ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭, অগ্রহায়ণ ২৭, ১৪২৪ ০৩:২০ পিএম
  
হোম এনার্জি বিডি এনার্জি ওয়ার্ল্ড গ্রীণ এনার্জি মতামত সাক্ষাৎকার পরিবেশ বিজনেস অন্যান্য আর্কাইভ
সর্বশেষ >
English Version
   
পরিবেশ
বিশ্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ২০১৬ সালে অর্ধেকে নেমে এসেছে
বিশ্বে গত এক বছরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও নির্মাণের পরিকল্পনা নাটকীয়ভাবে কমেছেবলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাপি সুপরিচিত তিনটি পরিবেশবাদী গোষ্ঠী-গ্রিনপিস, দ্য সিয়েরা ক্লাব ও কোল সোয়ারম-এর চালানো যৌথ সমীক্ষায়  বলা হয়েছে, ভারত ও চীনে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কমে যাওয়ার কারণেই ২০১৬ সালে মূলত এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গত এক বছরে কমেছে ৪৮ শতাংশ, আর আগের এক বছরের তুলনায় এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ কমেছে অন্তত ৬২ শতাংশ। আবার ইউরোপ ও আমেরিকায় পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রিনপিস, দ্য সিয়েরা ক্লাব ও কোল সোয়ারমের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সরকারের নীতি পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক বিবেচনার কারণেই ভারত ও চীনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নাটকীয়ভাবে কমছে। গত দশ বছরে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়েছে ভারত ও চীনে। কিন্তু এভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের হিড়িক পড়ার দিন সম্ভবত শেষ হয়ে গেছে। বরং গত এক বছরে কয়লা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাই ব্যাপকভাবে বেড়েছে। চীনে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, ফলে অন্তত ৬০০ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কাজ সেখানে কমপক্ষে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। আর ভারতে এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ শ্লথ হয়ে পড়ার মূল কারণ হল ব্যাংকগুলো আর এখানে বিনিয়োগ করতে খুব একটা আগ্রহী নয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় গত দুই বছরে অনেক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। এসব দেশে অন্তত ১২০টি বড় ধরনের কয়লাভিত্তিক ইউনিটকে উৎপাদন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে এ ধরনের রিপোর্টকে বিভ্রান্তিকর বলছে ওয়ার্ল্ড কোল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার ছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর হাতে বিকল্প খুব কমই রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বএশিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ না হলে বছরে বাঁচবে ৫০ হাজার প্রাণ
জানুয়ারি ১৬, ২০১৭ সোমবার ০১:৫৩ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
যদি দক্ষিণ-পূর্বএশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং তাইওয়ানে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ না করা হয় তবে বছরে প্রায় ৫০ হাজার প্রাণ বেঁচে যাবে। সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ও গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালের এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে সারসংক্ষেপ আকারে তা তুলে ধরেছে গ্রিনপিস। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে পরিকল্পনাধীন অথবা নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যদি কার্যক্রম শুরু করে, তবে প্রতিবছর কয়লা থেকে সৃষ্ট দূষণে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। যেখানে বর্তমানে এ কারণে বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা ২০ হাজার। আর মৃতদের সিংহভাগই হবেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটমসফেরিক সায়েন্সেস মডেলিং গ্রুপের একদল গবেষক, হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ ও গ্রিনপিস এ অঞ্চলের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে নির্গত কার্বন মাত্রার বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরিচালিত হয় গবেষণা কার্যক্রম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ানে কয়লা নির্গমনে সৃষ্ট দূষণের মাত্রা নির্ণয়ে একটি বায়ুমণ্ডলীয় মডেল ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানায় গ্রিনপিস। বর্তমানে এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদার অধিকাংশই জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ২০৩৫ সালে এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা ২০১১ সালের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা বৈশ্বিক গড় চাহিদার দ্বিগুণের বেশি। গ্রিনপিসের পূর্ব এশিয়া শাখার সিনিয়র গ্লোবাল কোল ক্যাম্পেইনার লরি মুল্লুভিরতা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় বিদ্যুত্ উৎপাদনকেন্দ্রে কার্বন নির্গমনের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এ কারণেই এ অঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, এখনো জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়েক হাজার নাগরিকের জীবন রক্ষার সুযোগ রয়েছে এসব দেশের সরকারগুলোর হাতে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির ফলে কয়লানির্ভরতার সহজাত ঝুঁকি বৃদ্ধির  বিষয়ে গবেষণায়ও আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া পরিকল্পিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, কোরিয়া ও জাপানের কার্বন নির্গমনের মাত্রা তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে। গ্রিনপিসের জানায়, যা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মিলিত দূষণকেও ছাড়িয়ে যাবে। সূত্র: ব্লুমবার্গ।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বাংলাদেশের সই
