ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৭, কার্তিক ২, ১৪২৪ ০৩:২২ পিএম
  
হোম এনার্জি বিডি এনার্জি ওয়ার্ল্ড গ্রীণ এনার্জি মতামত সাক্ষাৎকার পরিবেশ বিজনেস অন্যান্য আর্কাইভ
সর্বশেষ >
English Version
   
নিউক্লিয়ার
বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল ফেরত নেওয়া সংক্রান্ত চুক্তি সই
বাংলাদেশ ও রাশিয়া সরকারের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল (ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি) রাশিয়ায় ফেরত নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত একটি আন্তঃসরকার চুক্তি সই হয়েছে। বুধবার (৩০ আগস্ট) রাশিয়ার মস্কোতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে সই করেন-বাংলাদেশের পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং রাশিয়ার পক্ষে স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন রোসাটম-এর মহাপরিচালক অ্যালেস্কেই লিখাশেভ। চুক্তি সইয়ের বিষয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম ভূইয়া এনার্জিনিউজবিডি ডটকমকে জানিয়েছেন। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন, রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. সাইফুল হক, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর এবং রোসাটম এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ ২০১৭ ঢাকায় চুক্তিটি অনুস্বাক্ষরিত হয় এবং গত ৫ জনু ২০১৭ বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়। এই চুক্তির আওতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পারমাণবিক বর্জ্য বাংলাদেশ থেকে রাশিয়া তাদের দেশে ফেরত নিয়ে যাবে। রাশিয়া এই পারমাণবিক বর্জ্য ফেরত নেওয়ার পর পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাত পদার্থের ব্যবস্থাপনাসহ বর্জ্য সংরক্ষণ করবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের শুরু থেকেই বাংলাদেশ পারমাণবিক বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ বিষয়টি ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকার চুক্তিতেও উল্লেখ ছিল। এদিকে, রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল ট্রিটমেন্ট (পরিশোধন) সংক্রান্ত একটি আন্তঃসরকার চুক্তিও প্রস্তুত করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী উভয় দেশের সরকার চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। আন্তঃসরকার চুক্তির ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি প্রস্তুত ও সই করার পরিকল্পনা রয়েছে। রুশ প্রযুক্তিনির্ভর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যৌথ উদ্যোগ প্রকল্প যার মাধ্যমে দেশটি পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকারী বিশ্বের অপারাপর দেশগুলোর কাতারে শামিল হওয়ার সুযোগ লাভ করবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে আসছে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। অ্যালেস্কেই লিখাশেভ তার বক্তব্যে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতিটি ন্যূনতম ১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ভিভিইআর রি-অ্যাক্টর স্থাপিত হবে। রাশিয়া কর্তৃক অফারকৃত ভিভিইআর-১২০০ একটি আধুনিক ৩+ প্রজন্মের প্রকল্প; যা ফুকুশিমা পরবর্তী সকল নিরাপত্তা মান এবং আন্তর্জাতিক বিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, এই চুক্তিটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। নির্মাণ কাজ শুরুর পূর্বেই এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়।
রূপপুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে রাশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা
আগস্ট ২১, ২০১৭ সোমবার ১১:০১ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রাশিয়া পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত ৩৪ জন শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধিদল গত ২০ আগস্ট নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশে চলমান কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখানো ও ব্যাখ্যা করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাৎসরিক গ্রীষ্মের ছুটিতে এ সব শিক্ষার্থী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্প কর্মকর্তারা তাদের দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেন। ভবিষ্যতের পরমাণু বিশেষজ্ঞদের নির্মাণাধীন প্রকল্প সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, দেশে একটি উন্নত ও টেকসই পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। বাংলাদেশ সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাশিয়ায় বর্তমানে পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতার বলে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করার এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে রাশিয়ার মেফির (মস্কো ইঞ্জিনিয়ারিং ফিজিক্স ইনস্টিটিউট) নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্রী জাইমা হক তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজেকে গর্বিত মনে করব। আমি আমার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মেধা দিয়ে দেশের পরমাণু শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে চাই।’ একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সে অধ্যয়নরত মাসুদুর রহমান বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বের নিউক্লিয়ার এলিট ক্লাবে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে দেশের স্বার্থে আমি নিজেকে পুরোপুরিভাবে বিলিয়ে দেব।’ পরমাণু শিল্পে মানবসম্পদ তৈরির অংশ হিসেবে এবং একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বর্তমানে রাশিয়ার বিখ্যাত ন্যাশনাল রিসার্চ নিউক্লিয়ার ইউনিভার্সিটি- মেফি’তে বর্তমানে ৪৩ জন বাংলাদেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা লাভ করছেন। চুক্তি মোতাবেক প্রতি বছর পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য রুশ সরকার মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ পাবনা জেলার রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পে সর্বাধুনিক ৩+ প্রজন্মের দুটি বিদ্যুৎ ইউনিট থাকবে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২,০০ মেগাওয়াট। খুব শিগগিরই মূল প্রকল্পের নির্মাণ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
