ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭, অগ্রহায়ণ ২৭, ১৪২৪ ০৩:২৪ পিএম
  
হোম এনার্জি বিডি এনার্জি ওয়ার্ল্ড গ্রীণ এনার্জি মতামত সাক্ষাৎকার পরিবেশ বিজনেস অন্যান্য আর্কাইভ
সর্বশেষ >
English Version
   
সাক্ষাৎকার
‘লাফস গ্যাসের এলপিজি সিলিন্ডার গুনগতমান ও নিরাপত্তায় বাজারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী’
বাংলাদেশে ধীরে ধীরে রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থানীয়সহ বহুজাতিক কয়েকটি কোম্পানী এই সিলিণ্ডার সরবরাহ করছে তার মধ্যে অন্যতম হলো শ্রীলঙ্কান ভিত্তিক লাফস গ্যাস বাংলাদেশ লিমিটেড। এই কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ের সাথে অন্তত ১৮ বছর ধরে জড়িত। লাফস গ্যাস কিভাবে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে সে ব্যাপারে এনার্জিনিউজবিডি ডটকম এর সম্পাদক আমিনূর রহমানকে বিস্তারিতভাবে বলেছেন সাইদুল ইসলাম। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: আপনার কোম্পানী সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন। সাইদুল ইসলাম: দেশের অন্যতম বৃহত্তম এলপিজি পরিবেশক লাফস গ্যাস লিমিটেড (ভূতপূর্ব পেট্রিডেক এলপিজি) প্রতি বছর ৫০ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি ও বিতরণ করছে। দেশে শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানিটি ২০০১ সাল থেকে খুচরা বাজারে ক্লিনহিট গ্যাস নামে প্রবেশ করে। কয়েক বছরেই আমরা দ্রুত উন্নতি করি এবং বিস্তৃত বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলি। একারণে বার্ষিক কেনা-বেচার পরিমাণ ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। লাফস গ্যাস বর্তমানে মংলায় বিশ্বমানের এলপিজি আমদানি, বোতলকরণ এবং বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। লাফস, পেট্রিগ্যাস এবং ক্লিনহিট নামে দেশব্যাপী সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করছে। শিল্পগ্রাহকদেরকে কারিগরি সেবাসহ এলপিজি সরবরাহ করার উপর ব্যাপক জোর দিয়েছি। বাংলাদেশে অটো-গ্যাসের যাত্রা শুরু করার ক্ষেত্রে লাফস অগ্রদূত। সারাদেশে অটোমোবাইল সার্ভিস স্টেশনগুলোতে এলপিজি সরবরাহ করছি। লাফস গ্যাস বাংলাদেশ এ অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পগোষ্ঠী লাফস গ্যাস পিএলসি ও লাফস হোল্ডিংসের একটি প্রতিষ্ঠান। চার হাজার কর্মী এবং বার্ষিক ২১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশী লেনদেন করা লাফসের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, রিটেইল, শিল্প সার্ভিস, অবকাশ এবং আবাসন খাতের ২০টি শিল্পে দৃঢ় অবস্থান রয়েছে।  বাংলাদেশের এলপিজি অপারেটরগুলোর মধ্যে সম্প্রতি লাফসই প্রথম নিজস্ব সমুদ্র জাহাজ গ্যাস কারেজ এর মাধ্যমে সরাসরি উৎসদেশ থেকে এলপি গ্যাস আমদানি করেছে। এটি আরেকটি মাইলফলক। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বর্তমান বাজারে লাফস গ্যাসের কত কেজির এলপিজি সিলিন্ডার এবং অন্য কি ধরনের পণ্য আছে? সাইদুল ইসলাম: বাজারে ১২ কেজি ও ৪৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন ক্যাপাসিটির ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্যাংকে এলপিজি সরবরাহসহ অটোগ্যাস বিক্রি হচ্ছে। অচিরেই গ্রাহকদের চাহিদা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১২ কেজি এবং ৪৫ কেজির মধ্যে নতুন সাইজের ভালো মানের এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে নিয়ে আসবো বলে আশা করছি। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: আপনার কোম্পানীর এবং অন্য কোম্পানীর সিলিন্ডারের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে যে কারণে গ্রাহকরা লাফস গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করবে? সাইদুল ইসলাম: আমাদের সিলিন্ডার বিক্রয় থেকে শুরু করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতি রেখে করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের কাছে যখন যায় তখন অনেক নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে যায়। আমরা নিশ্চিত করি সিলিন্ডারের গুনগতমান, সঠিক ওজন ও নিরাপত্তা। এসব কারণেই লাফস গ্যাসের সিলিন্ডার গ্রাহকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এলপিজি কোম্পানীগুলোর সিলিন্ডারের দামের হেরফের নিয়ে গ্রাহকরা প্রায়ই সমালোচনা করে থাকে-এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? সাইদুল ইসলাম: বাজারে সিলিন্ডারের সমালোচনা থাকবেই। কারণ গ্রাহকমাত্রই আশা করে সিলিন্ডারের দাম কম থাকুক আর ব্যবসায়ীরা চায় সিলিন্ডারের দাম বাড়ুক। কিন্তু গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও নিরাপত্তাটা অবশ্যই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আমরা এই দুইটি বিষয় নিশ্চিত করে যতটা সম্ভব সহনীয় ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে থাকি। তাই আমাদের সিলিন্ডারের দাম কমও না আবার বেশিও না। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি জড়িত। কাজেই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি বা কম হলে আমাদের সেভাবে দাম পুনঃনির্ধারণ করতে হয়। তারপরও যতটা সম্ভব দাম কমিয়ে গ্রাহকদের সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করি। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: চলতি বছরে কি পরিমাণ গ্যাস ভর্তি নতুন ও রিফিল সিলিন্ডার গ্রাহকের কাছে বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন? সাইদুল ইসলাম: এ বছর বাজারে ৬০ হাজার টন গ্যাস বিক্রি করার পরিকল্পনা আছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: প্রায়ই শোনা যায় এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এর কারণগুলো আপনার কাছে কি মনে হয়? সাইদুল ইসলাম: এখন পর্যন্ত যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তার কারণগুলো যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে দেখা যাবে-নিম্নমানের সিলিন্ডার এবং গ্রাহকের পর্যাপ্ত জ্ঞান বা ব্যবহার বিধির অজ্ঞানতার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।  আমি আগেই বলেছি মান নিয়ন্ত্রণকে আমরা প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করি। কাজেই আমাদের সিলিন্ডারগুলো বিশ্বমানের সার্টিফাইয়িড হয়ে আসে সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটার অবকাশ কম। এটা আমাদের সিলিন্ডার বলে কথা না। আমরা চাই না কোনো সিলিন্ডারে দুর্ঘটনা ঘটুক। এছাড়া যে যন্ত্রাংশগুলো সিলিন্ডারে ব্যবহার হয় যেমন-ভালব সেগুলোর ব্যাপারেও আমরা বিশেষভাবে যত্ন নিয়ে থাকি। বাজারে যেসব সিলিন্ডারে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে লক্ষ্য করা যায় কোন কোন ক্ষেত্রে সিলিন্ডার কিংবা ভালবের ত্রুটির জন্য। এই যন্ত্রাংশগুলোর ব্যাপারে যদি সর্তক থাকা যায় এবং সরকার যদি কার্যকরী ব্যবস্থা নেয় তবে সিলিন্ডারের দুর্ঘটনা কমে আসবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাজারে আরো এলপিজি কোম্পানী প্রবেশের অপেক্ষায় আছে এতে কি নতুন সিলিন্ডার ও গ্যাসের দাম কমবে এবং গ্রাহকরা উপকৃত হবে? সাইদুল ইসলাম: ইতোমধ্যে অনেক এলপিজি কোম্পানী বাজারে এসেছে এবং দামও একটা যৌক্তিক পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিণ্ডারের দাম ৯৫০ টাকার মতো। তাই গৃহস্থালীতে রান্নার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারে গ্রাহকরা এখন উৎসাহী হচ্ছে। আমি মনে করি আরো যদি এলপিজি কোম্পানী বাজারে আসে দামের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা উপকৃত হবে। তবে আমি এটাও মনে করি সরকারকে একটা ভারসাম্য অবস্থা তৈরি করে দিতে হবে সিলিন্ডারের চাহিদা ও সরবরাহ এর ক্ষেত্রে। কারণ যতটুকু চাহিদা আছে তার চেয়ে যদি সরবরাহ বেশি হয়ে যায় তাহলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই ব্যবসাতে ধারাবাহিকতা না রাখতে পারলে একটা পর্যায়ে গ্রাহকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এলপিজি তথা অটোগ্যাসকে সিএনজির বিকল্প হিসেবে যানবাহনে ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয় করতে কি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন। আপনার কোম্পানীর অটো-গ্যাস ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা এখন কয়টি? সাইদুল ইসলাম: অটোগ্যাসকে জনপ্রিয় করার জন্য আমরা এলপিজি কোম্পানীগুলো অবশ্যই চেষ্টা করছি। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সরকার বা সরকারি অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে আমাদের অনেক বেশি প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, অটো-গ্যাস স্টেশন স্থাপন করার প্রক্রিয়া অনেক জটিল হয়ে গেছে। এলপিজি অপারেটরদের জন্য এটা খুবই সহজ করে ফেলা উচিত। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের স্বল্পতা রয়েছে। তাই সিএনজির বিকল্প হিসেবে অটো-গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমাদের কোম্পানীর অটো-গ্যাস ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা এখন আটটি। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সব কোম্পানীই চায় বাজারে তাদের প্রভাব ও সুনাম ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হোক-সে হিসেবে আপনার কোম্পানীর অবস্থান সম্পর্কে বলবেন কি? সাইদুল ইসলাম: আমাদের কোম্পানী বাজারে আসার আগে আরো কোম্পানী ছিলো। তবে এটা আমি গর্বের সাথে বলতে চাই, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা ও গুনগতমানের দিক থেকে বাজারে আমরা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আমাদের যে কোনো সাইজের সিলিন্ডার আপনি যে জায়গা থেকে সংগ্রহ করেন না কেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি সেই সিলিন্ডারটা নিরাপদ, সঠিক ওজন পাবেন এবং সিলিণ্ডার ব্যবহার করে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। আপনি লাফস গ্যাসের সিলিন্ডার একবার ব্যবহার করলে বারবার ব্যবহার করতে চাইবেন। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: আপনার কোম্পানীর ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন। সাইদুল ইসলাম: ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হলো সরকারের নিয়ম মেনে ৫,০০০ হাজার টন ক্ষমতার স্টোরেজ ট্যাংকসহ অন্যান্য যেসব নির্দেশনাবলী আছে তা সম্পন্ন করবো। সিলিন্ডার তৈরি করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। এজন্য যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার দরকার তা আমরা করবো।        
‘ডিজেল জেনারেটরের চেয়ে সস্তা ও টেকসই ন্যানো গ্রিড সোলার প্রযুক্তি’
জুলাই ১৫, ২০১৭ শনিবার ০৮:০৯ এএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
সৌর শক্তির জগতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হলো  সোলার ইন্টারকন্টিনেন্টাল লিমিটেড (সোলারিক)। কোম্পানাটি বর্তমানে নানা ধরনের সৌর শক্তি বিষয়ক পণ্য প্রস্তুত করে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপণন করছে। বাংলাদেশে কীভাবে সৌর শক্তির বিস্তার ঘটছে তার বিস্তারিত নিয়ে কোম্পানীটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিদার ইসলাম এনার্জিনিউজবিডি ডটকম সম্পাদক  আমিনূর রহমান এর সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন। রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল(ইপিআরসি)এর গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন বেসরকারি খাতের সফল এই উদ্যোক্তা। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণ নিয়ে আপনার কোম্পানী সম্পর্কে কিছু বলুন। দিদার ইসলাম: একটি বেসরকারি হাইটেক কোম্পানি হিসেবে আমাদের লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি, পণ্য এবং সেবা উদ্ভাবন। দেশের পর বিদেশেও বিপণন করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। গ্রিডবিহীন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পণ্যগুলোর মধ্যে সোলার মাইক্রো ইনভার্টার বিশ্বে প্রথম ও একমাত্র প্রধান প্রযুক্তি। ২০১৫ সালের ২৫ মে সোলারিক তার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) সোলার হোম সিস্টেমস, ব্যাক-আপ সিস্টেমস ও ন্যানো গ্রিড সিস্টেমস উন্নয়ন ও নির্মাণ করে। আমরা ১২০ ভোল্টেজ ডিসি প্রযুক্তির সোলার হোম সিস্টেমস তৈরি করেছি। এর মূল স্বত্ত্বও সোলারিকের। এই গ্রিড-রেডি ডিসি সিস্টেমে ইনভার্টারের সব সুবিধাও পাওয়া যায়। এই প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে গ্রীডবিহীন এলাকার জন্য এলইডিভিত্তিক সোলার হোম সিস্টেমস এবং শহর ও উপশহরগুলোতে এলইডিভিত্তিক লাইটিং সিস্টেম।  নবনির্মিত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনে বিদ্যুৎ সৌর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে সোলারিক উচ্চতর গবেষণা করছে। সরকারের ৩ থেকে ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবেও কাজ করতে চাই আমরা। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইতোমধ্যে মিনি গ্রিড স্থাপন করে আপনার কোম্পানী বেশ সফলতা দেখিয়েছে।  এর পেছনের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করবেন।  দিদার ইসলাম:  জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য সনাক্ত করা এবং যথোপযুক্ত প্রযুক্তি উন্নয়নে গবেষণা ও উন্নয়নে আমাদের জোর প্রচেষ্টার কারণে শুরুতেই আমরা একটি সুসংহত অবস্থান পেয়েছি। পাশাপাশি ব্যবসা উপযোগী মডেল উদ্ভাবনও সোলারিক এর সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সোলারিক বিশ্বাস করে, সোলার সল্যুশন এখন বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর বিকল্প জ্বালানি। ভোক্তা পর্যায়ে এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক মডেল ও ব্যবহারে আরো উদ্ভাবন প্রয়োজন। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এ পর্যন্ত কতগুলো মিনি গ্রিড স্থাপন হয়েছে এবং এর উপকারভোগী গ্রাহক কত? মিনি গ্রিড স্থাপন করে গ্রাহকদের আপনারা কি কি সুবিধা দিয়ে থাকেন? দিদার ইসলাম: গত তিন বছর ধরে দেশের অফগ্রিড এলাকায় এ পর্যন্ত ৪০টি ন্যানো গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। যা থেকে গ্রীডবিহীন এবং সীমিত আকারের গ্রীড এলাকায় এক হাজারের বেশী বাড়ি-দোকানে এগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক আবাসিক এবং কিছুসংখ্যক বাণিজ্যিক। ভোক্তারা এই ন্যানো গ্রীড সোলারকে ডিজেল চালিত জেনারেটর বা আইপিএস এর ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করছে। এই বিদ্যুৎব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে গ্রাহকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। ডিজেল জেনারেটর বা সোলার হোম সিস্টেমের মত অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে এটি সস্তা, টেকসই এবং ব্যবসায়িক কর্মঘন্টা সম্প্রসারণেও সহায়ক। আগামী দুই বছরের মধ্যে আরো ৫০০ ন্যানো গ্রিড সিস্টেম স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে আর কি কি প্রোডাক্ট গ্রাহকদের জন্য আপনারা সরবরাহ করছেন? দিদার ইসলাম: তিন ধরণের পণ্য রয়েছে আমাদের। এগুলো হলো- থ্রিজি সোলার (১০০ ওয়াট পর্যন্ত সোলার হোম সিস্টেম), ন্যানো গ্রীড (৩ কিলোওয়াট) এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেগা রুফটপ (৫০০ কিলোওয়াট)। সবগুলোই কার্যকর সমাধান দিতে পারছে, যাতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন নেই। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বর্তমানে বাংলাদেশে সোলার হোম সিস্টেমস (এসএইচএস) স্থাপনের হার অনেক কমে গেছে। এর প্রধান কারণ সরকার এ পর্যন্ত দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। তাহলে এসএইচএস এর ভবিষ্যত কি শেষ? দিদার ইসলাম:  জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সোলার হোম সিস্টেমস স্থাপন কমে যাচ্ছে আপনার এই কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। আমি মনে করি, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন তথা গ্রামীণ এলাকায় সোলার হোম সিস্টেমস বসানোর সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ নয়। মূল কারণ হলো- এই বাজার এখন দাতা নির্ভর এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এর মাধ্যমে সরকারের ভর্তুকি থেকে অধিকতর টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর বাজারে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই উন্মুক্ত বাজারে মান, সেবা ও ভোক্তা পর্যায়ে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এটি বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত সমাধান বের করার নতুন সুযোগও তৈরি করে। প্রকৃতপক্ষে বাজারে এর চাহিদা কমেনি। বরং গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর সরবরাহকারীর অভাব রয়েছে। আশাকরি, সোলার হোম সিস্টেমস শিগগিরই গ্রীড এলাকাতেও জনপ্রিয়, যা এই খাতে এক নতুন জানালা উম্মোচন করবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সৌর বিদ্যুৎ ভিত্তিক বৃহৎ পরিসরে দেশে এখনো কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। অনেক কোম্পানী সরকারের সাথে চুক্তি করলে তা আলোর মুখ দেখছে না। এর কারণগুলো আপনার কাছে কি মনে হয়? দিদার ইসলাম: বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে থাকার বড় কারণ হলো- অকৃষি জমির অপ্রাপ্যতা ও নির্ভরযোগ্য বিদেশী বিনিয়োগের অভাব। দেশে বড় আকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদেরকে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে।
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
‘বাংলাদেশে এলএনজি আনার আগে আরো চিন্তা ও পরিকল্পনা দরকার’
মে ০১, ২০১৭ সোমবার ০৬:১০ পিএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
ড. ইজাজ হোসেন প্রায় ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক তিনি। মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে গবেষণা করেন এবং পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিস্থিতি নিয়ে এই বিশেষজ্ঞ এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এনার্জিনিউজবিডি ডটকম এর সম্পাদক আমিনূর রহমানকে বিস্তারিতভাবে বলেছেন। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানির প্রধান উৎস গ্যাস যার অর্ধেক সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানী শেভরন। ইতোমধ্যে তারা ব্যবসা গুটিয়ে চীনের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে তাদের সম্পদ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? ইজাজ হোসেন: এটি নিশ্চিতভাবেই ভালো খবর নয়। আমরা বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের সরবরাহের উপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু এই গ্যাসক্ষেত্রটির ব্যবস্থাপনা খুবই জটিল ও কঠিন। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা দিয়ে শেভরন এই ক্ষেত্রটির ব্যবস্থাপনা বেশ ভালোভাবে করছে।নতুন কোম্পানি কিভাবে ক্ষেত্রটি পরিচালনা করে তা দেখার জন্য আমাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া বিবিয়ানার উৎপাদন কমবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তাই গ্যাসক্ষেত্রটির ব্যবস্থাপনা বেশ ভালোভাবেই করতে হবে। তা না হলে গ্যাসক্ষেত্রটি আমরা খুব দ্রুত শেষ করে ফেলবো। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাংলাদেশের স্থলভাগের অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং নতুন স্ট্রাকচার আবিষ্কারের ব্যাপারে সরকার কতটা দায়িত্ববান? ইজাজ হোসেন: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানী লিমিটেডকে (বাপেক্স)সব ধরণের সহায়তা দেয়া সত্ত্বেও কোনো নতুন বড় স্ট্রাকচার আবিষ্কৃত হয়নি। আবার স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর জন্য বিধি-নিষেধ রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার ফলে স্থলভাগের মজুদ ও সম্পদের তথ্য এখনও অনেকটাই অজানা রয়ে গেছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং এর ব্যবহার বাড়াতে ইতোমধ্যে দুইটি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করেছে সরকার। আরো কয়েকটি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করতে চায় এই পদক্ষেপ কতটা ফলপ্রুস হবে? ইজাজ হোসেন: না, অবশ্যই নয়। এলএনজি খুবই ব্যয়বহুল জ্বালানি। বাংলাদেশের বাজারে এলএনজি আনার আগে আরো চিন্তা ও পরিকল্পনা করা দরকার। সব খাতে উচ্চ মূল্যের গ্যাসের প্রভাব কেমন পড়বে তা নিয়ে সঠিক গবেষণা করতে হবে। প্রাথমিক জ্বালানির সব ক্ষেত্র উন্মুক্ত এবং করমুক্ত করা উচিত। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুতের চাহিদার ঘাটতি মেটাতে আমদানির উপর ঝুঁকছে সরকার। এটা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কতটা সহায়ক হবে? ইজাজ হোসেন: এখন পর্যন্ত এটি ঠিক আছে। তবে যদি এটি মোট সরবরাহের ২৫ শতাংশের বেশী অতিক্রম করে তবে দুইটি সমস্যা তৈরি হবে। এক. বিদ্যুতের মত মৌলিক পণ্যের জন্য অন্য দেশের উপর তীব্র নির্ভরশীলতা তৈরি হবে। এটি ভালো হবে না। সরবরাহকারী দেশের অস্থিতিশীলতায় সরবরাহেও বিঘœ ঘটবে। কোনো দেশের সাথে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে যে কোনো সময় নাও থাকতে পারে। দুই. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের মত মূল্যবান সুযোগ হারাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খুবই নিরাপদ এবং আকর্ষণীয় মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। এই ব্যবসাটি ধরতে পারলে এটি দেশে অনেকের চাকরির সুযোগসহ নানা সুবিধা তৈরি করবে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বর্তমানে গ্রীষ্মকাল চলছে এখনো পর্যন্ত লোড-শেডিং এর তেমন বড় কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সরকার বিদ্যুৎ সংকট থেকে গ্রাহকদের মুক্তি দিতে পেরেছে বলে আপনি করেন? ইজাজ হোসেন: হ্যাঁ, বৃহত্তর অর্থে এটি সত্য। শহর এলাকা এখন অনেকটাই লোডশেডিং মুক্ত। কিন্তু গ্রামের মানুষ এখনও ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন। অনেক দিন পর এখন আমরা শুনছি যে এই লোডশেডিং মূলত বিতরণ লাইন এবং সাবস্টেশনগুলোতে ত্রুটি এবং কম ক্ষমতার কারণে। যদি এটি সত্য হয়, তবে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন উন্নত করাটাও সরকারের দায়িত্ব। ভালো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণে সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। আবার আমাদেরকে এটিও স্মরণে রাখতে হবে যে, এ বছর এখনও তেমন গরম পড়েনি। যখন সত্যিকারের গরম পড়বে তখন দেখা যাবে, সরকার পরিস্থিতি কিভাবে সামলায়। আবার লো ভোল্টেজ এবং বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান এজন্য বেশ ভুগছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সরকার সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তেমনভাবে গৃহস্থালিতে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজিকে সবার ঘরে ঘরে পৌঁছানোর মতো কোনো কর্মসূচি নেওয়ার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কি এবং তা কিভাবে হতে পারে? ইজাজ হোসেন: এটি কিভাবে করা হবে তা আমি বুঝতে পারছি না। বর্তমানে এলপিজি’র সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি খাত। তাই প্রথমেই সরকারকে নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণ করে সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং এলপিজি বিতরণে জোর দিতে হবে। এরপর মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। ভর্তুকি যদি না দেয়া হয় তবে অধিকাংশ বাসাবাড়িতেই এলপিজি ব্যবহার করা যাবে না। আবার যদি সব গৃহস্থালিতে এলপিজি’র জন্য ভর্তুকি দেয়া হয় তবে জাতীয় বাজেটে টান পড়বে।
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে তরুণ ও প্রতিষ্ঠিত গবেষকদের উদ্বুদ্ধকরণে নতুন প্ল্যাটফর্ম- ইপিআরসি’
ডিসেম্বর ১০, ২০১৬ শনিবার ১২:১৬ পিএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কর্মকান্ড দিনদিন বাড়ছেই অথচ এই খাতের উন্নয়ন ও উৎকর্ষে গবেষণা কার্যক্রম তুলনামূলক কম। বর্তমান সরকার বিষয়টি অনুধাবন করে গঠন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (ইপিআরসি)। ডঃ আহমেদ কায়কাউস, সরকারের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হলেও গবেষণার প্রতি তাঁর রয়েছে নিবিড় আগ্রহ। বিসিএস (প্রশাসন) ৮৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান এবং একই সঙ্গে ইপিআরসি এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালের মে মাসে বিদ্যুৎ বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে যোগ দেন আহমেদ কায়কাউস। বিগত দুই বছরে এই বিভাগের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ইপিআরসি এর প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবেও নিয়োগ পান তিনি। এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল গঠন, এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এনার্জিনিউজবিডি ডটকম এর সম্পাদক আমিনূর রহমানকে বিস্তারিতভাবে বলেছেন আহমেদ কায়কাউস। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (ইপিআরসি) গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি? আহমেদ কায়কাউস: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যাপক চাহিদা পূরণকল্পে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উৎকর্ষতা আনয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়। উক্ত আইনের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইপিআরসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রায়োগিক গবেষণার ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন, আর্থিক সহায়তা প্রদান, উদ্বুদ্ধকরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বহুমূখী ব্যবহারের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে উক্ত খাতের গবেষণা, গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎকর্ষতা সাধন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ও বিজ্ঞানীদের গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণ ইপিআরসি’র অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: দেশে অন্যান্য খাতেও রিসার্চ কাউন্সিল রয়েছে তাদের থেকে ইপিআরসি’র পার্থক্য কি এবং এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে বলুন। আহমেদ কায়কাউস: দেশের অন্যান্য খাতের গবেষণা কাউন্সিলের সাথে ইপিআরসি’র  মৌলিক তেমন কোন পার্থক্য নেই। তবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিষয়ক প্রায়োগিক গবেষণার ক্ষেত্রে ইপিআরসি বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কার্যক্রম প্রযুক্তিগত দিক থেকে উচ্চমান সম্পন্ন । উক্ত গবেষণা কার্যক্রম উৎকর্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য ব্যাপক আর্থিক ও উচ্চমান সম্পন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি ব্যবহারিক জ্ঞানের আবশ্যকতা রয়েছে। ইপিআরসি উক্ত গবেষণা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার ফলে এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য অনেক রিসার্চ কাউন্সিল থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ওনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনের লক্ষ্যে উহার উপর ব্যাপকভিত্তিক প্রায়োগিক গবেষণার প্রয়োজন অনুভব করেন। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৫ প্রণীত হয়। এছাড়া সরকারের ভিশন-২০২১ এর দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে  জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যাতে উল্লেখ রয়েছে “Reaching middle income status by 2021, while ensuring energy security calls for adoption of a coherent and long-term approach to managing the demand and supply of energy resources.” উক্ত লক্ষ্য অর্জনকল্পে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম আবশ্যক। তাই ভিশন-২০২১ এ বর্ণিত দীর্ঘ মেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কার্যক্রমকে ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নিতে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইপিআরসি। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: ২০১৫ সালে আইন প্রণয়ন এবং কাউন্সিল গঠনের পর কতদূর এগিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আহমেদ কায়কাউস: প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যে ইপিআরসি বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তাবায়ন করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কার্যক্রম হলো- Bangladesh Council of Scientific & Industrial Research(BCSIR)কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন গবেষণা প্রকল্প “Design and Optimization of Parabolic Reflection Type Solar Cooker for Indoor Application” এ অর্থায়ন। এছাড়া Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) এর “Opinion Survey on Power Supply to Households” শীর্ষক জরিপ প্রকল্পে অর্থায়নসহ উক্ত প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। Infrastructure Development Company Ltd (IDCOL) এবং ইপিআরসি’র যৌথ উদ্যোগে গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ ও এতে অর্থায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে IDCOL কর্তৃক প্রস্তাবিত “Energy Utilization of Solar PV Array of  Solar Irrigation and Develop Sustainable Business Model with Remote Monitoring and Payment Gateway for the Off-grid Areas of Bangladesh” শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং উহার দক্ষ ব্যবহার সংক্রান্ত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদানকল্পে কাউন্সিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে পৃথকভাবে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি “Mitigating Challenges in Energy and Power through Research” এবং “Energy Status in Bangladesh Advances in Renewable Energy Field” শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট তরুণ গবেষক এবং উদ্যোক্তাদের গবেষণা কার্যক্রমে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং ইপিআরসি’র বিভিন্ন কার্যক্রমে তরুণ গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ইপিআরসি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট’স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এসাব) এর মধ্যে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ইতোমধ্যে মাননীয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ইপিআরসি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফেইজবুক পেইজ উদ্বোধন করেছেন। এছাড়া International Center for Climate Change and Development (ICCCD), IUB এর সহযোগিতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত সম্বলিত একটি ব্যাপকভিত্তিক ডাটাবেজ প্রস্তুতকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে প্রায়োগিক গবেষণাকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ইপিআরসি গবেষণারত বুয়েটের শিক্ষার্থী এবং এসাব সদস্যদের মধ্য থেকে থিসিস-প্রজেক্ট প্রস্তাব মূল্যায়নপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থীকে গবেষণা অনুদান প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট’স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এসাব) এর সাথে ইপিআরসি’র সমঝোতা স্মারক সই  সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন। আহমেদ কায়কাউস: তরুণ প্রজন্মকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর মধ্যে সম্প্রতি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত সমঝোতা স্মারকে যেসব বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা হলো- (ক) বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন । (খ) সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিরসনকল্পে টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে যৌথভাবে সেমিনার, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, সামিট ইত্যাদির আয়োজন। (গ) বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত Innovative Project-Thesis কার্যক্রমে ইপিআরসি কর্তৃক “Youth Innovation Small Grant” প্রদান। (ঘ) এসাব সদস্যদের মধ্যে থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিষয়ে তরুণ গবেষকগণ যাতে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ব্যবহার করতে পারে সেলক্ষ্যে ইপিআরসি’র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: ইপিআরসি’র অর্গানোগ্রামে কত সংখ্যক জনবল থাকছে? আইন অনুযায়ী প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকবে, তবে দেশের অন্য কোথাও এর শাখা কার্যালয় কার্যালয় চালুর পরিকল্পনা আছে কি? আহমেদ কায়কাউস: ইপিআরসি’র প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামে ১৩১ জন জনবল রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। দেশের অন্য কোথাও এর কোন শাখা কার্যালয় নেই তবে পরবর্তীতে কাউন্সিল দেশের যে কোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: গবেষণাধর্মী এই প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তার বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে? আহমেদ কায়কাউস: ইপিআরসি ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্বল্প ও মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিকল্পনা হলো- (ক) শক্তি ইনস্টিটিউট, University of Hawai এবং Department of Glass and Ceramic Engineering, BUET থেকে কতিপয় গবেষণা প্রস্তাব পাওয়া গেছে।যা পর্যালোচনা করে কাউন্সিল কর্তৃক অর্থায়ন এবং যৌথভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিষয়ক অন্যান্য প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আর্থিক কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। (খ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা আনয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের নিমিত্তে কতিপয় কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। (গ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত ডাটাবেজ প্রস্তুত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। (ঘ) কাউন্সিল গবেষণারত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয়তা সহযোগিতা প্রদান করবে। (ঙ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক সম্ভাব্য বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন এবং উক্ত প্রকল্প সমূহ পর্যালোচনাপূর্বক তা যৌথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাউন্সিল কর্তৃক প্রয়োজনীয় অর্থায়ন। (চ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগার ও গবেষণাগার স্থাপন করা। (ছ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট গবেষকগণের সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে ইপিআরসি  প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতা প্রদান করবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সাধারণত গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচারবিমুখ থাকে। ইপিআরসি কি এর ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করবে? আহমেদ কায়কাউস: ইপিআরসি’র অন্যতম লক্ষ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা আনয়ন। উক্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইপিআরসি সৃজনশীল গবেষকগণের প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে। তরুণ ও প্রতিষ্ঠিত গবেষকগণকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধকরণ এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। কাউন্সিলের কার্যক্রম জনগণকে অবিহত করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে- যা কাউন্সিল আইনের ৫(৮) ধারায় সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক গবেষণালব্ধ ফলাফল ও উহার প্রয়োগ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করিবার উদ্দেশ্যে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা কর্মশালার আয়োজন এবং এতদ সংশ্লিষ্ট প্রকাশনার ব্যবস্থা গ্রহণ” গবেষকগণ যাতে ইপিআরসি’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনায়াসে অবহিত হতে পারে এবং এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত হয়ে তাদের গবেষণা কার্যক্রমকে আরো ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নিতে পারে সে লক্ষ্যে কাউন্সিল সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।  
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
‘বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন শুরু হবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে’
আগস্ট ১০, ২০১৬ বুধবার ১০:১৯ পিএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুতগতিতে কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে।এজন্য পাবনার রূপপুরে নির্মাণ হচ্ছে ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটিই হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন একটি নির্ভরযোগ্য উপায়। মাত্র এক গ্রাম ইউরেনিয়াম-২৩৫ জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপন্ন করা যায় দুই হাজারেরও বেশি কিলোওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তি যা কয়েক টন কয়লা পুড়িয়ে পাওয়া যায়। তাছাড়া এ উপায়ে উৎপন্ন বিদ্যুতের খরচ অন্যান্য প্রচলিত উপায়ে উৎপন্ন বিদ্যুতের খরচের তুলনায় অনেক কম। তবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি মানব সম্পদ উন্নয়ন থেকে শুরু করে রি-অ্যাক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় তবে এটি বাংলাদেশের জন্য হবে আর্শীবাদস্বরূপ। আর তা না হলে হবে দুর্দশার জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। বাংলাদেশ কিভাবে এবং কবে থেকে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এ সব বিষয় নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের প্রাণ-পুরুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এনার্জিনিউজবিডি ডটকম সম্পাদক আমিনূর রহমান এর কাছে বিস্তারিত বলেছেন। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে বলুন? ইয়াফেস ওসমান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ১১.৩৮৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি (স্টেট ক্রেডিট) গত ২৬ জুলাই সই করেছে। এর আগে গত ১৯ মে ২০১৬ চুক্তিটি অনুস্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হয়েছে। এখন শুরু হবে নির্মাণ কাজ। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের শুরু কিভাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে কবে? ইয়াফেস ওসমান: বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ হবে দুইটি পর্যায়ে। বর্তমানে প্রথম পর্যায় অর্থাৎপ্রস্তুতিমূলক পর্যায়ের (২০১৩-১৬) কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ২ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি (Inter Governmental Agreement-IGA) এবং প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ক্রেডিট চুক্তির ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন (১ম পর্যায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপরোক্ত চুক্তি সমূহের ধারাবাহিকতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়ান ফেডারেশনের নির্ধারিত ঠিকাদার এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট-এর সঙ্গে ইতোমধ্যে ৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১ম চুক্তি ও ২য় চুক্তির আওতায় মাঠ পর্যায়ের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং সার্বিকভাবে ৪র্থ চুক্তি পর্যন্ত ৮০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে।      সার্বিকভাবে প্রথম পর্যায়ের ৮০% কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২০% কাজ ডিসেম্বর ২০১৬ এর মধ্যে সমাপ্ত হবে।  আর দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থাৎ মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের সিডিউল অনুযায়ী প্রথম কনক্রিট (First Concrete) স্থাপন শুরু হবে ২০১৭ সালের আগস্টে।  প্রথম ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু (Provisional Takeover) হবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালু হবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে।  এছাড়া চূড়ান্তভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট বুঝে নেওয়া (Final Takeover) হবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৫ সালের অক্টোবরে।  “General Contract (সাধারণ চুক্তি) এর শর্তানুযায়ী এর ব্যয়ের মধ্যেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আনুমানিক ৩-৪ বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ান ফেডারেশন।” এনার্জিনিউজবিডি ডটকম:  এ পর্যন্ত এই কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কতটুকু প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং কি কি কাজে?  ইয়াফেস ওসমান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে প্রকল্পের আওতায় রাশিয়ান ফেডারেশনের নির্ধারিত ঠিকাদার এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট-এর সঙ্গে ইতোমধ্যে ৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।  ১ম চুক্তির মাঠ পর্যায়ের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ২য় চুক্তির মাঠ পর্যায়ের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ৩য় চুক্তির Preparatory Stage পর্যায়ের Civil construction and Erection Works সংক্রান্ত ৩য় চুক্তির অধীন প্রায় ৭১% সমাপ্ত হয়েছে। ৪র্থ চুক্তি গত ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৪র্থ চুক্তির বাস্তবায়ন কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাস্তবায়ন অগ্রগতি দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, ৪র্থ চুক্তির সকল কার্যাদি যথাসময়ে সম্পন্ন হবে।  প্রকল্পের শুরু থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত  সর্বমোট  ৪ হাজার ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।  প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে  প্রকল্পের আওতায় কার্যাবলী গুলো হচ্ছেঃ  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় স্টাডি, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভে, পরিবেশগত সমীক্ষা এবং কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডিজাইন ও কারিগরি ডকুমেন্টেসন প্রণয়ন এবং অত্যাবশ্যকীয় নির্মাণ কাজের জন্য ডিজাইন ও ওয়ার্কিং ডকুমেন্টেসন প্রণয়ন। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সাইট ডেভেলমেন্ট এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ সকল ধরণের প্রস্তুতিমূলক নির্মাণ কাজ যা প্রকল্পের অধীনে ৩য় ও ৪র্থ চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: রূপপুর কেন্দ্র চালু হওয়ার পর এর মেরামত ও সংরক্ষণ ব্যয় রাশিয়ান ফেডারেশন নাকি বাংলাদেশ বহন করবে?  ইয়াফেস ওসমান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর এর মেরামত ও সংরক্ষণ ব্যয় বাংলাদেশ বহন করবে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সাধারণ চুক্তি (General Contract) হয়েছে। এ চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য দিক কি কি?  