এপ্রিল ২৩, ২০১৬ শনিবার ০৯:১৯ পিএম - বাসস
বাংলাদেশ ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।  শুক্রবার জাতিসংঘে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন। এ সময় অধিবেশনে ১৭১টি দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মতোই মনে হচ্ছিল। উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে ফ্রান্স, পেরু, ব্রাজিল, বলিভিয়া ও কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট এবং কানাডা, ইতালি ও টুভালুর প্রধানমন্ত্রী এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী, চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত, মাকির্ন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয় এবং প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের সমর্থনে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিয়ে যেতে অব্যাহতভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ পুর্নব্যক্ত করা হয়।  বাংলাদেশের বিবৃতিতে বলা হয়, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান ও প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবো। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার গৃহিত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ বলেছে, আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে সকল দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের মন্ত্রী চুক্তি সইয়ের পর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবং ইউএন এফসিসিসি’র নির্বাহী সচিব ক্রিস্টিনা ফিগুয়েরিসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে মন্ত্রী মঞ্জু তুরস্কের পরিবেশ মন্ত্রী ফাতমা গুলমেদেত সারি’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুই মন্ত্রী আগামী নভেম্বরে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ইউএনএফসিসিসি’র সম্মেলন এগিয়ে নিতে এক সঙ্গে কাজ করতে একমত হন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়াম্যান  হাছান মাহমুদ এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
বিশ্বব্যাংক পরিবেশবান্ধব জ্বালানির জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করবে
এপ্রিল ০৯, ২০১৬ শনিবার ০৫:৫৯ এএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বিশ্বব্যাংক বিশ্বের বিদ্যুৎ সক্ষমতায় ৩০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি যোগ করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ২০২০ সাল নাগাদ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির জন্য উদীয়মান দেশগুলোর বেসরকারি খাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করবে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে তহবিল ও জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণপ্রদানকারী সংস্থাটি। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্যারিস সিওপি২১ সম্মেলনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলা করতে সহায়তা করবে সংস্থাটি। পরিকল্পনা অনুসারে, আর্থিক সংস্থাটি জলবায়ু রূপান্তর প্রতিরোধী পরিবহন খাতে তহবিল চার গুণ করবে। পাশাপাশি টেকসই শহর নির্মাণের বৈশ্বিক প্লাটফর্মের মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে নগর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং টেকসই বনায়ন ও মত্স্য ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করবে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০ কোটির বেশি মানুষ দরিদ্র হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচেষ্টা হিসেবে বিশ্বব্যাংক দলের সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন জলবায়ু বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছে। প্রতিষ্ঠানটি জলবায়ু বিনিয়োগ বছরে ২২০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ কোটি ডলার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া ২০২০ সাল নাগাদ বেসরকারি খাতে অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার দেবে। সূত্র: সিনহুয়া।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বায়ু দূষণ বাড়াচ্ছে
ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৬ সোমবার ১১:০৪ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রভাবেও প্রতিনিয়ত পুড়ছে জ্বালানি। এতে উন্নত দেশগুলোয় কার্বন নিঃসরণ দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। দুই যুগের ব্যবধানে দেশে কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ৪২২ শতাংশ। দেশের পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোই এর মূল কারণ। প্যারিসভিত্তিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘সিওটু ইমিশনস ফ্রম ফুয়েল কমবাসচিয়ান-২০১৫’শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বেশ পুরনো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ব্যবহার সক্ষমতা কমছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অধিক গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে গ্যাসের বড় অংশের অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে নিঃসরিত কার্বন বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ দ্রুত বাড়ার কারণ হিসেবে তাই পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেই দায়ী করে আইইএ। সংস্থাটি বলছে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ৫৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে গ্যাস ব্যবহারের কারণে নিঃসরণ হয়েছে ৪০ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন বা ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আর জ্বালানি তেল পোড়ানোর জন্য নিঃসরণ হয়েছে ১৪ দশমিক ৯ টন বা ২৫ শতাংশ। এর বড় অংশই ব্যবহার হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ২০১৩ সালে নিঃসরিত কার্বনের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ছিল ৩০ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন বা ৫১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের অধিকাংশই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনে। এগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ২০১৩ সালে শিল্প খাত থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন, পরিবহন খাত থেকে ৮ দশমিক ২ ও বাসাবাড়ি থেকে ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন টন। পাঁচ বছর আগেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কম ছিল বলে জানায় আইইএ। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০০৮ সালে দেশে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ৪৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে ২০ দশমিক ১ মিলিয়ন টন বা ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর। এছাড়া ২০১০ সালে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ৫০ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন। সে সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে নিঃসরিত কার্বনের পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ২ মিলিয়ন টন বা ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) খালেদ মাহমুদ  বলেন, আইইএর প্রতিবেদনটি দেখা হয়নি। আর কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কীভাবে পরিমাপ করা হয়েছে, তাও জানা নেই। তবে আইইএ যে কারণটি বলেছে, তা ঠিক আছে। পিডিবির বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বেশির ভাগই অনেক পুরনো। এতে গ্যাস কিছুটা বেশি ব্যবহার হয়। পরিস্থিতির উত্তরণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরনো কেন্দ্রগুলো রি-পাওয়ারিং বা পুনঃক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণও অনেক কমবে। ফলে কার্বন নিঃসরণও অনেক কমে আসবে। আইইএর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ অনেক ধীরগতিতে বেড়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে তা বৃদ্ধির মাত্রা বাড়তে থাকে। আর ২০১০ সাল থেকে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত বাড়ছে। তবে এখনো বাংলাদেশে নিঃসরিত কার্বনের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৩ সালে দেশে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল দশমিক ৩৮ টন, যা বিভিন্ন উন্নত দেশে ১০ টনের বেশি। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে মোট কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন। ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ দুই যুগের ব্যবধানে বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ৪৮ দশমিক ২ মিলিয়ন টন বা ৪২১ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ২০১০ সালে দেশে কার্বন নিঃসরণ ছিল ৪৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন টন, যা ২০০৫ সালে ৩২, ২০০০ সালে ২০ দশমিক ৯ ও ১৯৯৫ সালে ১৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন ছিল। কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির হারে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। দুই যুগের মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোয় সবচেয়ে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ভিয়েতনামে, ৬৪৮ দশমিক ২ শতাংশ। এর পর রয়েছে চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। তবে মোট নিঃসরণের দিক থেকে বাংলাদেশ এশিয়ায় দশম। এক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে চীন। এর পর রয়েছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চায়নিজ তাইপে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম বলেন, বাংলাদেশে ভারী শিল্প এখনো ব্যাপক আকারে গড়ে ওঠেনি। তাই মাথাপিছু জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক কম। আবার দেশে মাথাপিছু বিদ্যুত্ ব্যবহারের পরিমাণও অনেক কম। এতে দেশে কার্বন নিঃসরণ খুব ধীরে বাড়ার কথা। তবে সাম্প্রতিককালে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত বাড়ছে। এর মূল কারণ পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষমতার হার সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ, যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এ হার ৭০ শতাংশের বেশি। পরিস্থিতির উত্তরণে এখনই সতর্ক হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে পুরনো কেন্দ্রগুলো উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি ব্যবহার সক্ষমতার প্রতিও নজর দিতে হবে। সূত্র: বণিক বার্তা
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
২০১৬ সালে তাপামাত্রা আরো বেশি বাড়তে পারে
ডিসেম্বর ১৮, ২০১৫ শুক্রবার ১০:১১ এএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
