ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৭, কার্তিক ২, ১৪২৪ ০৩:২১ পিএম
  
হোম এনার্জি বিডি এনার্জি ওয়ার্ল্ড গ্রীণ এনার্জি মতামত সাক্ষাৎকার পরিবেশ বিজনেস অন্যান্য আর্কাইভ
সর্বশেষ >
English Version
   
কয়লা
‘দীঘিপাড়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে সম্ভাব্যতা জরিপের জন্য চুক্তি সই’
দিনাজপুরের দীঘিপাড়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে সম্ভাব্যতা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জার্মানী ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ একটি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি সই করেছে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড। মঙ্গলবার ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে জার্মানীর এমআইবিআরএজি কনসালটিং জিএমবিএইচ ও এফইউজিআরও কানসাল্ট জিএমবিএইচ এবং অস্ট্রেলিয়ার রঙ্গু পিনাকুক মিনারকো লিমিটেড এর সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের সাথে বড়পুকুরিয়া কোম্পানি ওই চুক্তি সই করে। এতে বড়পুকুরিয়ার পক্ষে কোম্পানি সচিব মো. আবুল কাসেম প্রাধানীয়া এবং এমআইবিআরএজি এর পক্ষে প্রজেক্ট ম্যানেজার আমীর খন্দকার, এফইউজিআরও এর পক্ষে প্রকল্প পরিচালক রফ বল্টস ও রঙ্গু পিনাকুক মিনারকো লিমিটেড এর পক্ষে সিমন আসকে ডুরান চুক্তিতে সই করেন। বড়পুকুরিয়া কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১ জুন ২০১৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত অর্থাৎ ২৭ মাস ধরে সমীক্ষা চলবে। এই সমীক্ষা  পরিচালনা করা হবে ২৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। সমীক্ষার আওতায় থাকছে-অনুসন্ধানমূলক খনন, থ্রিডি সিসমিক জরিপ, খনির নকশা, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা নির্ণয় এবং একটি পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন। এছাড়া ভূ-তাত্বিক এবং ভূ-জলীয় অবস্থা নিরূপণ, কয়লা উত্তোলন, প্রকৃত মজুদ, বাৎসরিক উৎপাদন হার এবং কয়লা খনির মেয়াদকাল নির্ণয় নিয়ে বিস্তারিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং প্রকল্প বাণ্যিজিকভাবে লাভজনক কিনা তা নির্ধারণ করতে এই সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা দীঘিপাড়া কয়লা খনির চার হাজার হেক্টর ভূমি বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানিকে হস্তান্তর করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের ২০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য কয়লা আমদানির পাশাপাশি দেশীয় খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশীয় কয়লা খনির উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অুনষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন,  জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়লা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে কয়লা উন্নত বাংলাদেশ গড়তে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এখানে ৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিকটন কয়লার মজুদ রয়েছে যা বাণ্যিজিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হলে এলাকার মানুষের আর্থসামজিকও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন আমরা করতে সচেষ্ট থাকবো। জ্বালানি নিরাপত্তা যত দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে, দেশের উন্নয়ন তত দ্রুত করা সম্ভব হবে। সম্মিলিত উদ্যোগে সমন্বিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ, অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত মিজ জুলিয়া নিবলেট এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বক্তব্য দেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির দক্ষিণাংশ এবং উত্তরাংশে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চুক্তি সই
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭ বৃহস্পতিবার ১০:৪৪ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন বাড়াতে খনির দক্ষিণাংশ এবং উত্তরাংশে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সই করেছে খনি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানীর পক্ষে সচিব মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া এবং জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের মাইনিং অ্যান্ড জিওলোজিক্যাল পরামর্শক জন টি বয়েড কোম্পানী এবং বাংলাদেশের মজুমদার এন্টারপ্রাইজ এর পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টি বয়েড টু চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুয়ায়ী, খনির বর্তমান কার্যক্রম চলমান রেখেই ওই সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাশেই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(বিপিডিবি)২৫০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। ওই কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা খনির ৮০ শতাংশ কয়লা ক্রয় করে। সম্প্রতি ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে বিপিডিবি ২৭৫ মেগাওয়াটের আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এতেও ওই খনি থেকে কয়লা নিয়ে ব্যবহার করা হবে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের একমাত্র কয়লাখনি। ২০০৫ সাল থেকে এই খনিতে উৎপাদন শুরু হয়। যার বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ টন। বর্তমানে কয়লাখনির