ইয়াফেস ওসমান: গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পর্যায়ের নির্মাণ কাজের জন্য General Contractস্বাক্ষরিত হয়েছে। স্বাক্ষরিত General Contract এর সর্বমোট মূল্য ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । যার মধ্যে জিওবি অংশ (১০%) ১.২৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের State Credit (৯০%)১১.৩৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। General Contract এর অধীনে সম্পাদিতব্য কার্যাদিসমূহ: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২ বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, কমিশনিং ফাউন্ডেশন এর জন্য প্রয়োজনীয় মাটির ভরন শক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং সাইট পর্যন্ত পরিবহন। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিউক্লিয়ার জ্বালানি সরবরাহ। Commissioning পর্যায় থেকে Warranty Operation পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে কারিগরি সহায়তা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার আলোকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং এবং পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দলিলাদি প্রণয়ন ও কার্যাদি সম্পাদন এবং এতদবিষয়ে সহযোগিতা প্রদান। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রশিক্ষণ। প্রয়োজনীয় সকল সুবিধাদিসহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা। প্রকল্প এলাকা লোডিং/আনলোডিং সুবিধাসহ বার্থ/জেটি নির্মাণ এবং জেটি হতে প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ। বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ও জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ব্যবস্থায় নিয়োজিত জনবল প্রশিক্ষণ।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম:  পারমাণবিক চুল্লির জন্য জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া; কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় সাধারণ চুক্তিতে নেই। এ জন্য আলাদাভাবে চুক্তি কবে হতে পারে?  ইয়াফেস ওসমান:  রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির শর্তানুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি রাশিয়ান ফেডারেশন আজীবন সরবরাহ করবে।  General Contract (সাধারণ চুক্তি) এর শর্তানুযায়ী এর ব্যয়ের মধ্যেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আনুমানিক ৩-৪ বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ান ফেডারেশন । তবে জ্বালানী সরবরাহের জন্য পৃথক চুক্তি করতে হবে এবং এ চুক্তির শর্তাবলী নির্ধারণ করে পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময় তা স্বাক্ষর করা হবে। ”২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের Economic Life ৫০ বছর হলেও প্লান্টটি থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে বলে আশা করা যায়।” এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: স্পেন্ট ফুয়েল (Spent Fuel) তথা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাশিয়া করবে এবং সেই ফুয়েল তারা তাদের দেশে নিয়ে যাবে এ বিষয়টি নিয়ে কি পৃথক কোন চুক্তি হচ্ছে ? এ ফুয়েল নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যয় বহন করবে রাশিয়া না কি বাংলাদেশ?  ইয়াফেস ওসমান:  IGA এর শর্তানুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের Spent Fuel রাশিয়ান ফেডারেশন ফেরত নিয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র IGA স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উল্লিখিত Spent Fuel Management IGA স্বাক্ষরের পর স্পেন্ট ফুয়েল ফেরত নেয়া সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?  ইয়াফেস ওসমান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় ১,৯২৭ জন জনবল চিহিৃত করা হয়েছে। General Contract এর অধীনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  লাইসেন্সিং কাজ সম্পাদনসহ, রি-অ্যাক্টর প্ল্যান্ট পরিচালনে দক্ষ জনবল, ফুয়েল হ্যান্ডিলিং, তেজস্ক্রিয় পদার্থ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ কারিগরি ক্ষেত্রে সর্বমোট ১,১২০ জনকে রাশিয়ান ফেডারেশন হতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।  প্রশাসনিক ও অন্যান্য কারিগরি জনবল আনুমানিক ৮০৭ জনকে রাশিয়ান ফেডারেশনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সহায়তায় বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।   এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এ কেন্দ্রটি নির্মাণের পরিকল্পনার পর থেকে কি কি ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন এবং সামনে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করেন কি?  ইয়াফেস ওসমান: Capital Intensive এবং High Technology Based প্রকল্প বাস্তবায়নে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকে।  পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দায়বদ্ধতার কথাটি বিবেচনায় এনে  প্রকল্প বাস্তবায়নের যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার দৃঢ়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেমন: ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনের জন্য নৌপথ ও রেলপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হচ্ছে।  মানব সম্পদ উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে দেশীয় জনবল তৈরির লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিকুলাম অর্ন্তভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।  বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে Nuclear Engineering (NE) শিক্ষা চালু হয়েছে। রেগুলেটরি অথরেটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। রাশিয়ান ফেডারেশনের সহায়তায় রাশিয়ায় এমএসসি (Msc) পর্যায়ে Nuclear Science and Technology  বিষয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা হচ্ছে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কতটুকু ভূমিকা রাখবে বলে আপনি মনে করেন?  ইয়াফেস ওসমান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। যেমন:  রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থায় কার্বন নিঃসরণ হয় না। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়াতে হবে। আর ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হলে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার “ভিশন-২০২১” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা (Power Sector Master Plan) গ্রহণ করেছে। সরকারের এ মহাপরিকল্পনায় ২৪,০০০ মেগাওয়াট এর ১০% বিদ্যুৎ পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে উৎপাদনের উদ্দেশ্যে রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।                                       ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের Economic Life ৫০ বছর হলেও প্লান্টটি থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে বলে আশা করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমাদের জায়গার স্বল্পতা এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা মাথায় রাখলে ব্যাপক ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ছাড়া কোন বিকল্প নেই। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের স্বল্প জায়গায় অনেক বেশী সময় ধরে অনেক বেশী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।       সবশেষে এর মাধ্যমে জ্ঞানবিজ্ঞানের যে সুদূরপ্রসারী দ্বার আমাদের সামনে উন্মুক্ত হচ্ছে তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে হবে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম:  বাংলাদেশে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আপনাদের রয়েছে তার কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে? ইয়াফেস ওসমান: ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, Public Works Department (PWD) এবং Power Grid Company of Bangladesh Ltd (PGCB) এর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কমিটি প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যাদি সম্পাদন করেছে।  প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও ফেনী জেলাতে মোট আটটি পৃথক সাইট চিহ্নিত করা হয়েছে। বিস্তারিত Feasibility Study সম্পাদন করে সাইট চূড়ান্ত করা হবে।    
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
‘পিডিবি’র বড় অর্জন দেশের ৭৬ শতাংশ এলাকা এখন বিদ্যুতের আওতায়’
জুন ১৬, ২০১৬ বৃহস্পতিবার ১১:২৭ এএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবার ঘরে ঘরে ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক বেসরকারি খাত থেকে আসছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে। বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সাথে পিডিবি’র বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. শামসুল হাসান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর অঙ্গীকার এবং বেসরকারি খাতসহ অন্যান্য বিষয়ে সম্প্রতি এনার্জিনিউজবিডি ডটকম সম্পাদক আমিনূর রহমান এর কাছে এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেছেন শামসুল হাসান মিয়া।   এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পিডিবি) প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছে। আপনি নিজেও ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে এ সংস্থাটির সাথে সম্পৃক্ত। পিডিবি’র কার্যক্রমকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? মো. শামসুল হাসান মিয়া: ১৯৭২ সালের ১ মে এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। সেসময় একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিডিবি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও সরবরাহ করতো। সময়ের ব্যবধানে এবং চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও সরবরাহের জন্য পৃথক কোম্পানী গঠন করা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার প্রায় পুরোটাই সামাল দিচ্ছে পিডিবি। সেই সাথে কিছু কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহও করছে। তবে সঞ্চালনের কাজটি করছে পিডিবি’র একটি কোম্পানী। পিডিবি’র সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সারাদেশের প্রায় ৭৬ শতাংশ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। সরকারের ঘোষণা আছে, ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু পিডিবিসহ বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য সংস্থা ও কোম্পানীগুলো চেষ্টা করছে ২০১৮ সালের মধ্যে এ কাজটি সম্পন্ন করতে। আশাকরি, আমরা সেটি করতে সফল হবো। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎ খাতে কোম্পানী গঠন করে কতটা সফলতা পাওয়া গেছে বলে আপনি মনে করেন? শামসুল হাসান: এটা সরকারের নীতিগত ব্যাপার। তবে সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে যেকোনো কিছুরই সফলতা আসে। সঠিক ও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারলে এ খাতের কোম্পানীগুলোকে আরো উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সরকারের ও পিডিবি’র কোম্পানীগুলো এখন ভালোমতো কাজ করছে। তবে কোম্পানীগুলোর কার্যক্রম আরো সুচারুভাবে মনিটরিং করার প্রযোজন এবং নজর দেওয়ার সময় এসেছে। “সরকারের ও পিডিবি’র কোম্পানীগুলো এখন ভালোমতো কাজ করছে। তবে কোম্পানীগুলোর কার্যক্রম আরো সুচারুভাবে মনিটরিং করার প্রযোজন এবং নজর দেওয়ার সময় এসেছে।” এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ আসে বেসকারি খাত অর্থাৎ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার বা আইপিপি থেকে। আপনি দীর্ঘদিন ধরে আইপিপি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে জড়িত ছিলেন। এ খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এর উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? শামসুল হাসান: এটি সত্য যে, মোট বিদ্যৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক বেসরকারি খাত থেকে আসছে। সরকার চায় সব সময় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে। এ খাতের প্রকল্পের অর্থায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সরকারের একার পক্ষে তা সামাল দিয়ে উঠা সম্ভব হয় না। সেজন্যই বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের দুই-একটি কোম্পানী বাদে বাকিগুলো দক্ষ ও যোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চাহিদা মেটাচ্ছে। এটিই এ খাতের সবচেয়ে বড় সফলতা। আর এ খাতের উদ্যোক্তারা অনেক সাহসী ও বিচক্ষণ বলেই সমানতালে সরকারের পাশাপাশি নিরলসভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেসরকারি কোম্পানীগুলো চায় তারা নিজেরা তরল জ্বালানি তথা ডিজেল, ফার্নেস অয়েল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে। এটি এ খাতের জন্য কতটা সহায়ক। শামসুল হাসান: এখন বেশ কয়েকটি কোম্পানী তরল জ্বালানি মূলত ফার্নেস অয়েল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন যে তেল আমদানি করে তার কোয়ালিটি নিয়ে কোম্পানীগুলো প্রায়ই অভিযোগ তোলে। এজন্য কোম্পানীগুলোকে তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন আর দোষারোপ করার জায়গাই নেই। আর নিজেদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনের স্বার্থেই তারা ভালোমানের তেল আমদানি করবে এটাই স্বাভাবিক। এটি বরং পিডিবি এবং কোম্পানীগুলোর জন্য ভালো। “পিডিবি’র আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৭০ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানো হয়েছে। আরো ১ লাখ ৩৯ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে সিস্টেম লস কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে।” এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে কেন এতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? শামসুল হাসান: এক কথায় বলতে গেলে প্রাকৃতিক গ্যাসের স্বল্পতা। এখনো দেশের সিংহভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় গ্যাস থেকে। আর এ জ্বালানি সরবরাহ করে পেট্রোবাংলা। ইতোমধ্যে পেট্রোবাংলা বলেছে, তারা নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আর গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে না। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন তো থামিয়ে রাখা যাবে না। কারণ, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে বিদ্যুৎ। তাই গ্যাসের স্বল্পতা আর কমমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে জোর দেওয়া হচ্ছে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টসহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ রয়েছে যেখানে মূল শহরে পর্যন্ত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি আর অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনার ফলে পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব মুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি আমাদের দেশে বড়পুকুরিয়ায় অবস্থিত পুরানো প্রযুক্তি অর্থাৎ সাব-ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এ পর্যন্ত এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের কথা শোনা যায়নি। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ৫৯টি দেশে কয়লা থেকে ১৪ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবে ভারত ও চীনে। উন্নত দেশে গড়ে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের হার বছরে যেখানে ২০ টন-সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ০.২৫ টন। তবুও দূষণের মাত্রা নূন্যতম পর্যায়ে রাখতে বদ্ধপরিকর সরকার। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গতি এতো শ্লথ কেন? পিডিবি’র কি কি পরিকল্পনা আছে এ খাত নিয়ে? শামসুল হাসান: নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি উৎস আছে যেমন- সৌরশক্তি, জল, বায়ু ইত্যাদি। এর মধ্যে প্রধানত সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে পিডিবি। সৌরশক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে জায়গা এবং এর প্রকল্প ব্যয়ই একটি বড় অন্তরায়। কারণ ১ মেগাওয়াট সৌরশক্তির বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে চার একর জায়গা লাগে। সে হিসাবে ১০০ মেগাওয়াটের জন্য ৪০০ একর জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু চাইলেই সে জায়গা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কাপ্তাইতে ৭ মেগাওয়াট, টেকনাফে ২০০ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ৫০ মেগাওয়াট এবং রংপুরে ৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য হাইড্রোবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। “২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ৫৯টি দেশে কয়লা থেকে ১৪ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবে ভারত ও চীনে।”  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: ভারতসহ সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে কেন বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে? শামসুল হাসান: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করতে চায় সরকার। বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রাথমিক জ্বালানি এবং জায়গা আমাদের দেশে সহজলভ্য নয়। সেইসঙ্গে অর্থায়নের বিষয়টি জড়িত। এসব বিষয় মাথায় রেখে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরো করা হবে। ইতোমধ্যে ভারতের আদানি গ্রুপের সাথে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া রিলায়েন্সসহ অন্যান্য কোম্পানীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সম্প্রতি দেশের দশটি স্থানে বেসরকারি খাতে তেলভিত্তিক ১০০ মেগাওয়াট করে মোট ১,০০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কেন? শামসুল হাসান: বেশকিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবসরে গেছে এবং আগামী দুই এক বছরের মধ্যে আরো কয়েকটি অবসরে যাবে। এ কারণেই মূলত এ কেন্দ্রগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্যাসের স্বল্পতা থাকায় এ মূহুর্তে আর বিকল্প কিছু নেই। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য কি কি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে? শামসুল হাসান: পিডিবিসহ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানীগুলো প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম ব্যাপকভাবে চালু করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পিডিবি’র আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৭০ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানো হয়েছে। আরো ১ লাখ ৩৯ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে সিস্টেম লস কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সরকারের নির্দেশনা রয়েছে পিডিবিকে পেট্টোবাংলার ন্যায় করপোরেশনে রূপান্তর করার জন্য। এ ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? শামসুল হাসান:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মতো পিডিবিকে করপোরেশনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজটি কিভাবে করা যায় সেজন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আগ্রহপত্র (ইওআই) চাওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই ওই প্রতিষ্ঠানটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
‘২০১৯ সালে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হবে’
এপ্রিল ০৪, ২০১৬ সোমবার ০৩:০৭ পিএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
সরকার বাগেরহাটের রামপালে ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটি নির্মাণ হলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। তবে এ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ ও নানা বির্তক চলছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এনার্জিনিউজবিডি ডটকম সম্পাদক আমিনূর রহমান এর কাছে এক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে বলেছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশীপ পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউ কে ভট্টাচার্য।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: আপনার কোম্পানি এবং ১,৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার মৈত্রী সুপার তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কী?  ইউ কে ভট্টাচার্য: মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে গত ৩১ জানুয়ারি ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেডের (ভেল) বিপরীতে নোটিস অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয়েছে।  আর্থিক হিসাব চূড়ান্তকরণের কাজও শেষ পর্যায়ে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল জায়গার ভূমি উন্নয়ন সম্পন্ন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।  নির্মাণ কাজের জন্য ৩৩ কেভি ক্ষমতার একটি সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। রাস্তাঘাট, অফিস, আবাসিক ভবন, ভান্ডার, নিরাপত্তা চৌকির মত প্রাথমিক অবকাঠামোগুলোর নির্মাণ কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে এগুচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য রিভার অসমোসিস পানিকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করার পর প্রকৌশল ও নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।  “বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প। অর্থায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এর জন্য বিশাল তহবিল সংগ্রহ করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।”     সাত মাসের মধ্যে আর্থিক হিসাব চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ করার প্রচেষ্টা চলছে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী?  ইউ কে ভট্টাচার্য:  বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প। অর্থায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এর জন্য বিশাল তহবিল সংগ্রহ করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।  প্রকল্প এলাকার নাজুক মাটি, অতিবৃষ্টি এবং বাতাস উচ্চ প্রযুক্তির প্রকল্পটির জন্য বড় ধরণের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। সমুদ্র এবং পশুর নদী দিয়ে কয়লা পরিবহণ করা হবে। বাংলাদেশে এর নির্মাণ সামগ্রী ও মেশিনারির অপ্রতুলতার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে।  এ কারণেও নির্দিষ্ট সময়ে ও বাজেটের মধ্যে থেকে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা কঠিন।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কারণে ভবিষ্যতে সৃষ্ট দূষণ প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?  ইউ কে ভট্টাচার্য:  সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটারের নিরাপদ দূরত্বে মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অবস্থান। সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছের হেরিটেজ সাইট থেকে কেন্দ্রটি ৬৯ কিলোমিটারেরও বেশী দূরে অবস্থিত।  কেন্দ্রটি থেকে সুন্দরবনের বিপরীতে বাতাস বহমান। সর্বোপরি, বিআইএফপিসিএল ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আইএফসি নির্ধারিত পরিবেশ সুরক্ষার মান রক্ষা করছে।   পরিবেশ সুরক্ষায় যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে তার মধ্যে কয়েকটি হলো-  আধুনিক ও কার্যকরী সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি। এটি উচ্চ বাস্পীয় তাপ ও চাপ সমৃদ্ধ। ফলে কয়লার ব্যবহার ও গ্রিন হাউস গ্যাস নি:সরণ কমবে। আমদানিকৃত কয়লায় অপেক্ষাকৃত কম সালফার এবং ছাইয়ের উপাদান কম থাকবে। কয়লার ভান্ডার ও পরিবহনকারী যানবাহন সম্পূর্ণভাবে ঢাকা থাকবে। নাইট্রোজেন অক্সাইডের মাত্রা কমানোর জন্য উচ্চপ্রযুক্তির বার্ণার নকশা করা হয়েছে। ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছনতার জন্য থাকছে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ইএসপি (৯৯ দশমিক ৯%)। বায়ু দূষণ এবং সালফার অক্সাইডের মাত্রা কমাতে  ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন সিস্টেমের ব্যবস্থা থাকবে। ২৭৫ মিটার (৯০০ ফুটের বেশী) উচ্চতার চিমনী থাকবে। ছাইয়ের শতভাগ ব্যবহার করা হবে। পানি পুন:প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিতে আধুনিক শীতলকরণ টাওয়ার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ব্যাপক আকারে বনায়ন করা হবে। পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: প্রকল্পটি শেষ করার পর সুন্দরবনের প্রাণী কিংবা প্রতিবেশের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কী?  ইউ কে ভট্টাচার্য: সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে কেন্দ্রটির অবস্থান। এছাড়া অনেক আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তাই সুন্দরবনের প্রাণী ও প্রতিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আগে থেকে বলতে পারি না।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: স্থানীয়দের জন্য কী ধরণের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) পালন করা হচ্ছে? ইউ কে ভট্টাচার্য: প্রকল্প এলাকায় প্রায় দুই বছর আগে থেকে চিকিৎসাসেবা শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়দেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ দেয়া হয়।  পার্শ্ববর্তী স্কুল ও কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরো শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের পরামর্শ নিয়ে স্থানীয় মানুষ ও প্রকৃতির উন্নয়নের জন্য আরো কিছু সিএসআর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।  সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের গৃহীত একটি প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে ৩ পয়সা লেভি নিয়ে একটি ফান্ড গঠন করা হবে।  ফান্ডে বার্ষিক ২৭ কোটি টাকা জমা পড়বে। স্থানীয়দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: প্রকল্পটির বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ ও আন্দোলন সম্পর্কে আপনার মতামত কী?  ইউ কে ভট্টাচার্য: আমি আগেও ব্যাখা করেছি, এ প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব এবং সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি করবে না। বরং প্রকল্পটিতে অনেক স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে সুন্দরবনের উপর তাদের নির্ভরতা কমবে। এটি স্বাভাবিকভাবেই বন সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নতুন কোম্পানি হিসেবে কী ধরণের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করেছেন? ইউ কে ভট্টাচার্য: আধুনিক ও প্রগতিশীল কোম্পানি হিসেবে আমরা সবার জন্য সমান সুযোগ ও মানবিক দৃষ্টিকোণ রক্ষা করি। এটিই আমাদের মানবসম্পদ নীতির মূলনীতি।  মেধার স্বীকৃতি এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমরা শিল্প এবং এ ধরণের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো করব। কোম্পানিকে দক্ষতার সাথে এগিয়ে নেয়ার জন্য দৃঢ় মানসিকতার ও ত্যাগী কর্মীবাহিনী গড়ার প্রতি আমাদের নজর রয়েছে।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য কী ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে?  ইউ কে ভট্টাচার্য: নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের জন্য পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও উচ্চ সক্ষমতার সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর বাষ্পীয় তাপ হবে সর্বোচ্চ ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাষ্পীয় চাপ হবে সর্বোচ্চ ২৭০ বার।  এই প্রযুক্তি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কম কয়লা পুড়িয়ে সক্ষমতা বাড়াবে। অনেক কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে এটি কম গ্রিন হাউস গ্যাস নি:সরণ করবে। এছাড়া সর্বশেষ অটোমেশন প্রযুক্তি এতে ব্যবহার করা হচ্ছে।  “২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটটি উৎপাদনে আসবে এবং পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটিতে উৎপাদন শুরু হবে। তবে বিআইএফপিসিএল নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মাণকাজ শেষ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে আনার চেষ্টা করছে।”     এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মাধ্যমে জীবনযাত্রা উন্নয়নে মানুষের আশা ও আকাঙ্খার কতটুকু প্রতিফলন ঘটবে?  ইউ কে ভট্টাচার্য: প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন মূল্য থেকে ৩ পয়সা লেভি দিয়ে একটি তহবিল গঠন করা হবে। এটি স্থানীয়দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।  এর মধ্যে থাকবে- ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য চাকরির সুযোগ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। স্থানীয়দের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা। নগরায়ন এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও এর নানা সুবিধা।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: কেন্দ্রটি থেকে কখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে?  ইউ কে ভট্টাচার্য: আর্থিক হিসাবাদি নিষ্পন্ন করার পরবর্তী ৪১ মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি নির্মাণ শেষ হবে।  এরপরই এটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটটি উৎপাদনে আসবে এবং পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটিতে উৎপাদন শুরু হবে। তবে বিআইএফপিসিএল নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মাণকাজ শেষ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে আনার চেষ্টা করছে।
