বিপিসির এলপিজি সিলিন্ডারের ৮০ ভাগ ঝুঁকিপূর্ণ  

    নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০১৬ সোমবার ১২:১০ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: এলপিজি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলপিজি সিলিন্ডারের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অনুপযোগীঝুঁকিপূর্ণ এসব সিলিন্ডার বাসাবাড়িতে ব্যবহারে যেকোনো সময় বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে

বগুড়ায় বিপিসির এলপিজি সিলিন্ডারের উত্তরাঞ্চলীয় ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে এসে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আসাদুল ইসলাম এ আশঙ্কার কথা জানান। এর আগে গুদামে মজুত বেশ কিছু সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হয়।

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে বিপিসির বগুড়া আঞ্চলিক ডিপো থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৪ জেলার ৫৫০ জন পরিবেশক ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ করেন। এসব গ্যাস সিলেটের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস ফিল্ড থেকে বোতলজাত হয়ে সিলিন্ডারের মাধ্যমে ওই আঞ্চলিক ডিপোতে আসে।

গত শনিবার সিলেট থেকে তিনটি ট্রাকে গ্যাসভর্তি ৮৭৮টি সিলিন্ডার বগুড়া ডিপোতে আসার পর সেগুলো নামানোর সময় পদ্মা অয়েলের গ্যাসভর্তি প্রায় ৩০০ সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় ও তিনটি ট্রাক পুড়ে যায়।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম বলেন, বগুড়ায় বিপিসির গুদামে মজুত থাকা পদ্মা অয়েলের বেশ কিছু সিলিন্ডারের মুখে পানি ভরে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ সিলিন্ডারের মুখ দিয়ে অনর্গল গ্যাসের বুদ্‌বুদ বের হচ্ছে।

একইভাবে গ্যাস বের হচ্ছে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৭৫ শতাংশ সিলিন্ডার থেকে। ডিপোতে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার না থাকায় যমুনা অয়েলের সিলিন্ডারের মান যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু বিপিসির একই ডিপো থেকে তিনটি কোম্পানির সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়, সেহেতু যমুনার সিলিন্ডারের চিত্রও ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়।

দুর্ঘটনা এড়াতে বিপিসির সরবরাহ করা ঝুঁকিপূর্ণ এসব সিলিন্ডার জরুরি ভিত্তিতে বাতিল ঘোষণা করা দরকার বলে জানান আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বগুড়া ডিপোতে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে আট থেকে নয় হাজার এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। এসব সিলিন্ডারের সিংহভাগই ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনটি কোম্পানিকে এ গ্যাস সরবরাহ করা হয় বিপিসির প্ল্যান্ট থেকে। তাই এসব সিলিন্ডার বাতিল করে নতুন সিলিন্ডার সরবরাহের দায়িত্বও বিপিসিরই।

সিলিন্ডারগুলো বাতিল ঘোষণা করে নতুন সিলিন্ডার সরবরাহ করতে দু-এক দিনের মধ্যে বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানান এই পরিদর্শক।

এদিকে শনিবারের দুর্ঘটনা তদন্তে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তদন্তকারী দল ছাড়াও গতকাল বিপিসি ও পদ্মা অয়েলের উচ্চপর্যায়ের আরও দুটি দল বগুড়া ডিপো পরিদর্শন করে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যান্ট) ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিকেলে আসা চার সদস্যের তদন্ত দলের অন্য তিনজন হলেন পদ্মা অয়েলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শেখ আল মামুন, যমুনা অয়েলের বগুড়ার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আনোয়ারুল ইসলাম ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ওমর ফারুক নিয়াজী।

অন্যদিকে সকালে পদ্মা অয়েলের ম্যানেজার (অপারেশন-পরিচালন) ইকবাল আহমেদের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত দল ডিপো পরিদর্শন করে।

বিকেলে বিপিসির তদন্ত দলের প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, ট্রাক থেকে সিলিন্ডার নামানোর সময় ঘর্ষণ লেগেই প্রথম আগুন ধরে। এরপর ট্রাকের ওপর থেকে একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়।

ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের টুকরা ও পোড়া সিলিন্ডার ডিপো চত্বরে জড়ো করে রাখা হয়েছে। ডিপোর ফটকে পড়ে আছে পুড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রাকের ধ্বংসাবশেষ। বিস্ফোরণের ক্ষতচিহ্ন ডিপোর আশপাশের ভবনের দেয়ালেও লেগে আছে।

এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতি রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল রশিদ তদন্ত দলকে বলেন, বিপিসির এসব সিলিন্ডার অন্তত ৪০ বছরের পুরোনো। এসব সিলিন্ডারে গ্যাস বহন ও বিপণন যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি ভোক্তাদের রান্নাঘরের জন্যও নিরাপদ নয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

পুরোনো সিলিন্ডারের কারণেই বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না, জানতে চাইলে পদ্মা অয়েলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শেখ আল মামুন বলেন, তদন্ত চলছে। তার আগেই কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