কেন্দ্রীয় অংশ থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। এই খনির আরো দুইটি অংশ রয়েছে যার একটি দক্ষিণাংশ এবং অপরটি উত্তরাংশ। দক্ষিণ ও উত্তর উভয় অংশ অবিকৃত অবস্থায় আছে। এজন্য এই দুই অংশে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন। চুক্তি অনুযায়ী খনির উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ত্রিমাত্রিক ভূ-তাত্বিক জরিপ, অনুসন্ধানমূলক খনন, খনির নকশা ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা নির্ণয়, কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি, প্রকৃত মজুদ, কয়লা খনির মেয়াদকাল এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কিনা তা নির্ণয় করা হবে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, যদি এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফলাফলে কয়লাখনির প্রস্তাবিত উভয় অংশ থেকে কয়লা উত্তোলন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বলে বিবেচিত হয়, তবেই খনিতে খনন করা হবে। তিনি আরো বলেন, খনির মোট ৪.৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করবে জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠানটি। যা শেষ হবে ২০১৮ সালের জুন মাসে। এতে ব্যয় হবে ৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।            
ক্যাটাগরি: কয়লা
ফুলবাড়ীতে ২,০০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে চায় এশিয়া এনার্জি
নভেম্বর ২০, ২০১৬ রবিবার ০৭:৫৪ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
ফুলবাড়ী কয়লাখনি সংলগ্ন এলাকায় ২,০০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে এবং ওই খনির উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক সইয়ে সম্মত হয়েছে এশিয়া এনার্জি করপোরেশন বাংলাদেশ লিমিটেডের মূল প্রতিষ্ঠান জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি। গত ১১ নভেম্বর চায়না গেঝুবা গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিজিজিআইইসিএল) সাথে জিসিএম এ ব্যাপারে একমত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জিসিএম রিসোর্সেস। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ফুলবাড়ী কয়লাখনি সংলগ্ন এলাকায় ২,০০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে যৌথভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাবে এশিয়া এনার্জি। সিজিজিআইইসিএল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না গেঝুবা গ্রুপ করপোরেশনের (সিজিজিসি) একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডেরও অন্যতম সদস্য প্রতিষ্ঠান এটি। সিজিজিআইইসিএল এর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জিসিএমের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মাইকেল তাং এক বিবৃতিতে বলেন, এই অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ ও সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান চায়না গেঝুবা গ্রুপের সঙ্গে এ চুক্তি করতে পারায় আমরা আনন্দিত। পারস্পরিক লাভের জন্য একত্রে কাজ করতে আগ্রহী আমরা। জিসিএম রিসোর্সেস লন্ডন স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে এশিয়া এনার্জি করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মাধ্যমে।  
ক্যাটাগরি: কয়লা
দীঘিপাড়া কয়লাখনির উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ১৮টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহী
জুন ০৮, ২০১৬ বুধবার ০৯:৫৫ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
দিনাজপুরে দীঘিপাড়া কয়লাখনির উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ১৮টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহপত্র জমা দিয়েছে। গত ৪ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) দীঘিপাড়া কয়লা খনির কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ভূ-তাত্ত্বিক ও ভূ-কারিগরি জরিপ সম্পাদনের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে আগ্রহপত্র চেয়েছিলো। সম্প্রতি আগ্রহপত্র জমা দেওয়া কোম্পানীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আমেরিকান কোম্পানী গোল্ডার অ্যাসোসিয়েটেস, ভারতের টাটা গ্রুপ, যুক্তরাজ্যের এফডব্লিউএস কনসালটেন্ট লিমিটেড এবং চীনের সিসিপিজি। বিসিএমসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুজ্জামান বলেন, আগ্রহী ১৮টি কোম্পানীগুলোর মধ্য থেকে সাতটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে তাদেরকে রিকুয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (আরএফপি)পাঠানো হবে। আরএফপি পাঠানোর পর যে কোম্পানী পুনরায় প্রস্তাব পাঠাবে। তখন তাদের প্রস্তাবের আর্থিক ও কারিগরি দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি কোম্পানীকে নির্বাচিত করা হবে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জরিপ কাজ শুরু হবে। ২০১৯ সালের মার্চে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের ২০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য কয়লা আমদানির পাশাপাশি দেশীয় খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশীয় কয়লা খনির উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও হাকিমপুর উপজেলায় দীঘিপাড়া কয়লা খনিটি আবিষ্কার করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। এতে ১৫ কোটি কয়লা মজুদ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খনিটি উন্নয়নের দায়িত্ব পেয়েছে পেট্রোবাংলা আওতাধীন কোম্পানি বিসিএমসিএল। খনি উপত্যকার ২৪ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে কয়লার মজুদ নির্ণয় ও খনির কেন্দ্রীয় ৬ বর্গ কিলোমিটার থেকে বছরে ৩০ লাখ টন খনি উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা খনির ৪ হাজার হেক্টর ভূমি বিসিএমসিএলকে হস্তান্তর করেছে।    