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
‘রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তি ভিভিইআর-১২০০ ব্যবহার হবে’
মার্চ ১২, ২০১৬ শনিবার ১২:৪৪ পিএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
পাবনার রূপপুরে দেশে প্রথমবারের মত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হতে যাচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশন ‘রোসাটম’ এটি নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি এর জ্বালানিও সরবরাহ করবে। বিশ্বে নির্মাণাধীন পরমাণু রি-অ্যাক্টরগুলোর ৩৭ শতাংশই নির্মাণ করছে রোসাটম। রোসাটমের আমন্ত্রণে রাশিয়ার ভলগোডস্কে রোস্তভ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট পরিদর্শন করেছেন সাংবাদিক ফয়সাল মাহমুদ। সেখানে তিনি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তার বিভিন্ন প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব-ব্যাখ্যা দেন রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেএসসি-এআইএইপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রূপপুর পরমানু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে রাশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ম্যাকসিম  ভি ইলচিশেভ। সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত এনার্জিনিউজবিডি ডটকম এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: রাশিয়ার নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি কতটুকু নিরাপদ? পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া কি ‘স্টেট অব আর্ট টেকনোলজি’ ব্যবহার করে? ম্যাকসিম  ভি ইলচিশেভ: রাশিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) নির্ধারিত নিরাপত্তার মানদণ্ড মেনে চলে। সে অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নকশা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। রাশিয়ান প্রযুক্তিতে পরিচালিত কেন্দ্রগুলো সমস্যা ছাড়াই দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রকল্পগুলোতে নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কারণে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ইস্যুতে রাশিয়া নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। এই প্রযুক্তির লক্ষ্যই থাকে পরমাণু বিকিরণ থেকে কেন্দ্র পরিচালনার সাথে জড়িত ব্যক্তি, জনগণ ও পরিবেশকে রক্ষা করা। কেন্দ্র পরিচালনার সকল ধাপ এবং দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই নিরাপত্তা প্রযুক্তি-ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব নিউক্লিয়ার অপারেটরস’র আস্থাও অর্জন করেছে রাশিয়ান রি-অ্যাক্টর। রাশিয়ার প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু সময়ের ফ্রেমেই পরীক্ষিত নয়, এগুলো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিও ভালোভাবে উতরে গেছে। ২০০৪ সালের সুনামিতে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুদানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো টিকে গেছে। স্বাধীন ও স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংঠনগুলোর পর্যবেক্ষণে রাশিয়ার পরমাণু কেন্দ্রগুলো নিরাপদভাবে ও আস্থার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। গত ৫ বছরে রাশিয়ার কোনো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। আস্থা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিকে ছাড়িয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। "রাশিয়ার প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু    সময়ের ফ্রেমেই পরীক্ষিত নয়, এগুলো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিও ভালোভাবে উতরে গেছে। ২০০৪ সালের সুনামিতে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুদানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো টিকে গেছে।"     রি-অ্যাক্টর প্লান্টগুলোর নিজস্ব প্রোটেকশন, বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যারিয়ার ও সেফটি চ্যানেলগুলোর বহু ডুপ্লিকেশন এবং একটিভ ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম ব্যবহারের মত বৈশিষ্ট্যের কারণে রাশিয়ান পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অনেক বেশী নিরাপদ। সর্বোপরি নির্মাণ স্থান নির্ধারণ থেকে কেন্দ্র পরিত্যক্ত করার সব স্তরের জীবন চক্রে নিরাপত্তা সংস্কৃতি মেনে চলা হয়। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রযুক্তির সুবিধা কী? অন্য কোথায় রোসাটম এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে? ম্যাকসিম: রূপপুর প্রকল্পে তৃতীয় প্লাস প্রজন্মের প্রযুক্তি ভিভিইআর-১২০০ ব্যবহার করা হবে। রাশিয়ার এ প্রযুক্তি আইএইএ’র আধুনিক চাহিদাগুলো এটি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ভিভিইআর প্রযুক্তিটির  উন্নয়ন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং এটি ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা ছাড়াই বহুবছর ধরে সফলভাবে ভিভিইআর পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এক হাজার ৪০০ এর বেশী রি-অ্যাক্টর বসানো হয়েছে। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন দেশে ভিভিইআর রি-অ্যাক্টর সমৃদ্ধ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভিভিইআর ১২০০ এর ভিত্তি হচ্ছে ভিভিইআর ১০০০ প্রযুক্তি। রাশিয়ায় ১১টির পাশাপাশি বুলগেরিয়া ২টি, ইউক্রেনে ১৩টি, চেক প্রজাতন্ত্রে ২টি, ভারতে ২টি, ইরানে ১টি এবং চীনে ২টি এমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।  ২০১৪ সালে ভিভিইআর ১০০০ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয় রাশিয়ার রোস্তভ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটে। ভারতের কুদানকুলাম বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটেও এটি বাস্তবায়ন করা হয়, যা ২০১৩ সালে ভারতের জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয় এবং ২০১৪ সালের জুলাইতে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৫ সালের জুনে এর ‘প্রতিরোধী রক্ষনাবেক্ষন’  শুরু হয়ে পরে ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুদানকুলাম  বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রীডের সাথে পুন:সংযোগ পায়। বর্তমানে এটি ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রি-অ্যাক্টর। ২০১০-১১ সালে ভারত সরকার নির্ধারিত উৎপাদন মূল্যহারই এখন পর্যন্ত রক্ষা করা হচ্ছে। কুদানকুলামের দ্বিতীয় ইউনিটটির কাজ ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে শেষ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিষয়ক সবচেয়ে পুরনো ম্যাগাজিন পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ভারত ও ইরানে রাশিয়ান প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ২০১৪ সালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ শ্রেণীর ‘প্রজেক্টস অব দি ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভিভিইআর সমৃদ্ধ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তৃতীয় প্লাস প্রজন্মের। এর সক্রিয় এবং নিষ্ক্রিয় ব্যবস্থা রয়েছে। "২০১৪ সালে ভিভিইআর ১০০০ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয় রাশিয়ার রোস্তভ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটে। ভারতের কুদানকুলাম বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটেও এটি বাস্তবায়ন করা হয়, যা ২০১৩ সালে ভারতের জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয় এবং ২০১৪ সালের জুলাইতে পরিপূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।"                                                 বর্তমানে ভিভিইআর প্রযুক্তিতিতে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। যেমন: নভোভরোনেজ এনপিপি-২ এর প্রথম ইউনিটের কাজ ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে। এ বছরের প্রথম ভাগেই এটি চালু করা হবে। বেলারুশে নির্মাণাধীন কেন্দ্রটির একটি ইউনিট ২০১৮ সালে এবং অপর ইউনিটটি ২০২০ সালে চালু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইভাবে ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও মিশরে কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাংলাদেশে পারমাণবিক রি-অ্যাক্টর এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি কিভাবে পরিবহণ করা হবে? এ ব্যাপারে রাশিয়া কি কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে? ম্যাকসিম: রূপপুর প্রকল্পের ডকুমেন্টশনের অংশ হিসেবে বিশাল ও ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহণের বিষয়টি যাচাই করতে বুলগেরিয়ায় একটি যাচাই পরীক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশে ১০০ টন পর্যন্ত ওজনের যন্ত্রপাতি রেল কিংবা সড়ক পথে পরিবহণ করা হবে। পারমাণবিক রি-অ্যাক্টর ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রগুলো জলপথে আনা হবে। মংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে এ বন্দর দিয়ে এগুলো সরবরাহ করা হবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: রোসাটম কিভাবে স্পেন্ট ফুয়েল এবং  রেডিও অ্যাকটিভ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে? ম্যাকসিম: রোসাটম শুধু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই নির্মাণ করে না, এটি স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কেন্দ্রের কমপ্লেক্স গড়ে তুলে এবং সমন্বিত সমাধান তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে। স্থানীয় শিল্পের সংশ্লিষ্টতা ও উন্নয়নে এটি অভূতপূর্ব সুযোগ দেয়। এই মুহুর্তে বিশ্বে একমাত্র রোসাটমই পুরো পারমাণবিক চেইন রক্ষা করে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম উত্তোলন ও উন্নয়ন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, পারমাণবিক জ্বালানির বন্দোবস্ত করা, কেন্দ্রের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্ভিসিং, রেডিও অ্যাকটিভ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুরনো কেন্দ্র বন্ধ করা। পারমাণবিক জ্বালানি পুন:প্রক্রিয়াকরণ ও রেডিও অ্যাকটিভ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাসহ পারমাণবিক জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহারে রাশিয়া গুরুত্ব দেয়। বিশ্বে একমাত্র রাশিয়াই পরমাণু জ্বালানি চক্র বন্ধ করে দিয়ে ফাস্ট নিউট্রনের ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালনার বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে রাশিয়া নেতৃস্থানীয়। ফাস্ট নিউট্রন পাওয়ার ইউনিটগুলো পারমানবিক শক্তির জ্বালানি ভিত্তির গভীর প্রসারে কাজ করে এবং বর্জ্য উৎপাদন কমায়। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: এক হাজার মেগাওয়াটের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কুলিং ওয়াটারের জন্য কী পরিমাণ পানি দরকার হয়? এটাকে কিভাবে হিসাব করা হয়? ম্যাকসিম : যে কোনো ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কুলিং ওয়াটারের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা অনুযায়ী পানি প্রয়োজন হয়। পানি সরবরাহের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় এবং পরিবেশগত কারণে প্রয়োজনীয় পানির কমবেশী নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রটিতে প্রাকৃতিক ও শিল্পের বিভিন্ন ফ্যাক্টরগুলোর বিশ্লেষণ, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ভিত্তিতে এই প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ১,২০০ মেগাওয়াটের রূপপুর কেন্দ্রের দুইটি ইউনিটই ভিভিইআর রি-অ্যাক্টর সমৃদ্ধ হবে। এগুলোর কুলিং সিস্টেমে (শীতলকরণ পদ্ধতিতে) বাষ্পীয়মান কুলিং টাওয়ার সংযুক্ত থাকবে। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কুলিং টাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি রিসাইক্লিং সিস্টেমের পানি ঠান্ডা করার জন্য এ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। শুধু নদী থেকেই প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করা হবে। বাষ্পীকরণের ফলে কমে যাওয়া পানিও এখান থেকে নেয়া হবে। এতে দৈনিক ২ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ ঘনমিটার পানি খরচ হবে। যা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এলাকায় পদ্মা নদীতে প্রবাহিত পানির ১ দশমিক ৬ শতাংশ।  
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
‘রেন্টাল থেকে সরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী হওয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্ত’