চলতি বছরের চেয়ে আগামী বছর তাপামাত্রা বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস। আগামী বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব যুগের চেয়ে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে রাষ্ট্রগুলো এই তাপামাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালকে ইতিমধ্যে উষ্ণতম বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ব্রিটিশ আবহাওয়া অফিসের নতুন পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, আগামী ১২ মাসে তাপমাত্রা ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৮৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। গত বছর এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছিলো ২০১৫ সালে গড়ের চেয়ে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম দশ মাসের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে চলতি বছরে তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।   গবেষকরা বলছেন, এল-নিনো’র প্রভাব ২০১৬ সালেও চলতে থাকবে। এ কারণে ভারতের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গেছে। আবহাওয়া অফিসের প্রফেসর স্কাইফ বলেন, তাপামাত্রা ২০১৬ সালে কী পরিমাণ বাড়বে তা এখনই বলা কঠিন তবে যে অবস্থা চলছে তাতে বলাই যায় চলতি বছরের চেয়ে তাপামাত্রা বেশিই হবে।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন বন্ধের আহ্বান
ডিসেম্বর ০৮, ২০১৫ মঙ্গলবার ১১:৪৩ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
সুন্দরবনকে রক্ষায় বনের সংরক্ষিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী। সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনার একবছর পূর্তিতে মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহবান জানান। তেলবাহী জাহাজ ডুবি ও পরবর্তী পর্যালোচনা বিষয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ বন বিভাগ এবং ম্যানগ্রোভ ফর ফিউচার এ সভার আয়োজন করে। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের অভ্যন্তরে শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজ ডুবে যায়। দেশ-বিদেশে এ দুর্ঘটনা আলোড়ন তুলে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্রের ধরণ এবং এর ইক্যোসিস্টেম এ বনকে পৃথিবীর অন্যান্য বন থেকে আলাদা করেছে। এ বন শুধু বাংলাদেশের নয় সারা পৃথিবীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই এ বনকে রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরের তেলবাহী ট্যাংকারডুবির ঘটনা সুন্দরবনে জন্য হুমকি স্বরুপ। এ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবন ইতোমধ্যেই প্রাকৃতিকভাবেই তার সঙ্কট কাটিয়ে উঠছে। এখনই বনের সংরক্ষিত অঞ্চল দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা এর থেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরো ঘটতে পারে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল করিম বলেন, কোন অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে খুব ভালোভাবে এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা গেছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা ওই ধরণের দুর্ঘটনারোধে ব্যালাস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, বানিজ্যিক জাহাজের যৌথ মনিটরিং, ইসিএ রুলস’র মধ্যে নৌ-ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্তির আহবান জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইইউসিএন এর দেশীয় প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ, ইউএনডিপির সহকারী দেশীয় প্রতিনিধি খুরশিদ আলম, ইউএসএআইডি এর  পরিবেশ বিষয়ক টিম লিডার কার্ল রুস্টার।  
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
বায়ুদূষণ রোধে দিল্লি সরকারের কঠোর ব্যবস্থা
ডিসেম্বর ০৬, ২০১৫ রবিবার ০৩:৪৩ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বায়ুদূষণ প্রকট রূপ ধারণ করায় আগামী জানুয়ারি থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িগুলো যখন ইচ্ছে তখন দিল্লির রাস্তায় নামতে পারবে না। এসব গাড়ি শুধু একদিন পর একদিন পথে চলার সুযোগ পাবে। বায়ুদূষণের মাত্রা প্রশমনে দিল্লি সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরিপে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম বায়ুদূষণের শহর নির্বাচিত হয়েছে দিল্লি। বিশ্বজুড়ে ছোটবড় ১ হাজার ৬০০ শহরের উপর ডব্লিউএইচওর জরীপে এ ফলাফল এসেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির আকাশ ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে দিল্লি সরকার শহরে ট্রাক প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। দুই সপ্তাহ আগে এক আদেশে দিনের বেলায় দিল্লিতে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। রাতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও আরোপিত শুল্কের হার আগের চেয়ে বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আরো কিছু কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা এল। দিল্লি সরকারের মুখ্য সচিব কে কে শর্মা বলেছেন, জানুয়ারি থেকে শহরে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িগুলো একদিন পর একদিন পথে নামার সুযোগ পাবে। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সাহায্যে রাস্তা থেকে ধুলাবালি অপসারণ করা হবে। এপ্রিল মাস থেকে দিল্লীর রাস্তায় ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং শুরু হবে বলে কে কে শর্মা জানান। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক একটি বিদ্যুেকন্দ্রও বন্ধ করে দেয়া হবে। দিল্লির পরিবেশ নিয়ে রাজ্য সরকারের এক জরুরি বৈঠক শেষে কে কে শর্মা বলেন, প্রতি বছর শীতের দিনগুলোয় বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা এ ব্যাপারে একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি। এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ির নম্বর প্লেটের জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে রাস্তায় চলাচলের দিন নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। দিল্লির রাস্তায় ৮৫ লাখের বেশি গাড়ি নিয়মিত চলাচল করে। প্রতিদিন শহরের পথে নতুন ১ হাজার ৪০০ গাড়ি যুক্ত হচ্ছে। ভারতের পরিবেশ আদালত চারদিন আগে দিল্লি সরকারকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের কৌশল উপস্থাপনের আদেশ দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ পদক্ষেপ নিল। সূত্র: এএফপি।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