ক্যাটাগরি: কয়লা
জামালগঞ্জ কয়লাখনিতে উত্তোলনযোগ্য মিথেন গ্যাস নেই
এপ্রিল ১৯, ২০১৬ মঙ্গলবার ১১:৩০ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় ও বেশি গভীর একটি কয়লা খনি থেকে মিথেন গ্যাস উত্তোলনের জন্য দুইটি কূপ করা হলেও উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া যায়নি। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাখনি থেকে ‘কোল বেড মিথেন’ (সিবিএম) পদ্ধতিতে মিথেন গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এ বছরের ৫ জানুয়ারি তিনটি কূপ খনন শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, “এ খনির গভীরতা এতটাই বেশি যে খনি থেকে আণ্ডারগ্রাউন্ড বা উম্মুক্ত পদ্ধতিতেও কয়লা উত্তোলন সম্ভব না।” এ কারণে আদৌ এই খনি থেকে আর কয়লা উত্তোলন সম্ভব নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর অপর এক কর্মকর্তা বলেন, এ খনি থেকে কয়লা পেতে হলে ভবিষ্যতে আবিষ্কৃত নতুন কোনো পদ্ধতি অথবা আণ্ডারগ্রাউন্ড কোল গ্যাসিফিকেশন (ইউসিজি) পদ্ধতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার বলে মনে করেন তিনি। কয়লা স্তরের মধ্যে থাকা মিথেন গ্যাসকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আহরণ করাকেই সিবিএম পদ্ধতি বলে। কয়লা ক্ষেত্রটিতে তিনটি কোর কূপ খনন করে কয়লার নমুনা সংগ্রহ, কয়লার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি এবং পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য ফিজিবিলিটি ষ্টাডি সম্পন্ন করতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাইনিং অ্যাসোসিয়েটস প্রাইভেট লিমিটেড। এতে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত বছর ২১ জুন কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। তবে খনিটিতে দুইটি অনুসন্ধান কূপ খননের পর এর ফল বিশ্লেষণ করে সেখানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস নেই বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন এ খনন কাজের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের অংশ হিসেবে সেখানে আরেকটি কূপ খননের কাজ চলছে বলে জানান এক কর্মকর্তা। এ প্রকল্পের মনিটরিং কনসালট্যান্ট মতুর্জা আহমেদ ফারুক  এনার্জিনিউজবিডি ডটকমকে বলেন, “মিথেন গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রথম কূপটি ১,০৮০ মিটার পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় কূপটি ১,১০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়।” তবে খনিটিতে গ্যাসের সম্ভাব্য পরিমাণ খতিয়ে দেখে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস নেই বলে জানান তিনি। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের এক জরিপে জামালগঞ্জে কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা এ খনিতে কয়লা রয়েছে মাটির ৬০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ মিটার গভীরে। মজুদের সম্ভাব্য পরিমাণ ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন টন। দেশের পাঁচ কয়লাখনির মধ্যে বর্তমানে একমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।        
ক্যাটাগরি: কয়লা
গ্যাসের মত কয়লা খাতেও পিএসসি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে সরকার
এপ্রিল ১০, ২০১৬ রবিবার ১২:৫৯ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
গ্যাস খাতের মত কয়লা খাতেও উৎপাদন বন্টন চুক্তি (পিএসসি) নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে হাইড্রোকার্বন ইউনিটকে একটি খসড়া প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়াত্ব সংস্থা হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, “কিভাবে কয়লাখাতে পিএসসি চালু করা যেতে পারে সে বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা একটি কর্মশালার আয়োজন করেছি। অতিরিক্ত জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বারসহ অনেকে এ বিষয়ে মত দিয়েছেন।” ওই সেমিনারে অংশ নেওয়া একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, খনিজ সম্পদ বিষয়ে পেট্রোবাংলার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে উৎপাদন বন্টন চুক্তির মাধ্যমে কয়লা অনুসন্ধান ও উন্নয়ন করা যেতে পারে। উৎপাদিত কয়লা গ্রাহক  (পেট্রোবাংলা বা সরকারি সংস্থা) এবং বিনিয়োগকারী বা ঠিকাদারের মধ্যে বন্টন হবে। ঠিকাদারের বিনিয়োগের অর্থ কয়লার মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবে গ্রাহক। গ্রাহক তার নিজের অংশীদারিত্বে থাকা কয়লা বিনামূল্যে পাবে আর ঠিকাদারের অংশীদারিত্বে থাকা কয়লা অর্থের বিনিময়ে কিনবে। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, পিএসসি প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার বা বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি বেশী থাকে। গ্রাহক এক্ষেত্রে কিছু শর্তসহ বিদেশী বিনিয়োগ গ্রহণের সুযোগ পায়। তাই অনুসন্ধানকালীন বিনিয়োগের জন্য কয়লা খননের সময় বিনিয়োগকারীর অনুকূলে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। দেশের বিদ্যমান অবস্থায় কয়লা খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আনার জন্য মডেল কয়লা পিএসসি তৈরি করা সময়োপযোগী  সিদ্ধান্ত হবে। আর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী বা ঠিকাদার নির্বাচন করতে হবে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, যদি নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে কয়লা অনুসন্ধান ও খনন করা যেত তবে সবচেয়ে ভালো হতো। কিন্তু আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই সেটি সম্ভব নয়। পিএসসি হলো সরকার এবং বিনিয়োগকারী পেট্রোলিয়াম কোম্পানির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি। এর মাধ্যমে অনুসন্ধানের খরচ কোম্পানি তার উৎপাদনের অংশীদারিত্ব থেকে তুলে নেয়। উৎপাদনের বাকি অংশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে বন্টন করা হয়। পেট্রোবাংলা এর কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গ্যাস, তেল, কয়লা ও অন্যান্য খনিজ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন করছে। এক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সাথে পিএসসির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করে। ২০০৬ সালে দীঘিপাড়া কয়লা খনি উন্নয়নের জন্য পেট্রোবাংলাকে লাইসেন্স দেয়া হয়। কয়লা খনন একটি উচ্চঝুঁকির মূলধন নির্ভর শিল্প। এই ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকার সরকারি কোম্পানিকে আয়ব্যয় সংক্রান্ত সহযোগিতা দেয়। কিন্তু বহুপাক্ষিক তহবিল সংস্থা থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজে বের করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ম তামিম বলেন, কয়লা খাতে পিএসসি খুবই বিরল। তবে আমরা এ চেষ্টা করতে পারি। এক্ষেত্রে বাংলাদশের এবং নির্বাচিত কোম্পানির অংশীদারিত্ব যৌক্তিক হতে হবে। রাজস্ব ও কর নির্ধারণ যথাযথভাবে করতে হবে।  
ক্যাটাগরি: কয়লা
দীঘিপাড়া কয়লা খনি উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে
এপ্রিল ০৪, ২০১৬ সোমবার ১০:২৪ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
দিনাজপুরে দীঘিপাড়া কয়লাখনির উন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে আগ্রহপত্র চেয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল)। সোমবার বিসিএমসিএল’র মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও পরিবেশ) এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, দীঘিপাড়া কয়লা খনির কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ভূ-তাত্ত্বিক ও ভূ-কারিগরি জরিপ সম্পাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোম্পানির আগ্রহপত্র গ্রহণ করা হবে ওই কোম্পানিকেই এ জরিপ পরিচালনা করতে হবে। আগামী ১৫ মে এর মধ্যে আগ্রহপত্র জমা দিতে হবে। আগ্রহী কোম্পানীগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে তাদেরকে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হবে। প্রস্তাব পাওয়ার পর আর্থিক ও কারিগরি দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি কোম্পানীকে নির্বাচিত করা হবে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জরিপ কাজ শুরু হবে। ২০১৯ সালের মার্চে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হবে। ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও হাকিমপুর উপজেলায় দীঘিপাড়া কয়লা খনিটি আবিষ্কার করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। এতে ১৫ কোটি কয়লা মজুদ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খনিটি উন্নয়নের দায়িত্ব পেয়েছে পেট্রোবাংলা আওতাধীন কোম্পানি বিসিএমসিএল। খনি উপত্যকার ২৪ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে কয়লার মজুদ নির্ণয় ও খনির কেন্দ্রীয় ৬ বর্গ কিলোমিটার থেকে বছরে ৩০ লাখ টন খনি উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা খনির ৪ হাজার হেক্টর ভূমি বিসিএমসিএলকে হস্তান্তর করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের ২০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য কয়লা আমদানির পাশাপাশি দেশীয় খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশীয় কয়লা খনির উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্যাটাগরি: কয়লা
রপ্তানীর সুযোগ না রেখে জাতীয় কয়লানীতির খসড়া চূড়ান্ত হচ্ছে
এপ্রিল ০৩, ২০১৬ রবিবার ১০:২৮ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
কয়লা রপ্তানীর সুযোগ না রেখে জাতীয় কয়লানীতির খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। তবে যৌথ উদ্যোগে কোন বিদেশি জাতীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান কয়লা অনুসন্ধান ও উন্নয়নে আগ্রহী হলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সইয়ের সুযোগ থাকছে এ নীতিমালায়। গত ২১ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব মো. মোকাম্মেল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রে হাইড্রোকার্বন ইউনিটকে (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রতিষ্ঠান) বিষয়টি চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে পেট্রোবাংলা, জিওলোজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (জিএসবি) সহ এ খাত সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি খসড়াটির কোনো ধারায় সংযোজন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয় তা দ্রুত সম্পন্ন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে জিএসবি তাদের মতামত জমা দিয়েছে হাইড্রোকার্বন ইউনিটে। আর পেট্রোবাংলাও দ্রুত জমা দেবে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ২৭ টি ধারা সম্বলিত ওই খসড়া নীতিতে বলা হয়েছে, দেশে কয়লা নীতি প্রণয়নের লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে বাণিজ্যিক জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য অন্যান্য জ্বালানী উৎসের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ শক্তির বেস লোড  উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি কয়লা থেকে নিশ্চিত করা। এতে আরো বলা হয়, উত্তরাঞ্চলে ইতিমধ্যে আবিষ্কৃত প্রধান কয়লাক্ষেত্রগুলো উন্নয়ন ও নতুন কয়লাক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ওই অঞ্চলকে বাণিজ্যিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। কয়লা নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে কয়লা চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করা। আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সংগতি রেখে ভবিষ্যৎ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের প্রয়োজনীয় জ্বালানি হিসেবে কয়লা সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা। দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানী নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও কয়লার দীর্ঘ মেয়াদী চাহিদা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে জনস্বার্থে প্রয়োজন না হলে কয়লা রপ্তানি করা যাবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।  দি মাইনস্ এ্যাক্ট, ১৯২৩ এর বিধি মোতাবেক প্রধান খনি পরিদর্শক নিয়োগ এবং এর কার্যালয় স্থাপন করা হবে। প্রধান খনি পরিদর্শক, দি মাইনস্ এ্যাক্ট এর আওতায় প্রণীতব্য বিধিমালার মাধ্যমে খনি এবং খনিতে খনি কর্মীদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করবে। আবিস্কৃত কয়লা ক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য প্রচলিত সরকারী বিধি-বিধান অনুসরণ করে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে কয়লা অনুসন্ধান, উন্নয়ন, উৎপাদন এবং ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। যৌথ উদ্যোগে কোন বিদেশী জাতীয় সরকারী প্রতিষ্ঠান কয়লা অনুসন্ধান ও উন্নয়নে আগ্রহী হলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করা যাবে। এ ব্যাপারে জিএসবি’র মহাপরিচালক মো. নেহালউদ্দিন বলেন, “আমরা মতামত দিয়েছি। খসড়া যে নীতিমালা তৈরি হয়েছে তা সরকার চাইলে দেশের স্বার্থের দ্রুত চূড়ান্ত করতে পারে।” হাইড্রোকার্বন ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন,“আমরা সবার মতামত নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালাটি জ্বালানি বিভাগে জমা দিতে সক্ষম হবো।” বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনকে প্রধান করে ২০১০ সালের এপ্রিলে কয়লানীতি প্রণয়নে একটি কমিটি গঠন করে। পরে এ বিষয়ে ২০১১ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০১২ সালের অক্টোবরে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে। দেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত পাঁচটি কয়লা খনিতে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদ আছে বলে ধারণা করা হয়। এ পরিমাণ কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমান।
ক্যাটাগরি: কয়লা
কয়লা উত্তোলনে কারিগরি সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে পোল্যান্ড
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৬ মঙ্গলবার ১০:১০ পিএম - বাসস
বাংলাদেশে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে কয়লা উত্তোলনে কারিগরি সহায়তার এবং উন্নতমানের আপেল রপ্তানীতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পোল্যান্ড। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সাথে বাংলাদেশ সফররত পোল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত উপমন্ত্রী রাডোস্লো দোমাগাল্সকি লেবেজকির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠককালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় শিল্প মন্ত্রণায়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, প্রতিনিধিদলের সদস্য ও বাংলাদেশে পোল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত টমাজ লুকাজ্জুক, ভারতের নয়াদিল্লীস্থ পোল্যান্ড দূতাবাসের বাণিজ্য শাখার প্রধান বিগনিউ মা ঝিরাজ, পোল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের কাউন্সিলর জেনারেল লুসিয়ানা জারেমজুক, খনিজ শিল্প উদ্যোক্তা পিয়ট জোজেফ ব্রন্সেলসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দু’দেশের শিল্পখাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, পোল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বাংলাদেশে সরাসরি পোল্যান্ডের দূতাবাস না থাকার পরও বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ অর্ধ বিলিয়ন ডলার। দু’দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক লিংকেজ জোরদার এবং বাণিজ্য প্রতিনিধিদলে সফর বিনিময়ের মাধ্যমে এর পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, পোল্যান্ডের সাথে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে সেদেশের রাজধানী ওয়ারসতে বাংলাদেশের দূতাবাস পুনরায় চালু করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশেও পোল্যান্ডের দূতাবাস পুনরায় চালুর