এসডিজি বাস্তবায়নে আইএইএ এর সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
মে ৩০, ২০১৭ মঙ্গলবার ১০:২৩ পিএম - বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তায়নে বাংলাদেশসহ ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইন্টারন্যাশনাল এ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) সহায়তা কামনা করেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রিয়ার রাজধানীতে আইএইএ এর এক সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ আইএইএ এর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে চায় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করতে আগ্রহী। এসডিজি বাস্তবায়নে বিশেষকরে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তায় আইএইএ এর প্রয়াস জোরদারে গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসডিজি অর্জনে সক্ষমতা গড়ে তোলা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর খুবই প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আইএইএ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশিদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের কাজ করার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএইএ এর ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সংস্থাটি অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ‘আইএইএ কারিগরী সহযোগিতা কর্মসূচির ৬০ বছর পেরিয়ে : উন্নয়নে অবদান’  শীর্ষক তিন দিনের এই সম্মেলনের আয়োজন করে। শেখ হাসিনা কারিগরী সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। আইএইএ এর মহা পরিচালক ইউকিয়া আমানো, মরিশাসের প্রেসিডেন্ট আমেনাহ গারিব-ফাকিম উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট তাবেরে ভাজকুয়েজ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শেখ হাসিনা শান্তি ও উন্নয়নে পরমাণুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৬০ বছরের অব্যাহত প্রয়াসের জন্য আইএইএ এর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বিগত ৪৫ বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে সমর্থন দেয়ার জন্যও সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পরপরই আইএইএ বাংলাদেশকে সদস্য পদ প্রদান করে। আইএইএতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন তাঁর স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংস্থাটির সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সংযোগের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর (ওয়াজেদ মিয়া) দৃঢ় ও দূরদর্শী পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের রূপায়নের সহায়ক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্র (এইআরসি) ৩০ বছরের বেশী সময় ধরে গবেষণা, রেডিয়োআইসোটপ উৎপাদন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নানা আবিস্কার বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের পাটের জেনেটিক কোডের পাঠোদ্ধার একটি বিরাট সাফল্য এবং জ্ঞানের চর্চা ও বিনিময়ের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ‘সায়েন্স ডিপ্লোম্যাসি’ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনের জন্য আমাদের লক্ষ্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনার পরিপূর্ণ ব্যবহার। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতের সমস্যা সমাধানের ওপর জোর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আইএইএ এর সাথে চমৎকার সহযোগিতা উপভোগ করছে এবং কারিগরী সহযোগিতায় প্রায় ১৩৮টি জাতীয় প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং রিজিওনাল কো-অপারেটিভ এগ্রিমেন্টের (আরসিএ) অধীনে ১১১টি আঞ্চলিক প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আইএইএ এর কারিগরী সহযোগিতা কার্যক্রমের কাঠামোর আওতায় পরমাণু শিক্ষা ও গবেষণা, খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, পানিতে আইসোটোপ কৌশল প্রয়োগ, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, নন ডেস্ট্রাকটিভ টেস্টিংয়ের মতো শিল্প সহায়তা, শস্য ও গবাদি পশুর উন্নয়ন এবং পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের মতো অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেয়েছে। তবে দুইটি ক্ষেত্রে সাফল্যকে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার বিনার উচ্চফলনশীল জাত ও লবণাক্ত সহিষ্ণু শস্য জাতের উন্নয়ন ও উদ্ভাবন এবং দেশে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবায় অগ্রগতিকে অসামান্য অর্জনের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা ইতোমধ্যেই ৯২টি শস্য প্রজাতির উন্নয়ন ঘটিয়েছে এর মধ্যে ১৩টির উন্নয়নে নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি, বিকিরণ এবং অন্যান্য অগ্রসর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব শস্য উচ্চ ফলনশীল, উচ্চ পুষ্টিমান, স্বল্প সময়ে ফলন, লবণাক্ততা ও বন্যা সহিষ্ণু এবং জলবায়ু পরিবেশ সহিষ্ণু। বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে অবদান রাখার জন্য এফএও- আইএইএ কর্তৃক ‘বিনা’-কে ২০১৪ সালে ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট এওয়ার্ড’  প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বনির্ভর এবং এমনকি অতিরিক্ত খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে সক্ষম।’ বাংলাদেশে পরমাণু চিকিৎসা সেবার অগ্রগতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে পরমাণু চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি, গত বিশ বছরে রোগ নির্ণয় করে চিকিসৎসা করতে সক্ষম লোকের সংখ্যা ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে পনেরটি সরকারি এবং ছয়টি বেসরকারি নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট প্রতিবছর ৪ লাখেরও বেশি রোগীকে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের মাধ্যেমে চিকিৎসা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি ক্যানসারের চিকিৎসায় আধুনিক পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার জনগণকে প্রকৃত সাহায্য করছে। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তিকে আমরা নিরাপদ, পরিবেশ-বান্ধব এবং অর্থনৈতিকভাবে বিদ্যুতের সবচেয়ে টেকসই উৎস হিসাবে বিবেচনা করি।’ তিনি বলেন, রাশিয়ার সহায়তায় নির্মীয়মান রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুইটি রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদপাদন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সাল নাগাদ পারমাণবিক উৎস থেকে চারহাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করবে এবং এভাবে বর্ধিত উৎপাদনশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাকে প্রসারিত করবে।
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন’ সংকলনগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
মে ২৯, ২০১৭ সোমবার ০৬:৫৬ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন শীর্ষক একটি সংকলনগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গত ২৫ মে ঢাকায় পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের মিলনায়তনে ওই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পাশে ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, এ ধরণের বই প্রকাশের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে আমাদের সবার জানার পরিধি আরো বাড়বে এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্তধারণা ও অমূলক আশঙ্কা দূর হবে। তিনি আরো বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে নিরাপত্তার উপর সর্বোচ্চ জোর দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দিকনির্দেশনা বা মাইলফলক নির্মাণের প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞানলেখক রুশো তাহের এর সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল হক, স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইন, পদার্থবিদ মনোরঞ্জন দাস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ শৌকত আকবর।    
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নে আইএইএ’র সাথে চুক্তি করলো রোসাটম
এপ্রিল ২২, ২০১৭ শনিবার ০৬:৪৭ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বিশ্বে যে সব দেশ পরমাণু শক্তি ব্যবহারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে সে সব দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে সহযোগিতা করবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং রুশ রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রোসাটম। গত ১৯ এপ্রিল ভিয়েনায় এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেন আইএইএ এর মহাপরিচালক ইউকিও আমানো এবং রোসাটমের প্রধান নির্বাহী আলেক্সি লিখাচভ। রোসাটমের উদ্যোগে ওই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চুক্তি প্রসঙ্গে আলেক্সি লিখাচভ বলেন, “সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে পরমাণু শক্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, পরমাণু শিল্প উন্নয়নে বিধি-বিধান তৈরি এবং আইএইএ এর সহযোগিতায় যে সব পারমাণবিক স্থাপনা নির্মিত হবে সেগুলোর নিরাপত্তা বিশ্লেষণ।” তিনি আরো জানান, মূল্য কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার মানদন্ডে প্রকল্পের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদানের বিষয়ও দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিশেষ স্থান পায়। উল্লেখ্য, একটি আন্তঃসরকারি চুক্তির অধীনে রোসাটম বাংলাদেশে দুই ইউনিট বিশিষ্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটিতে ৩+ প্রজন্মের সর্বাধুনিক এবং সবার্ধিক নিরাপদ ভিভিইআর ১,২০০ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।  
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থানীয় সাপ্লাইয়ারদের জন্য কর্মশালা আগামী ১৭ এপ্রিল
এপ্রিল ১২, ২০১৭ বুধবার ১১:৪৭ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ক্রয় (প্রকিওরমেন্ট) বিষয়ক একটি কর্মশালা আয়োজন করবে যৌথভাবে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। এর মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশি সাপ্লাইয়ারদের সঙ্গে কাজের ব্যাপারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আগামী ১৭ এপ্রিল ঢাকায় লি মেরিডিয়ান হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য কর্মশালায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রীর সম্ভাব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা অংশ নেবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। যে সকল বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে তার মধ্যে রয়েছে প্রকল্প নির্মাণে নকশা সম্পর্কিত বিভিন্ন চাহিদা, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং সাপ্লাইয়ের শর্তাবলী, লজিস্টিকস এবং উৎপাদিত সামগ্রীর গুণগতমান নিশ্চিতকরণ। রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ হিসেবে এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজের প্রতিষ্ঠা। শীর্ষ স্থানীয় হোল্ডিং কোম্পানি জেএসসি এএসই ইসি, জেএসসি ‘এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট’, জেএসসি ‘এটমএনার্গোপ্রয়েক্ট’ এবং জেএসসি ‘এটমপ্রয়েক্ট’ একত্রিত করে কোম্পানিটি গঠিত হয়। পারমাণু শক্তি প্রকৌশল সেক্টরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ সারা বিশ্বে মোট পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ কাজের ৩০% দখল করে আছে। এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজের সিনিয়র ভাইস্ প্রেসিডেন্ট- ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টস আলেক্সান্দার খাজিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “জেনারেল কনট্রাকটর হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহনকরী সর্ববৃহৎ এনার্জি প্রকল্পের বাস্তবায়নে আমরা যথাসম্ভব বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করতে চাই।” তার মতে এই মুহূর্তে বালি, স্টোন চিপস, কঙ্ক্রিট, রেইনফোর্সমেন্ট, লো-প্রেসার পাইপ লাইন, রোলড্ স্টিলসহ বিভিন্ন নিমার্ণসামগ্রী এবং যন্ত্রপাতির সাপ্লাইয়ার নির্বাচিত করা প্রয়োজন। এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজের ভাইস্ প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যাক্সিম ইয়েলচিসেভ জানান, “আমাদের এই কর্মশালার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানসমূহকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অংশগ্রহণে সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করা।” তিনি আরো বলেন “আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বাধিক পরিমাণে স্থানীয় শিল্পকে সম্পৃক্ত করতে চাই। এর ফলে কস্ট অপটিমাইজেশন ছাড়াও সাপ্লাইকৃত সামগ্রীর গুণগতমান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো একটি জটিল স্থাপনার নির্মাণ কাজের জন্য অন্যতম পূর্বশর্ত।” বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর স্বাক্ষরিত আন্ত:রা্ষ্ট্রীয় চুক্তির অধীনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। প্রকল্পটিতে প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ভিভিইআর ইউনিট থাকবে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৬০ কি.মি. দূরে পদ্মা নদীর পূর্ব তীরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রথম ইউনিটটি ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৪ সালে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩+ প্রজন্মের নকশাভিত্তিক বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন করা হবে রূপপুরে। এই ইউনিটগুলোতে থাকবে সর্বোচ্চ ক্ষমতার ভিভিইআর ১,২০০ রিঅ্যাক্টর এবং নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত উচ্চ গতিসম্পন্ন টারবাইন। উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংবলিত এই ইউনিটগুলো আইএইএ নির্ধারিত ফুকুসিমা পরবর্তী নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম।  
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
পরমাণু শক্তির গবেষণা বিষয়ক ৩৯তম জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন শুরু
এপ্রিল ০৪, ২০১৭ মঙ্গলবার ০৮:৫৬ এএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর অধীন পরমাণু শক্তি ও প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের সংস্থা রিজিওনাল কো-অপারেটিভ এগ্রিমেন্টের (আরসিএ) ৩৯তম জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন কক্সবাজারের ইনানীর রয়্যাল টিওলিপ সি পার্ল বিচ  রিসোর্ট শুরু হয়েছে । সোমবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপি এ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ভারত, বাংলাদেশ,পাকিস্তানসহ মোট ২২টি দেশের প্রায় ৪০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলন চলবে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। বাংলাদেশে  ৩য় বারের মত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অফিসার মোঃ কামরুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সোমবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী তাঁর  বক্তৃতায় বলেন, আইএইএ ও আরসিএর সক্রিয় সহযোগিতায় এ দেশের কৃষি এবং পরমাণু চিকিৎসা  খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী ও সময়োপযোগী নীতির ফলে বাংলাদেশ এখন প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ওপর সর্বোচ্চ  জোর দেয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইএইএর নিদের্শনা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই নির্মাণ করা হচ্ছে এ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বলেন মন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সদস্য ড. আলেয়া বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরী, আইএইএর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের কারিগরি সহযোগতিার পরিচালক ড. নাজাত মোখতার এবং আরসিএর বর্তমান চেয়ারপার্সন মঙ্গোলিয়ার প্রতিনিধি ড. চাদরাবাল মাভাগ।    
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এ উচ্চশিক্ষার জন্য রুশ বৃত্তি পাচ্ছেন আরও ২০ জন বাংলাদেশী
এপ্রিল ০১, ২০১৭ শনিবার ০৯:৩৮ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রাশিয়ায় নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলতি বছর আরও ২০ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করবে রাশিয়া সরকার। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের কোটা থেকে এ বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ঢাকাস্থ রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক আলেক্সান্ডার ডেমিন সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে মস্কোর জাতীয় পরমাণু গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় মেফি এবং মেফি’র অবনিন্সক শাখা এনআরএনইউ মেফি। শিক্ষা প্রোগ্রামের মূল বিষয় হবে “পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: নকশা, অপারেশন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং”। অ্যালেক্সান্ডার ডেমিন জানান, “শিক্ষার্থী নির্বাচনের লক্ষ্যে গণিত এবং পদার্থ বিদ্যায় পরীক্ষাসহ প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ইন্টারভিউর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে সহায়তা করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী রুশ রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন রোসাটম। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রায় ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ২০ জনকে ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচিত করা হবে। বর্তমানে মেফি’তে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশী উচ্চশিক্ষা লাভ করছেন। প্রথম ব্যাচটির গ্রাজুয়েশন আগামী বছর সম্পন্ন হবে।” ডেমিন আরও জানান, এ বছর চিকিৎসা শাস্ত্র, কৃষি, সাংবাদিকতা, ললিত কলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ৬০ জনের বেশি বাংলাদেশী রাশিয়া যাবার সুযোগ পাবেন।  
