পুরনো তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র আলাদাভাবে পাওয়ার হাবে রূপান্তর হচ্ছে  

    স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৬ শুক্রবার ১২:০৯ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: বিদ্যুৎ

দেশের  পুরনো তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে আলাদাভাবে বিদ্যুৎ অঞ্চল বা পাওয়ার হাব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারএর ফলে কেন্দ্র তিনটিতে বিদ্যমান ক্ষমতার তুলনায় প্রায় চার গুণ উৎপাদনক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা

বিদ্যুৎকেন্দ্র তিনটি হচ্ছে-নরসিংদীর ঘোড়াশাল, খুলনার গোয়ালপাড়া ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে  অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সংক্রান্ত একটি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্র তিনটির বর্তমান সর্বমোট উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ৫৫৩ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ছয় হাজার ৫২৫ মেগাওয়াট হবে। এ জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তিনটি পর্যায়ে কাজ শেষ হবে ২০৩০ সালে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজের সময়সীমা ২০১৬-২০ সাল। দ্বিতীয় পর্যায় ২০২১-২০২৫ এবং তৃতীয় পর্যায় ২০২৬-৩০ সাল।

তবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ১০ বছরের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

এই তিনটি কেন্দ্রের সম্পূর্ণ জমিই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য অবকাঠামো যেগুলো ব্যবহারযোগ্য সেগুলো ব্যবহার করা হবে। অবশিষ্টগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন কিছু ইউনিটও স্থাপন করা হবে।

এই তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে ঘোড়াশাল সম্পূর্ণ গ্যাসচালিত। গোয়ালপাড়ার সব কেন্দ্র তেলচালিত। আর বাঘাবাড়ীতে গ্যাস ও তেল উভয় জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র রয়েছে।

তবে নতুন পরিকল্পনায় তিনটি স্থানেই সবগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট হবে দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (ডুয়েল ফুয়েল)। গ্যাস পাওয়া গেলে গ্যাস দিয়ে চলবে। না হলে চলবে ডিজেলে। দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণব্যয় একক জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি হয়।

এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এতে বিদ্যমান সম্পদ ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে আরও বেশি সুফল পাওয়া যাবে। 

দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হচ্ছে। খুলনা পর্যন্ত গ্যাসের পাইপ লাইনও করা হচ্ছে। তারপরও বেশি ব্যয়ে দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত কেন জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সুলভ হলে তো গ্যাস দিয়েই চালানো হবে। দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক করা হচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখার জন্য।

সভায় বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম, পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