জন্য সফররত উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা দিচ্ছে। তিনি বলেন, শিল্পখাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ভারত, জাপান, কোরিয়া, চীনসহ কয়েকটি দেশের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। পোল্যান্ডের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসলে তাদের জন্যও একই ধরণের সুবিধা দেয়া হবে। তিনি বাংলাদেশের পাট ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, তৈরি পোশাক, চা, প্লাস্টিক, বাইসাইকেলসহ উদীয়মান শিল্পখাতগুলোতে পোল্যান্ডের উদ্যোক্তাদের সরাসরি কিংবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বিনিয়োগে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। পোল্যান্ডের উপমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে পোল্যান্ড ভারতে তাদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশেও পোল্যান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
ক্যাটাগরি: কয়লা
গ্যাসের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জামালগঞ্জ কয়লা খনিতে কূপ খনন শুরু
জানুয়ারি ০৫, ২০১৬ মঙ্গলবার ১১:২৫ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
জামালগঞ্জ কয়লাখনি থেকে ‘কোল বেড মিথেন’ (সিবিএম) পদ্ধতিতে মিথেন গ্যাস উত্তোলনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মঙ্গলবার থেকে কূপ খনন শুরু হয়েছে। জয়পুরহাটের বড় মাঝিপাড়া গ্রামে এ কুপ খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ । এ খননের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কয়লা খনিতে মিথেন গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ  শুরু হলো। কয়লা স্তরের মধ্যে থাকা মিথেন গ্যাসকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আহরণ করাকেই সিবিএম পদ্ধতি বলে। কয়লা ক্ষেত্রটিতে তিনটি কোর কূপ খনন করে কয়লার নমুনা সংগ্রহ, কয়লার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি এবং পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য ফিজিবিলিটি ষ্টাডি সম্পন্ন করতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাইনিং অ্যাসোসিয়েটস প্রাইভেট লিমিটেড। এতে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত বছর ২১ জুন কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। প্রকল্পের মেয়াদ এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। প্রতিমন্ত্রী নসরুল বলেন, জামালগঞ্জ কয়লা খনিতে কী পরিমাণ গ্যাস আছে এবং এর কতটা উত্তোলনযোগ্য তা খতিয়ে দেখতে বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে বিদেশি  সংস্থাটি যদি ভাল ফলাফল আনতে পারে তাহলে আর জয়পুরহাটবাসীকে বাহিরে তাকাতে হবে না, ঢাকাবাসী তাকিয়ে থাকবে জয়পুরহাটের দিকে। এই খনিতে যদি বেশি গ্যাস পাওয়া যায় তাহলে এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কারখানা নির্মাণ করা হবে। হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান হবে। দীর্ঘ ৫০ বছর পর কয়লা খনিতে কাজ হচ্ছে এমন খবরে এলাকার মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। উৎসুক হয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে বড় মাঝিপাড়ার কূপ ক্ষেত্রের আশপাশে। জাতিসংঘ সমর্থিত কয়লা অনুসন্ধান কর্মসূচীর আওতায় ১৯৬২ সালে আবিস্কৃত জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাখনি সবচেয়ে বড় এবং এর অবস্থানও সবচেয়ে গভীরে। এতে কয়লার পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টন।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমদ, প্রকল্প পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান এবং বিদেশি পরামর্শক সুধাংশু অধিকারী প্রমূখ।
ক্যাটাগরি: কয়লা
জামালগঞ্জ কয়লাখনি থেকে গ্যাস উত্তোলনে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার
জানুয়ারি ০৪, ২০১৬ সোমবার ১১:২৩ পিএম - স্টাফ করেসপনডেন্ট, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
জামালগঞ্জ কয়লাখনি থেকে ‘কোল বেড মিথেন’ (সিবিএম) পদ্ধতিতে মিথেন গ্যাস উত্তোলনের জন্য মঙ্গলবার থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হচ্ছে। পেট্রোবাংলার একজন পরিচালক জানান, প্রকল্প এলাকায় তিনটি কূপ খনন করা হবে। এ কাজের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাইনিং অ্যাসোসিয়েটস প্রাইভেট লিমিটেড। এতে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত বছর ২১ জুন কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। আগামী জুনের মধ্যে কূপ খনন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হবে। প্রতিটি কূপের গভীরতা হবে এক হাজার ১০০ মিটার। এর মাধ্যমে কয়লার নমুনা সংগ্রহ, কয়লা স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি নির্ণয় করা হবে। নমুনা পরীক্ষা করা হবে ভারতে। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাখনির মাটির অনেক গভীরে কয়লা আছে। উন্মুক্ত বা ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে এ কয়লা উত্তোলন সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা সিবিএম পদ্ধতিতে এ খনি থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরামর্শ দেন। কয়লা স্তরের মধ্যে থাকা মিথেন গ্যাসকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আহরণ করাকেই সিবিএম পদ্ধতি বলে। গত বছরের ১৪ মে জ্বালানি বিভাগ প্রথমবারের মতো এ পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পেট্রোবাংলার প্রস্তাব অনুমোদন করে। পেট্রোবাংলা নিজস্ব অর্থায়নে এ কাজটি করছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের এক জরিপে জামালগঞ্জে কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা এ খনিতে কয়লা রয়েছে মাটির ৬৪০ থেকে ১ হাজার ১৫৮ মিটার গভীরে। মজুদের সম্ভাব্য পরিমাণ ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন টন। দেশের পাঁচ কয়লাখনির মধ্যে বর্তমানে একমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।
