলতি বছরের বাজার শেষ হওয়ার কথা।

বৃহস্পতিবার প্রভাব ফেললেও আগামী বছরের সার্বিক বাজার পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ তথ্যের প্রভাব সামান্যই থাকবে বলে মনে করছেন ইউএস ব্যাংকের প্রাইভেট ক্লায়েন্ট গ্রুপের বিশ্লেষক মার্ক ওয়াটকিনস।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বছরে বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজভুক্ত (ওপেক) ও বহির্ভূত বৃহত্ উত্তোলক দেশগুলোর সরবরাহ হ্রাসের প্রতিশ্রুতি।

দেশগুলো এ প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করছে, মূলত সেটিই হয়ে উঠতে যাচ্ছে পণ্যটির বাজারগতি নির্দেশক।

অন্যদিকে লন্ডনের ইন্টার কন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) এদিন ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট তেলের দাম কমেছে ব্যারেলে ৮ সেন্ট। বৃহস্পতিবার এখানে পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৫৬ ডলার ১৪ সেন্টে। দিন শেষে পণ্যটির মোট দরপতনের হার দাঁড়িয়েছে দশমিক ১ শতাংশে।

ওপেকের বাজার সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রচলিত পন্থায় জ্বালানি তেল উত্তোলন। মোট বৈশ্বিক চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের জোটটি।

দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত উত্তোলনকে মোকাবেলা করতে গিয়ে সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে অংশীদারিত্ব দখলের কৌশল নেয় ওপেক, যার ফলে বিপদে পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি খরচে শেল উত্তোলন শিল্প।

এর পরও ওপেকের কৌশল খুব একটা কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। ওপেকের এ কৌশলের পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহ দ্রুত চাহিদা বৃদ্ধির গতিকে অতিক্রম করে যায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে জ্বালানি তেলের মূল্য নেমে আসে প্রতি ব্যারেল ২৬ ডলারের কাছাকাছি।

দরপতনের ধারাবাহিকতায় জ্বালানি তেল খাত থেকে ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশের আয় কমে যায়। জ্বালানি তেল-নির্ভরতার কারণে প্রায় ধসের মুখে পড়ে যায় কয়েকটি দেশের অর্থনীতি। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের শেল উত্তোলন খাতে ধস নামলেও, তা ছিল বিস্ময়কর রকমের ধীর।

শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বৃদ্ধির কৌশল পরিত্যাগে বাধ্য হয় ওপেক। একই সঙ্গে বাজারদর পুনরুদ্ধারের জন্য পণ্যটির উত্তোলন হ্রাসে সম্মতি জানায় উত্তোলক জোটটি, যার পরিপ্রেক্ষিতে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে জ্বালানি তেলের বাজার। একই সঙ্গে ৫০ ডলারের স্তর অতিক্রম করে পণ্যটির ব্যারেলপ্রতি মূল্য।

সূত্র: মার্কেটওয়াচ।

 

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