বিশ্বের শীর্ষ ১০ % ধনী মোট কার্বনের অর্ধেক নিঃসরণ করছে
ডিসেম্বর ০৩, ২০১৫ বৃহস্পতিবার ০১:৪৬ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বিশ্বের মোট কার্বনের অর্ধেক নিঃসরণ করছে শীর্ষ ১০% ধনী। বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে এ নিঃসরণ হয়। পৃথিবীর জনসংখ্যার অতিদরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষ মোট কার্বনের মাত্র ১০ শতাংশ নিঃসরণ করে। বুধবার ব্রিটিশ সেবামূলক সংস্থা অক্সফামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অক্সফাম এ পরিসংখ্যান এমন সময় প্রকাশ করল, যখন বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যস্থতাকারীরা প্যারিসে একটি জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হতে আলোচনায় বসেছেন। বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর দায় বণ্টন ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সাহায্যপ্রাপ্তির বিষয়ে ২৫ বছর ধরে আলোচনা চলে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রী এ সংকটের মীমাংসা সবচেয়ে কঠিন বলে মনে হচ্ছে। অক্সফামের পরিকল্পনাপ্রধান টিম গোর বলেছেন, ধনী ও উচ্চমাত্রার নিঃসরণকারীদের দায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে তারা বিশ্বের কোন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা বিবেচ্য নয়। কিন্তু দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোয় এখনো অতিদরিদ্ররাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নেতৃত্ব দিতে হবে ধনী রাষ্ট্রগুলোকেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ ধনীরা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ। আর এ ১ শতাংশই ধনী অর্থনীতির তলানিতে থাকা ১০ শতাংশ অতিদরিদ্র মানুষের চেয়ে ১৭৫ গুণ কার্বন নিঃসরণ করে। এদিকে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এখনো জলবায়ু পরিবর্তনের দায় বণ্টন-বিষয়ক বিতর্ক চলমান। উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘ সময়জুড়ে পরিবেশ দূষণ করেছে। তাই তাদেরই উচিত এ থেকে উত্তরণে সিংহভাগ দায়িত্ব নেয়া। তারা এক্ষেত্রে কম দূষণক্ষম নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে শক্তির উৎস রূপান্তরের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো থেকে অর্থসাহায্য দাবি করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঘটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায়ও সহায়তার নিশ্চয়তা চায় তারা। ১৩৪টি উন্নয়নশীল দেশ চাইছে, ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্যারিসে প্রত্যাশিত জলবায়ু চুক্তির একটি বাধ্যবাধকতামূলক অংশ হোক। কিন্তু এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ শিল্পোন্নত দেশগুলো। অন্যদিকে ৪৮টি এলডিসিভুক্ত দেশের একটি গ্রুপ বলছে, এখনো জলবায়ু-বিষয়ক অনেক কিছু আলোচনার বাইরে পড়ে আছে। এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে বলেছেন, আমরা আশা করি, অগ্রসর রাষ্ট্রগুলো উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। এটি কেবল ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন নয়। তাদের সবচেয়ে বেশি নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্র রয়েছে; যা পালনে সর্বাধিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ধনী দেশগুলো এমন বিভক্ত কর্মপন্থাকে বরাবরই বাতিল করে আসছে। তারা এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার কথা বলছে। যদিও সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দরিদ্রদের সুরক্ষায় ৩ কোটি ডলারের ক্লাইমেট রিস্ক ইন্স্যুরেন্সের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তহবিল সেন্ট্রাল আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দরিদ্রদের জন্য ব্যবহার হবে। মঙ্গলবার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনায় বারাক ওবামা এ ঘোষণা দেন। এর আগে সোমবার এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য দেশটি ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের আরেকটি তহবিল ঘোষণা করে। অ্যালায়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড স্টেটসের (এওএসআইএস) প্রধান মধ্যস্থতাকারী মালদ্বীপের আমজাদ আব্দুল্লাহ একে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এ পদক্ষেপকে প্যারিস সম্মেলনের কার্যকর আলোচনার একটি চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, আমরা এখন আমাদের অংশীদারদের চ্যালেঞ্জের মাত্রা নিরূপণে উৎসাহিত করছি; যাতে তা মোকাবেলায় সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত চলতি বছর নেয়া জি-৭ নেতাদের গৃহীত লক্ষ্যের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জি-৭-এর লক্ষ্যে ২০২০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় থাকা জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির সম্মুখীন ৪০ কোটি মানুষকে ইন্স্যুরেন্সের আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছিল। জার্মানির নেতৃত্বে এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ জি-৭ দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ-সম্পর্কিত বিস্তারিত ঘোষণা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জলতি বছরের জুনে এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ শুরু করতে জার্মানি ১৭ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। একই সঙ্গে তারা এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদেরও আনার কথা বলেছিল। সূত্র: রয়টার্স ও এএফপি ।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
