সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এলপিজি বটলিং প্লান্ট স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়ন  

    স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
    প্রকাশিত: জুন ০৪, ২০১৬ শনিবার ১১:০৪ পিএম BdST     ক্যাটাগরি: এলপিজি

লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি ও রপ্তানির সুযোগ রেখে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এলপিজি বটলিং প্লান্ট স্থাপনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার।

এর আগে শুধু এলপিজি আমদানির সুযোগ ছিলো। এ নীতিমালা প্রণয়নের সাথে সাথে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানিনির্ভর এলপিজি বটলিং প্লান্ট স্থাপনের অনুমোদন পদ্ধতি, ২০১১ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা।

সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রণয়ন করা এ নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি, রপ্তানি, এলপিজি বটলিং প্লান্ট স্থাপন, বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও বিপণন করতে পারবে না।

নীতিমালায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও জীবাশ্ম জ্বালানির সীমিত মজুদের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্বালানি সমস্যা সমাধানে এলপিজি সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সম্ভবনাময় উৎস।

এ বিবেচনায় গৃহস্থালি, অটোমোবাইল, ক্ষুদ্র শিল্পের জ্বালানি এবং কেমিক্যাল ও প্রসেস ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল হিসেবে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এলপিজি বটলিং প্লান্ট স্থাপনে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এজন্য জ্বালানি নিরাপত্তানিশ্চিতকরণের পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এলপিজি বটলিং প্লান্ট স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়ণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি বা কোনো শর্ত ভঙ্গের জন্য সরকার প্রয়োজন মনে করলে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে এলপিজি প্লান্ট বা কোম্পানীর অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

প্লান্ট স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, বিনিযোগ বোর্ড (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) বিএসটিআই, বিইআরসিসহ সরকারের বিধিবদ্ধ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে অনুমোদন এবং লাইসেন্স নিতে হবে।

লাইসেন্স গ্রহণের পর এলপিজি বটলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের অনুমতি গ্রহণপূর্বক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সাথে একটি চুক্তি করতে হবে।

এলপিজি আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনাপত্তির পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও অনুমোদন লাগবে।

সরকার প্রয়োজন মনে করলে কোনো অনুমোদিত এলপিজি কোম্পানীকে এলপিজি বাজারজাতকরণের জন্য সমগ্র বাংলাদেশ কিংবা কোনো বিশেষ অঞ্চল নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

কোনো এলপিজি বটলিং প্লান্ট বা কোম্পানী তাদের নিজস্ব সিলিন্ডার ছাড়া অন্য কোনো প্লান্ট বা কোম্পানীর সিলিন্ডারে গ্যাস বোতলজাত (ক্রস ফিলিং) করে বিতরণ ও বিপণন করতে পারবে না।

তবে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্মতি থাকলে তারা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন সাপেক্ষে ক্রস ফিলিং করতে পারবে।

এলপিজি প্লান্টের অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর স্থাপিত প্লান্টে এলপিজি সিলিন্ডারের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষনের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত পরীক্ষাগার থাকতে হবে।

এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিপিসি, বিএসটিআই এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো কর্তৃপক্ষ এলপিজির গুণগতমান পরীক্ষা করতে পারবে।

প্রস্তাবিত এলপিজি বটলিং প্লান্ট আবাসিক ও জনবহুল এলাকায় স্থাপন করা যাবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ আছে।

এলপিজি বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান লাফ্স গ্যাস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “এ খাতের উন্নয়নের জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তর, বিইআরসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”

আমদানিকারকেদের জন্য স্যাটেলাইট এলপিজি ফিলিং প্লান্ট স্থাপনে পৃথক একটি নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানান তিনি।

 

 

সম্পাদক: আমিনূর রহমান
@ সর্বস্বত্ব এনার্জিনিউজবিডি ডটকম ২০১৫-২০১৯