ক্যাটাগরি: কয়লা
ফুলবাড়ি কয়লাক্ষেত্রে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত এশিয়া এনার্জির
ডিসেম্বর ২১, ২০১৫ সোমবার ১১:৪১ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
ফুলবাড়ি কয়লাক্ষেত্রের অনুসন্ধান লাইসেন্স ও মাইনিং লীজধারী এশিয়া এনার্জির প্যারেন্ট কোম্পানি জিসিএম রিসোর্সেস কয়লাখনি উন্নয়নে সরকার ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। গত ১৮ ডিসেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিত কোম্পানীর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সভায় জিসিএম রিসোর্সেস  এর চেয়ারম্যান দাতো মাইকেল ট্যাং এ অঙ্গীকারের কথা জানান। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ান সফল ব্যবসায়ী মাইকেল ট্যাং বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কোম্পানির  চেয়ারম্যান হিসাবে পুন:নির্বাচিত হয়েছেন বলে কোম্পানীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার জানানো হয়। দাতো মাইকেল ট্যাংবলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার কয়লা থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উদ্যোগ নিয়েছে জিসিএম এর সাবসিডিয়ারী কোম্পানি এশিয়া এনার্জি‌’র মাধ্যমে এর অংশ হতে চায়। বৃহদাকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি সিদ্ধান্ত, গতসপ্তাহে প্রকাশিত জাতিসংঘ মানব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০১৫ এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম সত্ত্বেও এ রিপোর্টে বিশ্বের ১৮৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪২তম। মানব উন্নয়ন সূচকে জ্বালানি ব্যবহারের গভীর যোগসূত্র থাকায়  মধ্যম আয়ের দেশ বা এর উর্দ্ধে ওঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে যা শিল্পবিপ্লব তরান্বিত করে বৃহত্তর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। জিসিএম চেয়ারম্যান এশীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নেবর্তমান ও ভবিষ্যতেকয়লার জোরালো ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উদাহরণসহ বলেন, বিশ্বের ২৭টি দেশে চীনের সরকারি সংস্থাগুলো ৯২টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উন্নয়ন করছে যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১০৭ গিগাওয়াট। এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থসহায়তা করছে চীনা এক্সিম ব্যাংক। দক্ষিণ কোরিয়া ও  জাপান তাদের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে আর ভারত ঘোষণা করেছে দেশটি ২০২০ সালের মধ্যে কয়লা উৎপাদন দ্বিগুণ করতে মাসে একটি করে কয়লাখনি চালু করার পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া মিলে বিশ্বের নতুন আহরিত কয়লার ৭১ শতাংশ ব্যবহার করছে এবং পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো দেশ শীঘ্রই এশীয় প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলে হার ৮০ শতাংশে নিয়ে যাবে। ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র বিপর্যয়ে পারমাণিক কার্যক্রম হ্রাসের প্রেক্ষিতে জাপান আগামী একদশকে ৪১টি নতুন কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক জ্বালানি হওয়ার কারণে দেশে দেশে এসব কার্যক্রম চলছে আর উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। জিসিএম এর প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি গ্যারি লাই এজিএম যোগদানশেষে রবিবার লন্ডন থেকে ঢাকা ফিরে বলেছেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হলেও কার্বন ডাই অক্সাইডসহ গ্রীণ হাউস গ্যাসের উল্লেখযোগ্য নির্গমণকারী নয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু কার্বন ডাই্ অক্সাইড নি:সরণের মাত্রাঅঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এমনকি ফূলবাড়ি প্রকল্পে ৪ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম কম কার্বন নির্গমণকারী দেশ হিসাবে থাকবে।
ক্যাটাগরি: কয়লা
ভারত থেকে কয়লা আমদানি নিয়ে সংকট কাটছে না
নভেম্বর ২৭, ২০১৫ শুক্রবার ০২:৫৪ পিএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