জলবায়ুর নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কবাণী ওবামার
ডিসেম্বর ০২, ২০১৫ বুধবার ০৮:১৪ পিএম - বাসস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বৈশ্বিক উষ্ণতা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে বলে সতর্কবাণী করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন আলোচকরা। জলবায়ু প্রশ্নে রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সোমবার প্যারিসের উপকণ্ঠে ১৫০ টি’রও বেশি দেশের প্রধানরা জড়ো হয়েছেন। অনেকে চলমান সম্মেলনকে জলবায়ু দুর্যোগ এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ১১ দিন ধরে এ আলোচনা চলবে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ঐতিহাসিক এ সম্মেলনে যোগদানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মানুষ প্রয়োজনীয় কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিশ্বাস তার। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, তাপমাত্রা কমানো না গেলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপদ হতে পারে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হল যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন সামাল দিতে হবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে কোন দেশ কী করবে, কে কত কার্বন নিঃসরণ কমাবে, কোন ধনী দেশ পরিবেশবান্ধব জলবায়ু তহবিলে কত অর্থ দেবে, তা নিয়ে প্যারিসে চলছে দর-কষাকষি আর চুলচেরা বিশ্লেষণ। কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্যারিসে রাষ্ট্রগুলোর সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়েছে। ওবামা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন একটা বিরাট সমস্যা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই সমস্যা মোকাবেলা করছে। আমি মনে করি, আমাদের এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ কার্বণ দূষণ এড়াতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে ধনী দেশগুলোর প্রতি ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে দরিদ্র দেশগুলো। তবে অনেক ক্ষমতাধর দেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাসের লক্ষ্যে কাজ করছে।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
আফ্রিকাকে ১৬ বিলিয়ন ডলার দিতে চায় বিশ্বব্যাংক
নভেম্বর ২৭, ২০১৫ শুক্রবার ০২:৩৬ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা বিষয়ক  ২১তম  সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে আফ্রিকার জন্য ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক বিশ্বব্যাংক। কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (সিওপি২১)নামে এ সম্মেলন ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আফ্রিকা বিজনেস ক্লাইমেট প্ল্যান শীর্ষক প্রস্তাবনাটি জাতিসংঘের সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, এর মাধ্যমে এ মহাদেশের লাখ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ অর্থের এক-তৃতীয়াংশ বিশ্বব্যাংকের সফট লোন উইনডো হিসেবে পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে সংগ্রহ করা হবে। এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রাখতে দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি সম্পাদন। তবে পাশাপাশি আফ্রিকার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে বলে জানান বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. জিম ইয়ং কিম। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আলোচনার ভিড়ে আফ্রিকার বিষয়টি যেন হারিয়ে না যায়, আমরা এ বিষয় নিশ্চিত করতে চাই।’ কিম বলেন, এ আলোচনায় শুধু গ্যাস নিঃসরণ কমানোকে গুরুত্ব দিলেই চলবে না। পাশাপাশি উষ্ণায়নের প্রভাব প্রশমনের দিকেও নজর দেয়া জরুরি। কিম সতর্ক করেন, এ সম্মেলনে খুব সহজে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে না। এর আগে ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন সম্মেলন রাগারাগি ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তবে এবারের সম্মেলনের ব্যাপারে কিম বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, ‘গতবারের চেয়ে এবার বিশ্বনেতাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন সংকল্প রয়েছে।’ আফ্রিকায় বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের মাত্র ৩ শতাংশ নিঃসরণ হয়। তা সত্ত্বেও বিশ্বের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধিতেই মহাদেশটির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রস্তুতিতে সাহায্য না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে মহাদেশটির প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ অধিবাসী অতিদারিদ্র্যের শিকার হতে পারে। আর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, তাঞ্জানিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও উগান্ডার ওপর। সেখানে খরা, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা যেতে পারে। সূত্র: বিবিসি।  