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত খসড়া চুক্তি অনুমোদন ’
মার্চ ১৮, ২০১৭ শনিবার ১০:৩৯ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বাংলাদেশ এবং রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্পেন্ট ফুয়েল (ব্যবহৃত জ্বালানি) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন ও অনুস্বাক্ষর করেছে। গত ১৫ মার্চ ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ওই অনুস্বাক্ষর হয়। উভয়পক্ষ শিগগিরই আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত দলিল তৈরি করতে সম্মত হয়েছে বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থার রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। গত ১৪ ও ১৫ মার্চ রাশিয়ার এক প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকালে এ অগ্রগতি অর্জিত হয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম এর উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকোলাই স্পাস্কি এবং পরিবেশ, শিল্প ও পারমাণবিক তদারকি (সুপারভিশন) সেবা সংক্রান্ত রাশিয়ার ফেডারেল সংস্থার (রসটেকনাদজর) উপ-প্রধান আলেক্সি ফেরাপনটভ। বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর ইগনাতভ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা। বিস্তারিত আলোচনার পর উভয়পক্ষ একটি ঐক্যমতে পৌঁছতে সক্ষম হয়। অন্যান্য যে সব আলোচনা স্থান পায় তার মধ্যে রয়েছে প্রস্তুতি পর্বের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন বিষয়ক সিডিউল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল পর্বের কাজের শুরু। উভয়পক্ষের মতে আগামী দিনগুলোতে সর্বাধিক প্রণিধানযোগ্য কাজ হলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রকল্পের প্রথম পাওয়ার ইউনিটের  ‘ফার্স্ট কনক্রিট’সম্পাদন নিশ্চিত করা। দুই দেশের পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং প্রকল্পের মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজের মধ্যে সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে রাশিয়া প্রতিনিধিদল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন এবং একটি ওয়ার্কিং মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) চেয়ারম্যান নঈম চৌধুরী এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মনজুরুল হক এবং এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত শিডিউল কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রাথমিক একটি প্রতিবেদন আগামী জুন-জুলাই, ২০১৭ মস্কোতে অনুষ্ঠিতব্য যৌথ সমন্বয় পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে।  
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম ৩+ প্রজন্মের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে
মার্চ ০৫, ২০১৭ রবিবার ০৯:৫৫ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রাশিয়ার নভোভরোনেঝ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প-২ এর প্রথম ইউনিট গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। রাশিয়ার সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই ইউনিটটিতে স্থাপন করা হয়েছে ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক রি-অ্যাক্টর। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অনুরূপ ২টি ইউনিট স্থাপন করা হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের রূপপুরে যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে তাতে প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ৩+ প্রজন্মের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট থাকবে। প্রথমটি ২০২৩ এবং দ্বিতীয়টি ২০২৪ সালে চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোপূর্বে রাশিয়ার পরিবেশ, শিল্প ও পারমাণবিক তত্ত্বাবধান সেবাপ্রদানকারী ফেডারেল সংস্থা- রসটেকনাদজর প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত বিধিবিধান এবং এনার্জি দক্ষতা সংক্রান্ত ডকুমেন্ট অনুমোদন করেছে। উল্লিখিত ইউনিটটি ২০১৬ সালের ৫ আগস্ট রাশিয়ার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পূর্বে ইউনিটটি ১৫ দিন পরীক্ষামূলকভাবে ১০০% ক্যাপাসিটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ৩+ প্রজন্মের বিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশায় ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভিভিইআর রি-অ্যাক্টর এবং দ্রুত গতির টারবাইন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক অনন্য সমন্বয় সাধন করা হয়েছে- যা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি এজেন্সি (আইএইএ) কর্তৃক নির্ধারিত ফুকুসিমা পরবর্তী চাহিদার সঙ্গে সম্পপূর্ণভাবে সংগতিপূর্ণ। ৩+ প্রজন্মের রি-অ্যাক্টরের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে রি-অ্যাক্টর হলের জন্য ডাবল কন্টেইনমেন্ট শেল, রি-অ্যাক্টর ভেসেলের তলদেশে অবস্থতি কোর ক্যাচার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও জরুরি অবস্থায় ফিজিক্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থা, পাওয়ার সোর্স ছাড়া নিষ্ক্রিয় তাপ নিঃসরণ ব্যবস্থা।  
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কারিগরি সেবা দেবে ভারত’