জানুয়ারি ১৫, ২০১৬ শুক্রবার ০৫:০১ পিএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আদি উদ্যোক্তা মনোয়ার মেজবাহ মঈন। বিশেষত এ জ্বালানির প্রসারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহ দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রহিমআফরোজ রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা ও অর্জন সম্পর্কে সম্প্রতি এনার্জিনিউজবিডি ডটকম সম্পাদক আমিনূর রহমান এর কাছে এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে এসে সৌরশক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে ঝুঁকছে সরকার। এ সিদ্ধান্তকে আপনি কিভাবে দেখছেন? মনোয়ার মেজবাহ মঈন: ২০০৯ সাল পর্যন্ত দেশের মোট বিদ্যুতের ৯০ শতাংশ আসত গ্যাস থেকে। আগে ধারণা করা হত, দেশ গ্যাসের ওপরে ভাসছে। কিন্তু ২০০৯ সালের শেষ দিকে এসে দেখতে পাই, বাস্তবচিত্র ভিন্ন। গ্যাসের নতুন কোনো মজুদ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিদ্যুতের সংকট ও লোডশেডিং বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার রেন্টাল বা ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ক্ষুদ্র ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) কেন্দ্র স্থাপনে চুক্তি করে। জরুরিভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রগুলো ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল চালিত। তখন থেকেই জ্বালানি তেল আমদানি বৃদ্ধির কারণে প্রাথমিক জ্বালানি মিশ্রণে পরিবর্তন আসে। ফলে সরকারের হাতে দুইটি উপায় থাকে। এক. বিদ্যুতের মূল্যহার বাড়ানো, দুই. ব্যাপকহারে সাবসিডি বা প্রণোদনা দেয়া।   “সরকার বেসরকারিভাবে অর্থায়নকৃত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকেও স্বাগত জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ৪০টি বেসরকারি কোম্পানি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে।” সরকার টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাপারে সচেতন ছিল। ফলে ২০২০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তাই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে সৌরবিদ্যুতের দিকে আগ্রহ দেখানো সঠিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিষাক্ত কার্বন নি:সরণও কমবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দ্বারা সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে ব্যাপক পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে কি? মনোয়ার: বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বৃহৎ তথা মেগাওয়াট আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে আগ্রহী। তবে এ জন্য যৌক্তিক মূল্যহার নির্ধারণের স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট নীতি থাকতে হবে। একইসাথে প্রকল্পের আকার ও বাস্তবায়নের সময়সীমা অনুযায়ী মূল্যহার নির্ধারণ করতে হবে। তবেই বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বড় আকারের সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে পারবে। বিনিয়োগকারী, সেবা সংস্থা ও অন্যান্য অংশীদারদের জন্য সমান সুযোগ ও সমান জয়ের পরিস্থিতি থাকা প্রয়োজন। সরকারের উচিত সুবিধামত সুনির্দিষ্ট নীতি ও নির্ধারিত মূল্যহার ঘোষণা করা। বিনিয়োগের ঝুঁকি ও লাভ মূল্যায়ন করতে এটি জরুরি। তবেই বিখ্যাত ও বড় বিনিয়োগকারীরা আকর্ষিত হবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সাথে চুক্তি হওয়ার পরও সরকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে পারেনি। এবার কি সরকার সফল হবে? মনোয়ার:  বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সাথে চুক্তি হওয়ার পরও সরকার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে পারেনি, এটি সত্য। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অভাব ও মূল্যাহার নীতি না থাকাসহ সরকারের অপর্যাপ্ত মনোযোগের কারণেই এমনটি হয়েছে। এখন সরকার মূল্যহার নীতি নির্ধারণের বিষয়ে আন্তরিক। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), রেন্টাল পাওয়ার ও ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি)ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার সান-এডিসনের ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। সরকার যথাযথ নজর দিলে তারা সফল হবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ২০২১ সাল নাগাদ তিন হাজার ১৬৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে? এরমধ্যে এক হাজার ৭৪০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কি সম্ভব? মনোয়ার: সরকার তিন হাজার ১৬৮ মেগাওয়াটের যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে এর মধ্যে এক হাজার ৭৪০ মেগাওয়াট সৌর, এক হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট বাতাস এবং বাকিটা জৈবজ্বালানি ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে। আগেই বলেছি, টেকনাফে ২০০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সান-এডিসনকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী, দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। সরকার বেসরকারিভাবে অর্থায়নকৃত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকেও স্বাগত জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ৪০টি বেসরকারি কোম্পানি প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। যার মাধ্যমে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। তাই বলা যায়, এক হাজার ৭৪০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। “কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবুজ অর্থায়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আনন্দের সংবাদ, বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ শতাংশেরও নিচে সুদ নির্ধারণ করে ২০ কোটি মার্কিন ডলার সবুজ অর্থায়নের জন্য বরাদ্দ করার দিকে এগুচ্ছে।” এনার্জিনিউজবিডি ডটকম:  নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে কোনটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো? সৌর, বায়ু নাকি জল? ব্যাখ্যা করবেন? মনোয়ার:  সৌরশক্তি, জলশক্তি, জৈবশক্তি ও বায়ুশক্তির মত অনেক নবায়নযোগ্য শক্তিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এর সবই ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশে জলবিদ্যুতের উপযোগিতা ও সম্ভাবনা কম। তাত্ত্বিকভাবে কিছু এলাকায় মৌসুম অনুযায়ী ক্ষুদ্রকারে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করার উপযোগিতা রয়েছে। অধিকাংশ শহরই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকমিটার ওপরে অবস্থান করছে। তাই চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলসহ অল্প কিছু এলাকায় জলবিদ্যুতের উপযোগিতা রয়েছে। কোন স্থানে বার্ষিক বাতাসের গতি সেকেন্ডে ছয় মিটার হলে ওই স্থানে বাণিজ্যিকভাবে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। আন্তর্জাতিকভাবে এটি থাম্ব রুল নামে স্বীকৃত। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। দেশের উপকূলীয় এলাকায় বার্ষিক বাতাসের গতি সেকেন্ডে সাড়ে ছয় মিটার পাওয়া গেছে। শহর এলাকায় নবায়নযোগ্য শক্তির মধ্যে সৌরশক্তি থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত। কেননা শহরে অনেক বেশী রোদ থাকে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বিনিয়োগ অর্থায়ন ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাসমূহ বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা কিভাবে সমাধান করতে পারে? মনোয়ার: বৃহৎ অথবা মেগাওয়াটভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য বড় বিনিয়োগ দরকার। দেশজ সম্পদ থেকে এর সংস্থান করা কঠিন। তাই সরকার গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অর্থ আনার চেষ্টা করতে পারে। সরকারের উচিত ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ, সুনির্দিষ্ট নীতি ও নির্ধারিত মূল্যহার নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবুজ অর্থায়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আনন্দের সংবাদ, বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ শতাংশেরও নিচে সুদ নির্ধারণ করে ২০ কোটি মার্কিন ডলার সবুজ অর্থায়নের জন্য বরাদ্দ করার দিকে এগুচ্ছে। বড় ধরণের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সোলার প্যানেল বসানোর জন্য অনেক জমি প্রয়োজন। দেশে অকৃষি বা পতিত জমি পাওয়া কঠিন। সৌরবিদ্যুতের বড়কেন্দ্র স্থাপনে এটি একটি বড় বাঁধা। তবে হাওড়ে, চরে ও অকৃষি জমিতে বড় ধরণের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে আপনার কোম্পানি বর্তমানে কী কী কর্মসূচি-প্রকল্প গ্রহণ করেছে? এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? মনোয়ার: সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে আমাদের কোম্পানী নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে, অর্থায়নে এবং ব্যবসায়িক মডেল তৈরিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে। যা এ খাতের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করবে। একইসাথে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের সাথে কাজ করবো। বিশেষত: সোলার পিভি প্যানেল, সোলার ইরিগেশন পাম্প, মেগাওয়াটভিত্তিক গ্রিড কানেকটেড রূফটপ ও সোলার প্লান্ট নিয়ে। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যত কী? আগামী দিনগুলোতে এ খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি কেমন হবে? মনোয়ার: নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার বাড়ছে। সরকার নীতিমালা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে আর অর্থ সংস্থানেও বদ্ধপরিকর। তাই ২০২১ সালের মধ্যে ৩৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। যাইহোক, অতীত বিবেচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, এজন্য কার্যকরী ও সময়োপযোগী একটি নীতিমালা, অর্থায়ন এবং কর্মসূচি প্রয়োজন।
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
জ্বালানি সংকট মেটাতে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে
নভেম্বর ২০, ২০১৫, শুক্রবার ০৩:৩৪ পিএম - এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বঙ্গোপসাগরে ব্যাপকভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রখ্যাত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড বদরূল ইমাম। পেট্রোলিয়াম জিওলোজিতে পিএইচডি সম্পন্ন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এ অধ্যাপক জানান, বাপেক্স বর্তমানে কারিগরি কর্মীর অভাবে সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সমুদ্রসীমায় এবং স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম কিভাবে গতিশীল করা যায় সে ব্যাপারে সম্প্রতি এনার্জিনিউজবিডি ডটকম সম্পাদক আমিনূর রহমান এর কাছে বিস্তারিতভাবে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন তিনি। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: অফশোর তথা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ অংশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য সরকার মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভে করার জন্য দরপত্র গ্রহণ করে এবং সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি একটি কোম্পানীকে কাজ দিতে চূড়ান্ত সুপারিশ করেছিলো কিন্তু সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তা বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন? অধ্যাপক বদরূল ইমাম:  বিশেষজ্ঞ কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশটি কোন কারণ ছাড়া বাতিল করে দেওয়া সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক বলে মনে করি এরং এর ফলে এই মূহূর্তে বাংলাদেশের সমুদ্রবক্ষে তেল গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে বড় রকমের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।  বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সমুদ্রসীমানা বিরোধ ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের দেওয়া রায়ের মাধ্যমে মিটে যায় এবং এ দুটি দেশই তাদের নিষ্কন্টক সমুদ্রবক্ষ লাভ করে। এর পরবর্তী তিন বছরে এ পর্যন্ত  মিয়ানমার তার সমুদ্রবক্ষে যেভাবে তেল গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করেছে এবং করে যাচ্ছে সে তুলনায় বাংলাদেশ যথেষ্ট পেছনে পড়ে রয়েছে। দেশের বর্তমান গ্যাস সংকট থেকে রেরিয়ে আসতে হলে একথা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশকে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে তার সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কাজ জোরদারভাবে শুরু করা প্রয়োজন। পেট্রোবাংলা বিদেশী কোম্পানীর মাধ্যমে মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভে কাজটি এই শুষ্ক মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) শুরু করার লক্ষ্যে তার কর্ম পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হয়। কিন্তু পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত কোম্পানীকে অনুমোদন না দিয়ে সরকারি উপর মহল কর্তৃক কোন কারণ না দেখিয়ে তা বাতিল করা ও পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে নতুনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেবার ফলে সমগ্র প্রক্রিয়াটি অন্তত দুই বছর পিছিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এই মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভে কাজটি শেষ করার পরই পেট্রোবাংলা বিদেশি তেল কোম্পানীদেরকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিয়োগ করার ব্যবস্থা নেবে।  যেখানে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কাজ জোরদারভাবে শুরু করা প্রয়োজন  সেখানে অযাচিত বিলম্ব ঘটানো কেবল রহস্যজনকই নয় বরং তা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। বাংলাদেশ যে সমস্ত কারণে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পেছনে পড়ে রয়েছে তার মধ্যে এরকম অস্বচ্ছতা, অনুসন্ধান ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায়  এহেন অযাচিত আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ কারণ হিসাবে দৃশ্যমান। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার তাদের অফশোরে অনুসন্ধানের জন্য কয়েকটি কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি করেছে। অথচ বাংলাদেশ তা করতে পারেনি; এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? অধ্যাপক ইমাম: ২০১২ সালে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্র সীমানা বিরোধ মিমাংসার পর গত তিন বছরে মিয়ানমার তার সাগরবক্ষে যেভাবে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে, তার তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পেছনে পড়ে রয়েছে। মিয়ানমার ২০১৩ সালে তার সমুদ্র সীমানায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন প্রচার করে এবং ২০১৪ সালের প্রথমার্ধেই প্রতিযোগী বিদেশি কোম্পানীসমূহের মধ্য থেকে বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সমুদ্র বক্ষে মোট ২০টি অনুসন্ধান ব্লকে ১০টির বেশী  বিদেশি কোম্পানীকে উৎপাদনে অংশীদারিত্ব চুক্তির (পিএসসি) অধীনে নিয়োগ দেওয়া হয় যারা ইতিমধ্যে অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ গত তিন বছরে কেবল তিনটি সমুদ্র ব্লকে মাত্র ২টি বিদেশি কোম্পানীকে পিএসসি চুক্তির অধীনে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে নিয়োগ করতে সক্ষম হয়। বাকি ২৩টি  সমুদ্র ব্লকে, যা কিনা দেশের মোট সমুদ্র এলাকার প্রায় ৮০%, বর্তমানে কোন কোম্পানীর কার্যক্রম নেই। দেশের মোট সমুদ্র এলাকার এই ৮০%  এলাকা অনুসন্ধান কার্যক্রমের বাইরে রেখে কোন কোন মহল কর্তৃক বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয় ও ব্লু ইকোনোমি নিয়ে বক্তৃতা বিবৃতির আড়ম্বর যে নেহাৎই অসাড় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধান পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধীর গতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও স্বার্থন্বেষী  মহলের অযাচিত প্রভাব তার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এ বিষয়টি আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের পেছনে পড়ে থাকার প্রধান কারণ এটি। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাসের মজুদ সীমিত; আগামী কয়েক বছর একই হারে উত্তোলনের পর তা শেষ হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের কী করণীয় আছে? অধ্যাপক ইমাম: বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাসের মজুদ চাহিদার তুলনায় কম এবং ২০১৭ সালের পর থেকে চাহিদা ও সরবরাহের ফারাকটি ক্রমান্বয়ে বেড়ে যেতে থাকবে। ২০৩০ সাল নাগাদ গ্যাসের সরবরাহ ও ব্যবহার খুবই অল্প হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় দুটি বিষয়ে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যকীয়। প্রথমত দেশের ভেতর গ্যাস অনুসন্ধানের মাত্রা জরুরি ভিত্তিতে বাড়িয়ে দেশের গ্যাসের মজুদ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে দেশের সাগরবক্ষে অজানা এলাকাকে অনুসন্ধানের আওতায় এনে তার গ্যাস সম্ভাবনাকে উম্মোচিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত গ্যাসের বিকল্প দেশীয় জ্বালানির আহরণ ও উত্তোলনের মাধ্যমে গ্যাসের স্থান পূরণ করতে হবে। এই বিকল্প জ্বালানি বলতে আমি মূলত কয়লা সম্পদকে গণ্য করছি। বাংলাদেশের রংপুর দিনাজপুর এলাকায় ভূ-গর্ভে যথেষ্ট কয়লা মজুদ রয়েছে যেখানে কয়লা খনি স্থাপন করে দেশের জ্বালানি চাহিদার একটি অংশ মেটানো যেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য ব্যবস্থাপনা যেমন বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির জন্য চেষ্টার পাশাপাশি নেপাল, ভূটান ও ভারত থেকে যথেষ্ট বিদ্যুৎ আমদানি করার চেষ্টা করা উচিত। অতীতে মিয়ানমার থেকে পাইপ লাইনে (ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমার ত্রিদেশীয় গ্যাস পাইপলাইন) গ্যাস আমদানির সুযোগটি পেয়েও বাংলাদেশ তা কাজে লাগায়নি তা নেহাৎই অদূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। ভবিষ্যতে ইরান-পাকিস্তান-ভারত ত্রিদেশীয় পাইপ লাইনের মাধ্যমে ইরান থেকে ভারত ও পাকিস্তান গ্যাস আমদানির যে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারলে ভবিষ্যতের একটি বড় সময়ব্যাপি জ্বালানি নিশ্চয়তা অর্জন করতে পারবে।   এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানীগুলোকে বাংলাদেশ অফশোরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তুলতে পারছে না কেন? অধ্যাপক ইমাম: বাংলাদেশের সমুদ্রবক্ষে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট বড় আকারের গ্যাস সম্পদ আবিষ্কৃত হয় নাই যেমনটি মিয়ানমার বা ভারতের ক্ষেত্রে হয়েছে। তদুপরি এখানে সাগরের তলদেশের ভূতাত্ত্বিক তথ্য খুবই কম বা অনেক ক্ষেত্রে নাই বললেও চলে। ফলে বাংলাদেশের পক্ষে সুনির্দিষ্টভাবে বিদেশী কোম্পানীকে আকৃষ্ট করা সহজ নয়। মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভে করে তথ্য আহরণ করার যে পরিকল্পনা অধুনা পেট্রোবাংলা নিয়েছে তা তথ্য সংগ্রহে যথেষ্ট সহায়ক হবে এবং তার মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ভাল সম্ভাবনাময় এলাকাকে চিহ্নিত করা যাবে যা কিনা বিদেশি কোম্পানীর আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে। কিন্তু অস্বচ্ছতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিষয়টি ঝুলে গেছে বলে বর্তমানে সে আশাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অপর একটি বিষয় হলো পিএসসি চুক্তির ধারা সমূহে বিদেশি কোম্পানীসমূহ তাদের পক্ষে আরো লাভজনক শর্ত দাবি করে, যা কিনা অনেক সময় জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।  এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: চুক্তি পর থ্রিডি সিসমিক সার্ভে সম্পন্ন করেও আমেরিকান কোম্পানী কনোকো ফিলিপস অফশোরে তাদের নির্ধারিত ব্লক ১০ ও ১১ তে গ্যাসের মজুদ কম আছে যা উত্তোলন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে না এ অজুহাতে বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন নাকি অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে? অধ্যাপক ইমাম: কনোকো ফিলিপস তাদের অনুসন্ধানে বৃহৎ কোন গ্যাসের সম্ভাবনা দেখে নাই বলে গভীর সমুদ্রে ছোট সম্ভাবনাকে নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে আর্থিকভাবে উৎসাহিত হতে পারে নাই বলে যুক্তি দেখিয়েছ্। কিন্তু একটি বৃহৎ তেল কোম্পানীর পক্ষে অনুসন্ধান পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাটাই প্রথা। তা থেকে কনোকো ফিলিপস কেন সরে দাড়ালো তা প্রশ্নবিদ্ধ হতেই পারে। তবে চুক্তি করে কাজে নেমে চুক্তিবদ্ধ অপর পক্ষের (বাংলাদেশ) কাছে চুক্তির ধারা তথা গ্যাস মূল্য বৃদ্ধির দাবীটি অযৌক্তিক ছিল। বাংলাদেশের পক্ষে তার দাবী না মানা যুক্তিসংগত হয়েছে। আগ্রহী হলে কনোকো ফিলিপস পরবর্তীতে পুনরায় অন্য বিদেশী তেল কোম্পানীদের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে আবার বাংলাদেশে আসতে পারে কিন্তু চুক্তির ধারা মেনে কাজ না করলে তার আবদার শোনার কোন যুক্তি থাকতে পারে না।         এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় বহুজাতিক কোম্পানীগুলো নতুন নতুন স্ট্রাকচারে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ব্যাপারে ধীর গতিতে চলছে বলে শোনা যায়। এটা কি সত্য? অধ্যাপক ইমাম: আন্তর্জাতিক বাজারে  তেলের দাম স্থায়ীভাবে কমে যায়নি বরং কয়েক বছরের মধ্যেই তেলের দাম আবার উর্দ্ধমুখী হবে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করে থাকেন। তেলের দামের নেমে যাওয়ায় অনুসন্ধান কাজের ধারার উপর কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বটে তবে  এদেশে তা প্রকট না এবং দীর্ঘস্থায়ী নয়। তদুপরি বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানী অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য তেল নহে বরং গ্যাস। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: অনশোরে তথা স্থলভাগে রাষ্টায়ত্ব প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এককভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে। সম্প্রতি জয়েন্ট-ভেঞ্চারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি স্ট্রাকচারে অনুসন্ধানের জন্য এ কোম্পানি উদ্যোগ নিয়েছে। এটি দেশের জন্য লাভজনক হবে বলে মনে করেন?   অধ্যাপক ইমাম: জাতীয় গ্যাস অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্স স্থলভাগে সার্থকভাবে  গ্যাস কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম বলে নিজেকে প্রমাণ করেছে। মূল ভূখন্ডে সমতল এলাকায় বাপেক্স সার্থকভাবে কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী অঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক গঠন সমতলের তুলনায় জটিল ও সেখানে খনন কাজ চালানোও সমতল এলাকার তুলনায় কিছুটা কষ্টসাধ্য। এসমস্ত অঞ্চলে বাপেক্স এর সাথে কোন যোগ্য বিদেশি কোম্পানীকে জয়েন্ট-ভেঞ্চারে কাজ করতে নিয়োগ দিলে তা অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে সাহায্য করতে পারে। তবে দেশের স্বার্থ সমুন্বত রেখে জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি করা বাঞ্চনীয়। অতীতে নাইকো কোম্পানীর সাথে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে জয়েন্ট-ভেঞ্চার চুক্তি করে দেশ যে খেসারত দিয়েছে বা এখনও দিচ্ছে তা সকলের জানা।   এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: অনশোরে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানীগুলোকে আবারও অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? অধ্যাপক ইমাম:  মূল ভূখন্ডে সমতল অঞ্চলে যেহেতু জাতীয় কোম্পানী সার্থকভাবে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও আবিষ্কার করতে সক্ষম, তাই সেখানে বিদেশি কোম্পানীকে নিয়োগ করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করি। বিদেশি কোম্পনীকে নিয়োগ করলে প্রাপ্ত গ্যাস বিদেশিদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে হয়। জাতীয় কোম্পানী নিজস্ব উদ্যোগে অনুসন্ধান করলে যে গ্যাস পাবে তার শতভাগই বাংলাদেশের নিজের। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সর্বাপেক্ষা সম্ভাবনাময় এলাকাসমূহ ইতিপূর্বেই বিদেশি কোম্পানীকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবী, বাকি যেসব এলাকা আছে সবটাই জাতীয় কোম্পানী বাপেক্সের অনুসন্ধানের আওতায় নিয়ে আসা হোক। এনার্জিনিউজবিডি ডটকম: জাতীয় তেল গ্যাস কোম্পানী বাপেক্সেকে শক্তিশালি করে তুলতে বর্তমানে কি রকম ভূমিকা রাখা হচ্ছে? অধ্যাপক ইমাম: এটি সত্য যে ২০০৯ সালে বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর বাপেক্সের অবকাঠামো উন্নত করার লক্ষ্যে ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসময় বেশ কয়েকটি নতুন খনন রিগ কিনে বাপেক্সের অনুসন্ধান কর্মে সহায়ক অবস্থার সৃষ্টি করা হয় । কিন্তু বাপেক্সের অপর মূল সমস্যা কয়েকটি অমিমাংসীতই থেকে যায়। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো প্রযোজনীয় সংখ্যক কারিগরি কর্মীর অভাব। বাপেক্সের মূল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য তেল গ্যাস আবিষ্কার করা এবং একটি দক্ষ ও পর্যাপ্ত সংখ্যার কারিগরী দল না থাকলে অবকাঠামোগত উন্নতি যতই ঘটুক তেল গ্যাস আবিষ্কার সম্ভব হবে না। বাপেক্স বর্তমানে কারিগরি কর্মীর অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। যেমন এখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভূতত্ত্ববিদ নেই। বর্তমানে এ পদ সমূহ খালি পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ সেখানে লোকবল নিয়োগের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেন না। সম্প্রতি বাপেক্স লোকবল নিয়োগের একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে যাতে প্রশাসনিক  ২১ টি পদ বিজ্ঞাপিত হয়, আর ভূতত্ত্ববিদ পদে মাত্র ২টি পদ বিজ্ঞাপিত হয়। অথচ বাপেক্সের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী ভূতত্ত্ববিদদের ১২টি শূন্যপদ বিজ্ঞাপন করার সুপারিশ করা হলেও তা করা হয়নি। বিষয়টি একারণেই গুরুত্বপূর্ণ যে ভূতত্ত্ববিদ ও প্রকৌশলীবৃন্দই বাপেক্সের মূল চালিকা শক্তি। সে দলটি দূর্বল রাখলে অন্য কোন পন্থায় বাপেক্স তার প্রধান উদ্দেশ্য সাধন করতে পারবে না।     অপর একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়। বাপেক্সের কর্মকান্ডে আমলাতান্ত্রিক জট ঢুকে পড়লে তা যে কি রকম ক্ষতিকারক হতে পারে তা বর্তমানে খননকৃত পাবনার মোবাররকপুর গ্যাস কূপের উদাহরণেই দৃশ্যমান। পাবনায় সাথিয়া উপজেলায় মোবাররকপুর গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পটি শুরু করা হয় ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। সাধারণভাবে চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এ কূপটি ৪৬০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করার জন্য কাজ শুরু হয়। বাপেক্সের অনুসন্ধান কূপটি ৪৩০০ মিটার গভীরতায় পৌঁছে এই গভীরতার মধ্যে দুটি গ্যাস স্তরের উপস্থিতির আভাস পাওয়া যায়। দূর্ভাগ্যক্রমে বাপেক্সের কূপটিতে আশার আলো যখন উঁকি দিচ্ছিল, তখনই খনন পাইপটি কূপের ভেতর জটিলতার কারণে আটকে যায়। কারিগরি বিবেচনায় এটি অস্বাভাবিক নয় এবং এর পরের কাজটি সাইড ট্র্যাকিং অর্থাৎ কূপটির সোজা পথ থেকে সরে এসে পাশ কাটিয়ে খনন কাজ চালিযে নেওয়া। লক্ষ্যটি ঠিক হলেও তার পরই আসে বিপত্তি। এ বিপত্তি কারিগরি নয় বরং প্রশাসনিক বা আরো সুনির্দিষ্টভাবে প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা। সাইড ট্র্যাকিং কাজটি করতে এক ধরণের যন্ত্র লাগে যা কিনা দেশে বিভিন্ন সার্ভিস কোম্পানীর কাছে রয়েছে। যে কোন বেসরকারি তেল কোম্পানী এ পরিস্থিতিতে সার্ভিস কোম্পানী থেকে এই সাইড ট্র্যাকিং খননের ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থা করে তাৎক্ষনিকভাবে কূপটি আবার খনন শুরু করতো। কিন্তু বাপেক্স তা পারে না কারণ তাকে সে ক্ষমতা দেওয়া হয় নাই। তাই সামান্য এই সার্ভিস নিতে হলেও লাগবে সরকারি অনুমোদন, পরিবর্তন করতে হবে ডিপিপি, তৈরী হবে ফাইলের পর ফাইল, নিতে হবে আর্থিক অনুমোদন। কাজটি করার অনুমোদনের জন্য চারটি মাস চলে গেলেও আমলাদের সুতা বাধা ফাইল পার হয়ে বিষয়টি এখনও মাঠ পর্যায়ে যায় নাই। কিন্তু এতদিনে ভূ-অভ্যন্তরের ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ কূপটিকে যথেষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলে। আর এভাবেই অনেক প্রকল্প ব্যর্থ হয়ে যেতে দেখা যায়। আশ্চর্য হলেও সত্য যে এরকম গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোন তড়িৎ আইনি ধারা নেই যা দিয়ে বাপেক্স তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। বাপেক্সের কর্ম পদ্ধতিতে যদি এহেন অথর্ব ব্যবস্থাপনা চলমান থাকে, তবে প্রতিষ্ঠানটির সফল হবার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সফল হতে পারবে না। অবস্থাদৃষ্টে অনেকের মনেই এ সন্দেহ বা প্রশ্ন জেগে ওঠে যে বাপেক্স কি কোন ষড়যন্ত্রের শিকার?
ক্যাটাগরি: সাক্ষাৎকার
    সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার
    FOLLOW US ON FACEBOOK


Explore the energynewsbd.com
হোম
এনার্জি ওয়ার্ল্ড
মতামত
পরিবেশ
অন্যান্য
এনার্জি বিডি
গ্রীণ এনার্জি
সাক্ষাৎকার
বিজনেস
আর্কাইভ
About Us Contact Us Terms & Conditions Privacy Policy Advertisement Policy

   Editor & Publisher: Aminur Rahman
   Copyright @ 2015-2017 energynewsbd.com
   All Rights Reserved | Developed By: Jadukor IT