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
পাঁচ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর ঘোষণা দেবে বাংলাদেশ
নভেম্বর ২০, ২০১৫, শুক্রবার ০৭:২০ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই পাঁচ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর ঘোষণা দেবে বাংলাদেশ। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এ ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তা পেলে তা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের। জাতিসংঘের ‘কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস’ (কপ-২১)-এ বাংলাদেশ এ-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব দেবে বলে জানান তিনি। সূত্র জানায়, ইনটেন্ডেড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস (আইএনডিসিএস) শর্তানুসারে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বাংলাদেশ, যদিও এ চুক্তিতে খুব একটা সাড়া দিচ্ছে না সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলো। তবে এক্ষেত্রে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সবচেয়ে বেশি সাড়া দিয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সেলের পরিচালক মির্জা শওকত আলী বলেন, বাংলাদেশ ২০১১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এ পরিমাণ কার্বন কমাতে চায়। গত মাসেই এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্যারিস সম্মেলনে পাঠানো হয়েছে। আর কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন এবং শিল্প খাতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মিজান আর খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা-সংক্রান্ত যে কোনো নীতিতে দারিদ্র্য নিরসনের পদক্ষেপ থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শস্যের ক্ষতি, খাদ্যপণ্যের দামসহ কৃষিতে অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন দরিদ্রদের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি।  জলবায়ু সম্মেলনের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকেও সর্বোচ্চ পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের নিশ্চয়তা আদায় করতে হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের দুটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্বন নিঃসরণ লাগামহীনভাবে চলতে থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০ কোটির বেশি মানুষ চরম দরিদ্র এবং ৫০ কোটির বেশি মানুষ গৃহহীন হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ১৫ কোটি মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ১০টি শহরের সবই এশিয়ায়। এগুলোর মধ্যে ঢাকা ছাড়াও রয়েছে কলকাতা, মুম্বাই, হংকং, সাংহাই, জাকার্তা ও হ্যানয়। বড় মাত্রায় কার্বন নিঃসরণের রাশ টেনে ধরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটিতে নেমে আসতে পারে। ২১তম বৈশ্বিক সম্মেলনকে সামনে রেখে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।  
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে না
নভেম্বর ২০, ২০১৫, শুক্রবার ০৬:৩১ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বিনিয়োগে নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণের কারণে ক্ষতিকর তেমন কোনো প্রভাব দেশের মানুষ বা পরিবেশের ওপর পড়বে না। ‘বাংলাদেশ-ভারত সুন্দরবন রিজিওনাল কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ (বিআইএসআরসিআই) কনসোর্টিয়াম মিটিং, ঢাকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ কথা বলেন। এ সময় অন্য বক্তারা সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন। সম্প্রতি রাজধানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (পিআরআই) বিশ্বব্যাংক ও দি ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার অ্যাসোসিয়েশন (আইডব্লিউএ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড আশিকুর রহমান। নিবন্ধের ওপর প্যানেল আলোচক ছিলেন ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো ড জয়তী ভট্টাচার্য ও আইডিএসএর রিসার্স ফেলো ড শ্রুতি এস পট্টনায়েক। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে ১৫ বছর জড়িত থাকলেও কাজের সমন্বয় বিষয়ে আমি এখনো জানতে পারিনি। একইভাবে সুন্দরবন নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু এসব গবেষণা বাস্তবায়নে কারা অংশ নেবে বা ভারতের সঙ্গে সমন্বয়ইবা কীভাবে হবে, তাও জানি না। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ উপলক্ষে ২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ), বাস্তবায়ন চুক্তি (আইএ) এবং যৌথ উদ্যোগ চুক্তির সম্পূরক (এসজেভিএ) স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) ও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাওয়ার কোম্পানীর মাধ্যমে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
ক্যাটাগরি: পরিবেশ
    সাম্প্রতিক পরিবেশ এর খবর
    FOLLOW US ON FACEBOOK


Explore the energynewsbd.com
হোম
এনার্জি ওয়ার্ল্ড
মতামত
পরিবেশ
অন্যান্য
এনার্জি বিডি
গ্রীণ এনার্জি
সাক্ষাৎকার
বিজনেস
আর্কাইভ
About Us Contact Us Terms & Conditions Privacy Policy Advertisement Policy

   Editor & Publisher: Aminur Rahman
   Copyright @ 2015-2017 energynewsbd.com
   All Rights Reserved | Developed By: Jadukor IT