ভারতের উচ্চ আদালতেরনির্দেশে বাংলাদেশে কয়লা আমদানি শুরু হলেও সড়ক দুরবস্থার কারণে তা বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে আমদানি নিয়ে সংকট কাটেনি এখনো। এদিকে ভারতের উচ্চ আদালতের দেশটির কয়লা উত্তোলন নিয়ে চলমান রিটের রায় দেয়ার কথা ৩০ নভেম্বর। রায়ে কয়লা উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আবারো আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা আমদানিকারকদের। সাধারণত বছরের এ সময়ে দৈনিক গড়ে চার হাজার টন কয়লা আমদানি হলেও বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০০-৫০০ টনে। এ কারণে তামাবিলসহ কয়লা আমদানিতে ব্যবহৃত সিলেটের শুল্ক স্টেশনগুলোর সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। বর্তমানে উত্তোলিত মজুদ কয়লা থেকেই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে রফতানি করছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন আমদানিকারক। তারা আরো জানান, বর্তমানে দেশটিতে রফতানির জন্য উত্তোলিত কয়লার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। ৩০ নভেম্বরের রায়ে ভারতের আদালত উত্তোলনের অনুমতি না দিলে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি আবারো বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে কয়লা আমদানি কমায় আবারো বেড়ে গেছে পণ্যটির দাম। বর্তমানে প্রতি টন কয়লা ৯ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত মাসেও সিলেটে পণ্যটি বিক্রি হয়েছে প্রতি টন ৬-৭ হাজার টাকায়। তবে দাম বাড়লেও এ মুহূর্তে সংকট নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রচুর কয়লা আমদানি হওয়ায় এ বছর জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা নেই। সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ-সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের উচ্চ আদালতের নির্দেশে দেশটি থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ ছিল প্রায় দেড় বছর। গত ৩১ জুলাই ভারতের গ্রিন ট্রাইব্যুনাল জানান, মেঘালয়ে উত্তোলিত কয়লা রফতানিতে উচ্চ আদালতের কোনো আপত্তি নেই। তবে ওই সময় পণ্যটির রফতানিতে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বাড়িয়ে দেয় মেঘালয় সরকার। এতে আদালতের নির্দেশনা পেলেও জ্বালানি পণ্যটির আমদানিতে সৃষ্টি হয় নতুন জটিলতা। এর পর গত ৮ অক্টোবর থেকে সিলেটের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হয়। তবে আমদানি শুরু হলেও সড়কের দুরবস্থা ও মজুদস্বল্পতার কারণে চাহিদামাফিক আমদানি করা যাচ্ছে না পণ্যটি। সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি ফালাউদ্দিন আলী আহমদ বলেন, আমাদের শুল্ক স্টেশন এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষত তামাবিল দিয়ে ভারতীয় কোনো গাড়িই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায় না। গত কয়েক দিনে কয়েকটি ট্রাক বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে বিকলও হয়ে পড়ে। সড়কের এ দুরবস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমদানিতে। তিনি বলেন, আগে প্রতি দিন ৪০০-৫০০ কয়লাবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করত। এখন ৩০০-৪০০ ট্রাকও আসে না। সড়ক বেহালের পাশাপাশি ভারতে মজুদ প্রায় ফুরিয়ে আসাটা পণ্যটির আমদানি কমে যাওয়ার কারণ। আমরা বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। কয়লা আমদানিকারক সমিতির সাবেক সভাপতি এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, ৩০ নভেম্বর ভারতের উচ্চ আদালত কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে রায় দেবেন। রায় উত্তোলনের পক্ষে গেলে আমদানি অনেক বেড়ে যাবে। আর বিপক্ষে গেলে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি আবারো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে তামাবিল শুল্ক স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক আবুল হোসেন বলেন, সড়কের অবস্থা কিছুটা খারাপ। বর্তমানে সড়ক সংস্কারসহ তামাবিলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে। শুল্ক স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে উন্নীত করার কাজ চলছে বর্তমানে। কাজটি শেষ হলে ব্যবসায়ীদেরই উপকার হবে সবচেয়ে বেশি।
ক্যাটাগরি: কয়লা
১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা ইন্দোনেশিয়া থেকে আনার উদ্যোগ
নভেম্বর ২৩, ২০১৫ সোমবার ১২:৩২ এএম - নিউজ ডেস্ক, এনার্জিনিউজবিডি ডটকম
পটুয়াখালীর পায়রায় নির্মিতব্য ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ ধরা হয়েছে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। এই দুই কোম্পানি মিলে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি গঠন করছে। প্রকল্পে বাংলাদেশ এবং চীন যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে ৩০ শতাংশ অর্থ। অবশিষ্ট অর্থ ঋণ নেওয়া হবে। দেশে আমদানিনির্ভর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য এখনো কয়লার উৎস চূড়ান্ত করা হয়নি। সিএমসি দেশের একমাত্র তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র বড়পুকুরিয়া ২৫০ মেগাওয়াট নির্মাণ করেছে। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার এ কেন্দ্রটি সাব -ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির হলেও পটুয়াখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল  প্রযুক্তিতে। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের তৃতীয় সমুন্দ্রবন্দর পায়রার খুব কাছে আন্ধারমানিক-রামনাবাদ নদীর মোহনায় স্থাপিত হবে। এখানে গ্রীষ্ম মৌসুমে ৬ মিটার এবং বর্ষায় ১৩ মিটার ড্রাফট পাওয়া যাবে। গভীর সমুদ্র থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরত্বে বার্জে কয়লা পরিবহন করা হবে।
ক্যাটাগরি: কয়লা
    সাম্প্রতিক কয়লা এর খবর
    FOLLOW US ON FACEBOOK


Explore the energynewsbd.com
হোম
এনার্জি ওয়ার্ল্ড
মতামত
পরিবেশ
অন্যান্য
এনার্জি বিডি
গ্রীণ এনার্জি
সাক্ষাৎকার
বিজনেস
আর্কাইভ
About Us Contact Us Terms & Conditions Privacy Policy Advertisement Policy

   Editor & Publisher: Aminur Rahman
   Copyright @ 2015-2017 energynewsbd.com
   All Rights Reserved | Developed By: Jadukor IT