জানুয়ারি ৩১, ২০১৭ মঙ্গলবার ১১:৩৩ এএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রূপপুরে ২,৪০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনায় কারিগরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সেবা নিতে ভারতের  দুইটি প্রতিষ্ঠানের সাথে পৃথক দুটি চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এই অনুমোদন পাওয়ায় রাশিয়ার পাশাপাশি ভারতও রূপপুরের নির্মাণের কাজে সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সর্ববৃহৎ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মাণ হয়েছে, তারই আদলে বাংলাদেশেরটি হচ্ছে। “অনুরূপ একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাবনার রূপপুরে হতে যাচ্ছে, এখানে কারিগরি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ নিতে ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।”বলেন শফিউল। ভারতের গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপের সঙ্গে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশনের মধ্যে একটি চুক্তি হবে। ভারতের দি অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ড এবং বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটির মধ্যে হবে সহযোগিতার আরেকটি চুক্তি। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ করছে রাশিয়ার  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। চুক্তি দুটির বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলো অনুস্বাক্ষর করেছে। চুক্তি দুটি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির (আইজিএ) আওতায় সই হবে, যা গত বছরের ৭ মার্চ মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক কর্মকর্তা জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি কমিশনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ চলছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভারতের পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রয়োজন। ভারতের পারমাণবিক শক্তি বিভাগ রূপপুরের মতো বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুরূপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ ও পরিচালনা করে আসছে। তাই এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শক সহায়তা গ্রহণ করলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা তদারকি সহজ হবে। তাই দুই দেশের পারমাণবিক কমিশনের মধ্যে একটি চুক্তি সই হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভারতের কাছে অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সহযোগিতার পাশাপাশি নকশা, অবকাঠামো এবং অপারেশন লাইসেন্স ইস্যুর জন্য দেশটির এই সংক্রান্ত রেগুলেটরি অথরিটির সহযোগিতা নেওয়া হবে। এ জন্য ভারতের অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ড এবং বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটির মধ্যে আরেকটি চুক্তি সই হবে।
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
‘পারমাণবিক বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে’
জানুয়ারি ২৬, ২০১৭ বৃহস্পতিবার ১০:৫১ পিএম - বাসস
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে মেধাবী, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মেধাবী নবীন জনবল আবশ্যক বলে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। বৃহস্পতিবার সংসদে জাসদের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফা তাহেরের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিউপি) নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়িারিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কাজে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতে ৫৫ জন কর্মকর্তার ‘ফাউন্ডেশন কোর্স অন নিউক্লিয়ার এনার্জি (এফসিএনই) বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্ত হয়েছে এবং চলতি মাসে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে রূপপুর প্রথম পর্যায় প্রকল্পে সংযুক্ত হয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ৮২ জন এবং আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে নিয়োগকৃত ৪০ জনসহ মোট ১২২ জন কর্মকর্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তুতিমূলক নির্মাণ কাজ সফলতার সাথে সমাপ্তি পর্যায়ে রয়েছে। মূল পর্যায়ের নির্মাণ কাজ চলতি বছরের মাঝামাঝি শুরু হবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের বিষয়টি বিবেচনায় এনে ‘আইএইএ’র সহায়তায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১৬ থেকে ১৯ সময় কালের জন্য ‘ইনটেগ্রেটেড ওয়ার্ক প্ল্যান (আইডব্লিউপি) প্রণয়ন করা হয়। স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্রটি সুষ্ঠু ও নিরাপদে পরিচালনার জন্য আনুমানিক ২ হাজার ৫৩৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ওই জনবলের ১ হাজার ৪২৪ জনকে ‘জেনারেল কন্ট্রাক্ট’-এর অধীনে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ থেকে ২ হাজার ২২ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ‘জব পজিশন’ এবং ‘জব ফাঙ্কশন’ এর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের নিরিখে বিভিন্ন মেয়াদে ঠিকাদারের সহায়তায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালে দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে রূপকল্প-২০২১ এবং সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের সমপর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সহায়তায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ২শ’ জনের অধিক বিজ্ঞানীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ৮৫০ জনকে রাশিয়ান ফেডারেশনে এবং ৫৭৪ জনকে রাশিয়ান ফেডারেশনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠার সহায়তায় বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বাকি ১ হাজার ১১১ জনকে দেশে দেশীয় প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
‘রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে দাতাদের কাছে ঋণ প্রস্তাব’
জানুয়ারি ০৯, ২০১৭ সোমবার ০৯:১৩ এএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ৭ হাজার ৫১৪ কোটি সংগ্রহে ভারতসহ বিভিন্ন দাতাদের কাছে ঋণ প্রস্তাব দেবে সরকার। গত মাসে বিদ্যুৎ বিভাগ ওই অর্থের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে বলে এক কর্মকর্তা জানান। একই সাথে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগকে এ ব্যাপারে একটি প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ প্রকল্পের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। আর বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) ১১৯ কোটি টাকা এবং তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বাকি ৭ হাজার ৫১৪ কোটি সংগ্রহে ভারতসহ বিভিন্ন দাতাদের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে রাশিয়ার ঋণ রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও রেকর্ড পরিমাণ সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল পর্যায়ের কাজে আরও একটি প্রকল্পে গত মাসে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মূল পর্যায়ের কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ লাখ টাকা। এ কাজ বাস্তবায়নে রাশিয়া ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা (১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার) ঋণ দিচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ইউনিট দুটির নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৫ সালের মধ্যে এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে যাবে।
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়ার সুযোগ দেবে রোসাটম
ডিসেম্বর ২২, ২০১৬ বৃহস্পতিবার ১০:১২ এএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় পরমাণু বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সম্প্রতি পিটার্সবার্গ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ইনস্টিটিউট এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে। রসাটমের প্রধান নির্বাহী আলেকসি লিখাচেভ সম্প্রতি মস্কোতে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় গবেষণা কেন্দ্র ‘কুরচাতভ ইনস্টিটিউট’ সফরকালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, পিটার্সবার্গ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ইনস্টিটিউট কুরচাতভ ইনস্টিটিউটি এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ইতোপূর্বে বিদেশি শিক্ষার্থীদের রুশ ভাষায় শিক্ষা প্রদান করা হতো। ইংরেজি ভাষায় পরমাণু বিজ্ঞান কোর্স পরিচালনার ফলে শিক্ষার সময়কাল অনেকাংশে কমে আসবে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়সমূহ বুঝতে সহজতর হবে। পরমাণু বিজ্ঞান বিষয় লেখাপড়ার জন্য এখন আর রুশ ভাষায় খুব বেশি দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। রোসাটমের এই উদ্যোগের ফলে যেসব দেশ পরমাণু শক্তি উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে সে সব দেশের শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে এবং ওই বিষয়ে রাশিয়ায় পড়াশুনার জন্য অনেক বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শিক্ষাঙ্গনে রুশ পরমাণু বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
নতুন দুই সদস্য পেল পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬ শনিবার ১০:৪০ এএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দুইটি সদস্য পদে মো. মোজাম্মেল হক ও কাজী ওবায়দুল আউয়ালকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই নিয়োগের মধ্যে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন হলো। গত ১৫ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের এই নিয়োগ দেয়া হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওবায়দুল আউয়ালকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। এই নিয়োগের শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন হওয়ার পর এই কর্তৃপক্ষ গঠন করে সরকার। আইন অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্যের সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠন হওয়ার কথা। কিন্তু এতোদিন একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন সদস্য ছিলেন। মূলত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সাল থেকে পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করার পর থেকে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।      
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
একনেকে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন
ডিসেম্বর ০৬, ২০১৬ মঙ্গলবার ১০:৪৮ পিএম - বাসস
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় থাকার সময় ছোট পরিসরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তখন এটি ছিল ২০০ মেগাওয়াটের। সেসময় বঙ্গবন্ধুর জামাতা বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়াকে প্রকল্প পরিচালক করা হয়।’ তিনি বলেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর প্রকল্পটি থমকে যায়। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার উদ্যোগ নেয়া হলেও আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন রাশিয়ার সহযোগিতায় এটি করা হচ্ছে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি তেলের পরিবর্তে এখন পরিবেশবান্ধব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দিকে যেতে হচ্ছে। বাংলাদেশে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ স্বল্পতা যেমন দূর হবে, তেমনি বিদ্যুৎতের উৎপাদন খরচও অনেক কমে আসবে। তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৬০ বছর নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এর পেছনে বার্ষিক খরচ হবে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব পরিমন্ডলে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবো বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড ব্যয়ের এই প্রকল্পে দুইটি ইউনিটের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পর্বের কাজ বাস্তবায়নে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে রাশিয়া ৪ শতাংশ সুদহারে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। ১০ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে বাকি ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে করবে। প্রকল্পটি ২০১৬ থেকে শুরু হয়ে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে গত ২৬ জুলাইয়ে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি ‘স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং, পরিচালন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে দুই হাজার ৫৩৫ জন কাজ করবে। এছাড়াও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটে বিভিন্ন পর্যায়ে ৩৬৯ জন লোক নিয়োজিত থাকবে। মঙ্গলবারে একনেক সভায় রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ এক লাখ ৫২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩৫ হাজার ৬৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৬৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে এক লাখ ১৬ হাজার ১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।  
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
ভারতের মুম্বাইয়ে রোসাটমের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন
অক্টোবর ২৩, ২০১৬ রবিবার ০৯:৪০ এএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
ভারতের মুম্বাইয়ে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন- রোসাটেমর একটি আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। এই আঞ্চলিক কার্যালয়টি থেকে ভারত, বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকায় রোসাটমের বিভিন্ন প্রকল্পগুলো সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করা হবে। গত ২০ অক্টোবর ভারতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সম্মেলন ও প্রদর্শনী চলাকালীন কার্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় বলে রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে রোসাটমের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট আলেক্সি পিমেনোভ জানান, বিশ্বব্যাপী রসাটমের কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংস্থাটির কার্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে পরবর্তী ১০ বছরে বৈদেশিক ক্রয়াদেশ পোর্টফলিও ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণের যে উচ্চাভিলাষী কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী রোসাটমের কার্যালয় নেটওয়ার্ক তা অর্জনে সহায়তা করবে। পিমেনোভ ঐতিহাসিকভাবে ভারতকে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান,  বর্তমানে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রুশ ডিজাইনকৃত দুটি ইউনিট কাজ করছে এবং আরো দুটি ইউনিটের নির্মাণ কাজ চলছে। ভারতে রোসাটমের কার্যালয় স্থাপনের ফলে দেশটিতে যে সব রুশ পারমাণবিক প্রকল্প রয়েছে সেগুলোর যথাযথ তত্ত্বাবধান ও উন্নয়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রোসাটমের আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে রোসাটমের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। মুম্বাইয়ের নতুন কার্যালয়টি দক্ষিণ এশিয়ায় রোসাটমের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করবে এবং সংস্থাটির পারমাণবিক শক্তিসহ অন্যান্য ব্যবসা সুযোগ চিহ্নিতকরণে সহায়ক হবে। বর্তমানে ল্যাটিন আমেরিকা, পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম ইউরোপ, মধ্য ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় রোসাটমের আঞ্চলিক অফিস চালু রয়েছে।
ক্যাটাগরি: নিউক্লিয়ার
    সাম্প্রতিক নিউক্লিয়ার এর খবর
একনেকে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন
ভারতের মুম্বাইয়ে রোসাটমের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন
ঝুঁকিপূর্ণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি বাতিলের দাবি
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়াকে সুদে-আসলে দিতে হবে ২০ বিলিয়ন ডলার
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার ঋণ চুক্তি সই
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণ চুক্তি ২৬ জুলাই
রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব নিউকিডস এ অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরীরা
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে বাড়তি এক বছর সময় লাগবে
বায়েরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট লাইসেন্স দিয়েছে মঙ্গলবার
পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট লাইসেন্স দেবে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন হচ্ছে
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে নতুন ঠিকাদারি কোম্পানি ইন্টার রাও
ভারত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা করতে চায়
বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী চীন
চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ৩+ প্রজন্মের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট
রাজধানীতে ‘শিশু ও পরমাণু’ উৎসব
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪৩৪ কোটি টাকা ফেরতের প্রস্তাব
ঢাবি নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর হস্তান্তর
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্ধারিত সময়ে শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা-দিল্লি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হচ্ছে
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমা পরীক্ষায় বাংলাদেশের উদ্বেগ
পরমাণু শক্তি কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান জুলকারনাইন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ টিআইবি’র
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মূল চুক্তি সই
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মূল চুক্তি সই শুক্রবার
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মূল চুক্তি এ মাসেই
১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ যথাসময়ে সম্পন্ন হবে: প্রধানমন্ত্রী
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী সুইডেন
    FOLLOW US ON FACEBOOK


Explore the energynewsbd.com
হোম
এনার্জি ওয়ার্ল্ড
মতামত
পরিবেশ
অন্যান্য
এনার্জি বিডি
গ্রীণ এনার্জি
সাক্ষাৎকার
বিজনেস
আর্কাইভ
About Us Contact Us Terms & Conditions Privacy Policy Advertisement Policy

   Editor & Publisher: Aminur Rahman
   Copyright @ 2015-2017 energynewsbd.com
   All Rights Reserved | Developed By: Jadukor IT